দেশ বাণী ডেস্ক

ডিমলায় ধর্ষণের শিকার বিধবার আত্নহত্যা নাকি হত্যা?

Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নীলফামারীর ডিমলায় ইউপি সদস্য ও তার সহচর কর্তৃক ধর্ষনের শিকার হয়ে জাহানারা বেগম (৪২)নামের এক বিধবা নারীর আত্মহত্যা করার অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে এলাকার কিছু প্রভাবশালী চেষ্টা করে। তবে এলাকাবাসী ৯৯৯ (পুলিশের জরুরী সেবা) কল সেন্টারে মোবাইল করে অভিযোগ করলে শনিবার(১৯অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার ঝুনাগাছ চাঁপানী ইউনিয়নের পূর্বছাতুনামা গ্রামের নিহতের বাড়ি থেকে ওই বিধবার মরদেহ উদ্ধার করে ডিমলা থানা পুলিশ।

এরইমধ্যে গা-ঢাকা দিয়েছে ধর্ষক উক্ত ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম(৪৮)ও তার সহচর মান্নান( ৪০)।প্রকাশ থাকে যে সহচর মান্নান মরহুমার ফুফু শাশুড়ির ছেলে।

এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, উক্ত গ্রামের আব্দুল জলিল দেড় বছর আগে শারীরিক অসুস্থতায় মারা যায়।তাঁর মৃত্যুর পর তার বিধবা স্ত্রী জাহানারা বেগম এক ছেলে নিয়ে ওই চর গ্রামে বসবাস করে আসছিলেন।

ছেলে কাজের সন্ধানে বাহিরে যাওয়ায় বাড়িতে একাই ছিলেন ওই বিধবা।গত বুধবার(১৬অক্টোবর) রাতে উক্ত ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম, বিধবার নিকটাত্মীয় মান্নান মিলে বিধবা ভাতা কার্ড করে দেবার জন্য ওই বিধবার বাড়িতে যায়।একাকিত্বের সুযোগ নিয়ে দুজনে ওই বিধবা মহিলা কে জোড়পূর্বক ধর্ষন করতে থাকলে ওই বিধবার আর্তচিৎকারে লোকজন ছুটে এসে ইউপি সদস্য ও মান্নানকে হাতে নাতে আটক করেন।এরপর ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম ও মান্নানের পক্ষ নিয়ে কিছু প্রভাবশালী তাদের দুজনকে নিয়ে সটকে পড়েন।

ওই বিধবা ঘটনার পর থানায় অভিযোগ করতে চাইলে তাতেও বাধা দেয় স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর।

এলাকাবাসী অনেকের ধারনা নিহত বিধবা আত্মহত্যার দিনেও ধর্ষনের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হতে হয়েছেন কিংবা পূর্বে ধর্ষিত হবার ঘটনায় নিরুপায় হয়ে বিচার না পেয়ে আত্মহত্যা করেছেন নতুবা তাকে হত্যা করে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দিতেই তার মরদেহ হত্যাকারীরা ঝুলিয়েও রাখতে পারেন?

ঘটনার দিন শনিবার(১৯অক্টোবর) দুপুরের দিকে গ্রামের লোকজন ওই বিধবার কোনো সারা শব্দ না পেয়ে খবর নিতে তার বাড়িতে গিয়ে দেখতে পান বিধবার মৃত দেহ গলায় ফাস লাগানো অবস্থায় ঘরে ঝুলছে।

স্বামীর বাড়িতে থাকা মরহুমার দুই বোন নাজমা ও নাসিমা ঘটনা জানতে পেরে ছুটে আসেন। পরিস্থিতি দেখে ওই এলাকাবাসীর সহায়তায় পুলিশের জরুরী সেবা ৯৯৯ কল সেন্টারে মোবাইল করে বিস্তারিত জানালে পরে সেখানে ডিমলা থানা পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন।

লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিমলা থানার এসআই আতিকুর রহমান জানান,থানার ওসি ও তিনি সহ সঙ্গীয়ফোর্স লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছেন।

রোববার(২০অক্টোবর)নীলফামারীতে মরদেহের ময়না তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উৎঘাটন হবে।

এ ঘটনায় এখন (শনিবার রাত ১২টা)পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। তবে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।

Leave a Reply