Sun. Mar 7th, 2021
Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জাফর আহম্মেদ রানা, তার বাবা ও তিন ভাইয়ের চাঁদাবাজী, নানা রকমের অত্যাচার-নির্যাতনের কারণে ঢাকার ইসলামবাগবাসীর জীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী যুবলীগ নেতাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে তাদের প্রতিরোধের জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। এই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে যুবলীগের অবৈধ কর্মকাণ্ডের খোঁজখবর নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যুবলীগের দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের নাম বেড়িয়ে আসে। তার সাথে আরো বেড়িয়ে আসে তার অবৈধ কর্মকাণ্ডের সাঙ্গোপাঙ্গোদের নাম। এই সাঙ্গোপাঙ্গোদের অন্যতম হলেন জাফর আহম্মেদ রানা ও তার পরিবারের সদস্যবৃন্দ। তাদের চাঁদাবাজী ও দখলদারিত্বে অতিষ্ট ঢাকার ইসলামবাগবাসী। তাদের অপকর্ম সম্পর্কে নওরোজের অনুসন্ধানে এসব তথ্য বেড়িয়ে এসেছে। তারা চার ভাই : জাফর আহম্মেদ রানা, রাশেদ কামাল, মারফত আলী, বাদল আহম্মেদ ও তার বাবা করম আলী বিভিন্নভাবে চাঁদাবাজী করে চলেছে। তাদের বাবা স্বঘোষিত মাতব্বর। তিনি নিজের ইচ্ছামতো বিচারের নামে চাঁদাবাজী করেন। এমনকি বর্তমানে তিনি ভারতে চিকিৎসা নিচ্ছেন চাঁদাবাজীর টাকায়।

ইসলামবাগ ঈদগাহ্ মাঠে স্থানীয় তাতী লীগ নেতা ইদ্রিস আলী হত্যা মামলার আসামী জাফর ও তার ভাই ২৯নং ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বাদল আহম্মেদ। স্থানীয় সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম এই হত্যা কাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের শাস্তি দাবি করেন। ২৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. জাহাঙ্গীর আলম বাবুলের কাছে এলাকাবাসী তাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ নিয়ে আসেন। কাউন্সিলর করম আলীকে অভিযোগের বিষয়গুলো একাধিকবার নিষেধ করলে তার সন্ত্রাসী ছেলেদের দিয়ে উল্টো হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। এমনকি ক্যাসিনো সম্রাটের তদ্বীরে ইদ্রিস হত্যা মামলা থেকে খালাস পেয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠে জাফরগং।

ইসলামবাগ এলাকার সব ধরনের প্লাস্টিক ব্যবসায়ীদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করে। কেউ চাঁদা দিতে গড়িমসি করলে তাদের নির্ধারিত টর্চার সেলে নিয়ে সেখানে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে চাঁদা দিতে বাধ্য করা হয়। জনৈক সেলিমের বাড়ির বিদ্যুতের লাইন (৪৪০ ভোল্ট) বিক্রির ৩ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। টর্চারের ভয়ে সেলিম কোনো প্রতিবাদ করেনি। জাফরের ভাই বাদল আহম্মেদের নামে ৩০ লক্ষ টাকার বিদ্যুতের মামলা রয়েছে। এছাড়া, চাঁদাবাজ জাফরগং কামরাঙ্গীর চর ও জিঞ্জিরার অসহায় গরিব নৌকার মাঝিদের কাছ থেকেও চাঁদা আদায় করছে স্থানীয় সূত্র জানায়।

উপরিউক্ত অবৈধ কর্মকা- পরিচালনার জন্যে জাফর আহম্মেদ রানাগং একটি ক্যাডারবাহিনী প্রতিষ্ঠা করেছে। ক্যাডারদের মধ্যে অন্যতম হলো এরশাদুল হক, আজিজুল হক, ফারুক হোসেন, রজ্জব আলী, হাফিজুর রহমান হাফিজ, মামুন, জনি, ভুট্টো, আলাউদ্দিন সহ আরো অনেকে।

স্থানীয় শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষ সন্ত্রাসী জাফর পরিবার ও তার প্রতিষ্ঠিত ক্যাডারবাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতন থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট মহলে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।   

Leave a Reply