দেশ বাণী ডেস্ক

ডিমলায় প্রতারনার মামলায় পরিচালক পলাতক

Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

দেশবানী নিউজ ডেস্ক:নীলফামারীর ডিমলার মহিকুল ইসলাম বাঁধন মানুষ কে প্রতারনার ফাঁদে ফেলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে, প্রতারণা ও আত্মসাতের মামলায় পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, তিনি উক্ত প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হয়ে বিভিন্ন জনের কাছে বিভিন্ন উপায়ে কৌশল খাঁটিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।ভুক্তভোগী প্রত্যেককে সোনালী ব্যাংক, কৃষি ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের চেক প্রদান করেন।

প্রতারণা শিকার এক ব্যক্তি মাহমুদুল ইসলাম(৩০) বলেন টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে আমাকে সোনালী ব্যাংক ডিমলা শাখায় তার বন্ধ থাকা চলতি একাউন্টের একটি চেক প্রদান করেন। ফলে আমি নগদায়নের জন্য চেক প্রদান করিলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ হিসাবটি বন্ধ মর্মে ডিসঅনার স্লিপ প্রদান করেন। পরে উক্ত পরিচালকের কাছে টাকা ফেরত চেয়ে এবং ব্যাংক হিসাব বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কাউকেই কোন টাকা ফেরত দিবেন না মর্মে জানিয়ে পাল্টা বিভিন্ন হুমকী প্রদান করেন । তিনি বলেন, আমি নিরুপায় হয়ে প্রতারণার ঘটনার শিকার হয়ে আদালতের কাছে বিচার প্রার্থনা করেছি। যার পিটিশন নং-৯২/১৯। তিনি আরো বলেন, রেস্ ডায়াগনষ্টিক সেন্টার এন্ড সঞ্চয় ও ঋনদান সমিতির পরিচালক বাঁধন ডায়াগনষ্টিক সেন্টারটি নির্মাণের সময় তার সাথে আমার সম্পর্ক ভালো থাকায় আমার কাছে ৩ মাসের কথা বলে কয়েক দফায় ৬ লাখ টাকা হাওলাদ গ্রহন করেন। পরে তিনি আমার বিশ্বাস অর্জনের জন্য তার বন্ধ থাকা একাউন্টের ৬ লাখ টাকার একটি চেক প্রদান করেন। কিন্তু একাউন্টটি বন্ধ থাকায় আমি প্রতারিত হই। একারনে আমি আইনের আশ্রয় নিয়ে মাননীয় আদালতে বিচার প্রার্থী হয়েছি।

এদিকে একই ভাবে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে আজগর আলীর পুত্র কসমেটিক ব্যবসায়ী ফজলুল হকের কাছে ৬ লাখ ২৭ হাজার টাকা গ্রহন করে টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ডিমলা শাখায় পরিচালক মহিকুল ইসলাম বাঁধন একটি চেক প্রদান করেন। পরবর্তীতে ফজলুল হক উক্ত চেক নগদায়নের জন্য ব্যাংকে উপস্থাপন করিলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অপর্যাপ্ত তহবিল ও হিসাবটি বন্ধ মর্মে ডিসঅনার স্লিপ প্রদান করেন। ফলে তিনিও (ফজলুল হক) গত ২৬ সেপ্টেম্বর’১৯ এনআই এ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় কোর্ট-এ মামলা দায়ের করেন।

ইতিপূর্বে মেডিকেল মোড়ের হোসেন আলী রনিকে সোনালী ব্যাংক ডিমলা শাখার ৬ লাখ টাকার একটি চেক প্রদান করেন। একই ভাবে প্রতারিত হওয়ায় তিনি লিগ্যাল নোটিশ পাঠান মহিকুল ইসলাম বাঁধনের কাছে। একই ভাবে প্রতারিত চাউল ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম উক্ত পরিচালক বাঁধনের বিরুদ্ধে এনআই এ্যাক্টে মামলা দায়ের করলে কোর্ট ডাব্লিউ/এ ইস্যু করেন। বিপ্লব নামের জনৈক্য ব্যক্তি বাঁধনের বিরুদ্ধে চেক ডিসঅনার করেছেন বলেও জানা গেছে।

সূত্রে জানা যায়, মহিকুল ইসলাম বাধন এরকম অসংখ্য চেপ পাতা প্রদান করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। যার বেশ কয়েকটি চেক ডিস অনারের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। এ ব্যাপারে ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মফিজ উদ্দিন শেখ বলেন, প্রতারণা ও আত্মসাতের ঘটনায় মাননীয় আদালতের নিদের্শে মহিকুল ইসলাম বাঁধনের নামে একটি মামলা ৪২০ ও ৪০৬ ধারায় থানায় এজাহার হিসেব গ্রহন করে মামলা রুজ্জু করা হয়েছে। আসামী পলাতক থাকায় গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টার চলছে।

Leave a Reply