Tue. Mar 9th, 2021
Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিশ্বের এক নম্বর জেনারেল মনে করা হতো জেনারেল কাসেম সোলায়মানিকে। শুক্রবার ভোরে ইরাকে মার্কিন বিমান হামলায় ‘শহীদ’ হন তিনি। ইরানে তিনি হাজি কাসেম নামেই অধিক পরিচিত। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তাকে অর্ডার অব জুলফিকার পদক দিয়েছেন।

ইরানের ইসলামিক রেভ্যলুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বিশেষ শাখা কুদস ফোর্সের (পবিত্র যোদ্ধা) প্রধান ছিলেন তিনি। বিগত ২০-২২ বছরে তিনি এই বাহিনীকে নিজ দেশের বাইরে সিরিয়া, লেবানন, গাজা, ইয়েমেন, ইরাক, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানসহ অন্তত ১৫-২০টি দেশে ছড়িয়ে দিয়েছেন। এর সদস্যরা অর্ডিনারি ফোর্সের বাইরে ইরানি স্বার্থের জন্য লড়তে (ছায়াযুদ্ধ) প্রস্তুত। জেনারেল সোলায়মানি এতটাই প্রভাবশালী ছিলেন যে, নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য একমাত্র সর্বোচ্চ নেতার কাছে জবাবদিহি করতেন। এ কারণে কুদস ফোর্স সম্পর্কে খুব জানেন না ইরানিরাও।

তবে এত বড় জেনারেল হলেও সাধারণ জীবনযাপনই ইরানিদেরকে তার প্রতি আকৃষ্ট করেছে। এমনকি রণাঙ্গনেও সাধারণ সাজে দেখা যেত তাকে। এর আগে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অফার পেলেও তা ফিরিয়ে দেন তিনি।

উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস দমনে বিরাট অবদান রাখা হাজি কাসেম বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যে অবস্থা তৈরি করেছেন তাতে তার ওপর যার পর নেই ক্ষুব্ধ ইসরায়েল, সৌদি ও আমেরিকা। সে কারণে সিআইএ ও মোসাদের হিটলিস্টে ছিল তার নাম।

এর আগে তেহরান দাবি করেছিল, গেল আশুরা উপলক্ষে ইরানের কেরমান প্রদেশে নিজের জন্মস্থানে তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল ইসরায়েল ও আরব গুপ্তচররা। কিন্তু সে ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেয় আইআরজিসি।

যাই হোক, ঘরে-বাইরে এত বিপদের মধ্যেও মৃত্যুকে হাতের মুঠোয় নিয়ে দেশের স্বার্থ তথা আদর্শ (শিয়া- মুসলিম) প্রসারে এগিয়ে যাচ্ছিলেন জেনারেল সোলায়মানি। যেখানে প্রতিনিয়ত মৃত্যু তাকে হাতছানি ডাকছিল।

গবেষক আলতাফ পারভেজ এক নিবন্ধে বলেছেন, ইরানের অনেকে ৬২ বছর বয়সী সোলায়মানির মাঝে হজরত আলী রা.-এর বিশ্বাসী সহযোদ্ধা মালিক আল-আশতারের ছায়া দেখতেন। তবে তারা এও জানতেন, ইতিহাসে মালিক আল-আশতার বিষ প্রয়োগে নিহত হয়েছিলেন। তাই সোলাইমানির জীবন নিয়েও তাদের শঙ্কার শেষ ছিল না।

হয়তো এ কারণেই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সোলাইমানিকে অভিহিত করতেন ইরানের ‘জীবন্ত শহীদ’ হিসেবে। যিনি রনাঙ্গনে চোখে রেখে কথা বলতে (মোকাবিলা) পছন্দ করতেন।

দাবি করা হয়, আমেরিকা আগেও দুই দুইবার জেনারেল সোলায়মানিকে হত্যার সুযোগ পেয়েও তাকে হত্যা করেনি। কারণ হিসেবে বলা হয়, সোলায়মানির ওপর হামলাকে নিজের ওপর হামলা বলে মনে করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। তাই তাকে হত্যা করা হলে বিভিন্ন দেশে থাকা কুদস ফোর্সের সদস্যরা মার্কিন স্বার্থের ওপর মরণ কারণ দেবে।

আমেরিকা শেষ পর্যন্ত সেই মৌচাকে ঢিল দিলো। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা জেনারেল সোলায়মানি হত্যার কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আর দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রী মোহাম্মাদ জাভেদ জারিফ বলেছেন, আমেরিকা ভয়ংকর ভুল করেছে।

Leave a Reply