Sun. Feb 28th, 2021
Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ‘মার্বেল’ দৌড়ে বুধবার পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্র রাফি অংশ নিয়েছিল। এই প্রতিযোগিতায় প্রতিযোগিকে মুখ দিয়ে একটি চামচ ধরে রাখতে হয়, চামচের ওপর থাকে একটি মার্বেল, দৌড়ের সময় এমনভাবে ভারসাম্য রাখতে হয় যেন মার্বেলটি চামচ থেকে পড়ে না যায়।

১১ বছর বয়সী মিরান হোসেন রাফি অবশ্য শেষ পর্যন্ত মার্বেলটি না ফেলেই ফিনিশিং লাইন অতিক্রম করেছিলো। সে প্রথম স্থান অধিকার করেছিল। কিন্তু দৌড় শেষ হওয়া মাত্রই সে মাথা নুয়ে মাটিতে পড়ে যায়।

শৈলকূপার উমেদপুর ইউনিয়নের ১২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে শীতকালীন বার্ষিক আন্তঃস্কুল ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল মিরান ।

প্রতিযোগিতার ভেন্যু ছিল উমেদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ। মিরান ষষ্টিবর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র।

ষষ্টিবর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকনুজ্জামান বলেন, “রেস শুরুর সময় আমি সবাইকে বলেছি, তোমরা সাবধানে থাকবে যেন চামচ থেকে মার্বেল না পড়ে। জোরে দৌড়ানোর দরকার নাই। মিরানও তখন একদম সুস্থ স্বাভাবিক ছিল। এরপর সে-ই সবার আগে পৌঁছায় যায়। শেষপ্রান্তে পৌঁছানোর পর দেখলাম তার মাথাটা নীচের দিকে ঝুঁকে যাচ্ছে।”

আশপাশে থাকা শিক্ষকেরা তাকে টেনে তুলে মুখে পানি ছেটাতে থাকেন। তার নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। সাথে সাথেই তাকে মোটরসাইকেলে করে নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে।

কিন্তু ৫ কিলোমিটার দূরের ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা মিরানকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রাশেদ আল মামুন।

ডা. মামুন বলেন, “বিকেলে যখন শিশুটিকে ইমার্জেন্সিতে আনা হয়, ততোক্ষণে তার মৃত্যু হয়েছে”।

“আমরা জানতে পেরেছি যে শিশুটির আগেও শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছিল। আমরা ধারণা করছি তার হার্টের সমস্যাও থাকতে পারে। তবে মেডিকেল পরীক্ষা আর পোস্টমোর্টেম ছাড়া আসল কারণ বলা সম্ভব না।”

তারা ধারণা করছেন, শিশুটির যেহেতু শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছিল, হয়তো প্রতিযোগিতার উত্তেজনায় সেটা বেড়ে গেছে এবং মৃত্যু হয়েছে।

জানা গেছে, এর আগেও শ্বাসকষ্টের সমস্যায় পড়েছিল মিরান। সম্প্রতি নাটোরে তার একটি টনসিল অপারেশনও হয়েছিল।

একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েছে মিরানের বাবা ফারুক হোসেন এবং মা শেলী হোসেন। শোকে ভেঙে পড়েছেন মিরানের শিক্ষক ও সহপাঠীরাও।

বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার এমন উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে এমন একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক ও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা।

এমন ঘটনায় প্রতিযোগিতা স্থগিত করে আজ সারাদিনব্যাপী শোক ঘোষণা করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। আজ সকাল ১০টার দিকে গ্রামের বাড়ি পার্বতিপুরে ছেলেটির জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়।

সুত্র: বিবিসি।

Leave a Reply