Mon. Mar 8th, 2021
Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার ইসলামনগর গ্রামের মৃ’ত দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী নাজমা বেগম (৪০)। স্বামী মা’রা যাওয়ার পর দুই সন্তানের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন তিনি।

সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে ১০ মাস আগে আদম দা’লালের মাধ্যমে পাড়ি জমিয়েছিলেন সৌদি আরবে। হাসপাতালে কাজ দেওয়ার কথা থাকলেও তার ঠাঁই হয় বাসাবাড়িতে।

শুরু থেকেই কফিল (গৃহকর্তা) ও তার ছেলে তাকে যৌ’ন নি’র্যাতন করে আসছিল। নি’র্যাতনের বর্ণনা দিয়ে নাজমা বেগম স্বজনদের প্রায়ই ফোন করে কা’ন্নাকা’টি করতেন। আকুতি জানাতেন দেশে ফিরিয়ে আনার।ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

এরই মধ্যে গত ২ সেপ্টেম্বর নাজমা বেগমের র’হস্যজনক মৃ’ত্যু হয়। গত এক মাস ধরে তার ম’রদেহ দেশটির একটি হাসপাতালের মরচুয়ারিতে রয়েছে।

হ’তভাগা নাজমার লা’শ শেষ বারের মতো দেখতে অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন তার স্বজনরা। তারা নাজমার মৃ’ত্যুর সঠিক কারণ উ’দঘাটন ও গৃহকর্তার উ’পযুক্ত বি’চার, মৃ’ত্যুজনিত ক্ষ’তিপূরণসহ তার লা’শ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তালেবপুর ইউনিয়নের ইসলামনগর গ্রামের মৃ’ত দিনমজুর দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী নাজমা বেগম। পরিবারের একমাত্র উপর্জনক্ষ’ম স্বামী দেলোয়ারের মৃ’ত্যুর পর দুই ছেলে সন্তান নিয়ে নাজমা বেগমের দিন কা’টছিল অভাব অনাটনে।ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

তখন পার্শ্ববর্তী রাজেন্দ্রপুর গ্রামের আয়নাল হকের ছেলে আদম দা’লাল সিদ্দিকুর রহমান তাকে বিদেশে যাওয়ার প্র’রোচনা দেন। তার কথা মতো পরিবারের স্বচ্ছলতা ঘোচাতে ও দুই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে গত বছরের শেষের দিকে সৌদি আরবে যান নাজমা।

গত ২ সেপ্টেম্বর নাজমা বেগমের র’হস্যজনক মৃ’ত্যু হয়। এরপর থেকে তার ম’রদে’হ দেশটির আরা এলাকার একটি হাসপাতালের মরচুয়ারিতে পড়ে রয়েছে।

মৃ’ত্যুর কয়েকদিন আগে নাজমা বেগমের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার কয়েকটি অডিও ক্লিপে শুনা যায়, নাজমা তার ওপর নি’র্যাতনের বর্ণনা দিচ্ছেন আর কা’ন্নাকাটি করছেন। তিনি প্রচণ্ড অ’সুস্থ। ব্য’থায় উঠতে পারছেন না।

কিন্তু তাকে চিকিৎসা দে‌ওয়া হচ্ছে না। একটি অডিওতে শোনা যায়, তাকে বাসা থেকে কোথায় যেন নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তিনি বলছেন, আমাকে আর বাঁ’চাতে পারলি না তোরা। আমাকে আর জী’বিত পাইলি না। বাড়ি বিক্রি করে হলেও তাকে বাঁ’চানোর আ’কুতি জানান স্বজনদের।

সরেজমিনে নি’হত নাজমার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, নাজমা বেগমের ছবি হাতে নিয়ে আ’হাজারি করছে তার দুই সন্তান। পাশেই বিলাপ করছেন স্বজনরা। তাদের শান্তনা দেওয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে প্রতিবেশীরা। অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না।

নাজমা বেগমের বোন মাকসুদা বেগম জানান, বোন জামাই মা’রা যাওয়ার পর দুই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে নাজমা আদম দা’লাল সিদ্দিকুর রহমানের প্র’রোচনায় সৌদি আরব যান।

হাসপাতালের ক্লিনার হিসেবে চাকরির দেওয়ার কথা বললেও তাকে দেওয়া হয় গৃহকর্মীর কাজ। কফিল (গৃহকর্তা) তার ছেলে নাজমাকে যৌ’ন নি’র্যাতন করত। কথা না শুনলে মা’রধর করা হতো। তাকে ঠিকমতো খেতেও দিত না।

এসব কথা আমাদের জানিয়ে নাজমা প্রায়ই ফোন করে কা’ন্নাকাটি ও তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আ’কুতি জানাতো। গৃহকর্তার অ’মানুষিক নি’র্যাতনে নাজমার মৃ’ত্যু হয়েছে। তিনি তার বোনের মৃ’ত্যুর সঠিক কারণ উ’দঘাটন ও গৃহকর্তা, তার ছেলের বি’চার, ক্ষ’তিপূরণসহ তার লা’শ দ্রুত ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

ছেলে রাজিব মিয়া জানান, নি’র্যাতনের খবর শুনে মাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আদম দা’লাল সিদ্দিকুর রহমানকে অনেকবার অ’নুরোধ করেছি। কিন্তু তিনি বিষয়টি কর্ণপাত করেনি।

গত ২ সেপ্টেম্বর ভোরে এক সৌদি প্রবাসী তাদের ফোন করে মায়ের মৃ’ত্যুর খবর দেন। সৌদি আরবের আরা শহরের একটি সরকারি হাসপাতালের মরচুয়ারিতে (হিমঘর) তার মায়ের ম’রদেহ রাখা হয়েছে। মায়ের ম’রদেহ দেশে ফিরিয়ে আনবো কীভাবে কিছুই বুঝতে পারছি না।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, ভালো চাকরির লো’ভ দেখিয়ে বি’ধবা নাজমা বেগমকে সৌদি আরবে পা’চার ও সেখানে নি’র্যাতনে তার নি’র্মম মৃ’ত্যুর ঘটনা খুবই দুঃ’খজনক। পুরো ঘটনার সুষ্ঠু ত’দন্ত করে দো’ষীদের শা’স্তির দাবি জানান তারা।

এদিকে অ’ভিযুক্ত আদম ব্যবসায়ী সিদ্দিকুর রহমানের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে ফোন করলেও তিনি ধরেননি। স্ত্রী হালিমা বেগম জানান, তার স্বামী এলাকার অনেক নারীকে বিদেশে পাঠিয়েছেন। কারো বেলায় সমস্যা হয়নি।

সিঙ্গাইর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাহেলা রহমত উল্লাহ বলেন, বিষয়টি জানার পর আমি জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসারের সঙ্গে কথা বলেছি। নি’হতের ম’রদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া স্বজনরা যেন মৃ’ত্যুজনিত আর্থিক অ’নুদান ও ক্ষ’তিপুরণ পায় সে ব্যাপারেও খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply