Mon. Mar 1st, 2021
Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সাটুরিয়ার মা-ছেলের জোড়া খু’নের র’হস্য ২৪ ঘন্টার মধ্যে উন্মোচন করেছে পু’লিশ। হ’ত্যাকা’ণ্ডের শিকার পারভীন আক্তার বিয়ের জন্য চাপ দিয়েছিল দেবর সোলাই’মান হোসেনকে।

ভাবীর এই আচরণ সহ্য করতে না পেরে ধারালো ছু’রি দিয়ে হ’ত্যা করে ভাবী পারভীন আক্তার ও ভাতিজা আব্দুল নূরকে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আ’দালত ৯-এর বিচারক জান্নাতুল রাফিন সুলতানের কাছে মা’মলার একমাত্র আ’সামি সোলাই’মান হোসেন ১৬৪ ধারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানব’ন্দি দিয়েছেন। আ’সামিকে সোলাই’মানকে রাতেই আ’দালত থেকে জে’লাহাজতে পাঠানো হয়।

মানিকগঞ্জ জে’লা পু’লিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম এক প্রেস বি’জ্ঞপ্তিতে জানান, ১৬৪ ধারা জবানব’ন্দিতে আ’সামি সোলাই’মান হোসেন স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। স্বীকারোক্তি অনুয়ায়ী আ’সামি সোলাই’মান হোসেনের সাথে তার মেঝ ভাই মজনুর স্ত্রী’’ পারভীনের পর’কী’’য়া স’ম্পর্ক গড়ে ওঠে।

গত তিন মাস আগে সোলাই’মান মালয়েশিয়া থেকে পড়াশুনা করে দেশে আসে। এর পর ভাবী পারভীনের সাথে পর’কী’’য়া স’ম্পর্ক আরো গাঢ় হয়ে পড়ে। ভাবী পারভীন সোলাই’মানকে বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করে আসছে।

ঘটনার দিন ৮ জানুয়ারি রাত ১০টার দিকে সোলাই’মান হোসেন ভাবী পারভীনের ঘরে ঢুকে। তাদের মধ্যে দৈহিক স’ম্পর্কের একপর্যায়ে পারভীন আক্তার সোলাই’মানকে বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করে। সোলাই’মান দুই ভাতিজা আব্দুল করিম (১০) ও আব্দুল নুর (৬)-এর কথা চিন্তা করে বিয়ের জন্য রাজি হয়নি।

বিয়েতে রাজি না হওয়াতে পারভীন আক্তার হু`মকি দেন তার নিজের দুই ছেলে, স্বামী ও সোলাই’মানকে হ’ত্যা করা হবে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথাকাটি ও উত্তে’জনার সৃষ্টি হয়।

এ সময় সোলাই’মান ঘরে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে ভাবী পারভীনের গলা কে’টে হ’ত্যা করে। এরপর ভাবি পারভীনকে গলা কে’টে হ’ত্যা করে তার লা’শ উল’ঙ্গ করে ঢেকে রাখেন কম্বল দিয়ে। তিনি লা’শ উল’ঙ্গ করে বোঝাতে চেয়েছেন তার ভাবীকে কেউ ধ’র্ষণ করে মে’রে ফেলেছে।

ওই সময় ভাতিজা আব্দুর নুর জেগে উঠলে তাকেও চাকু দিয়ে হ’ত্যা করে। দুজনের হ’ত্যা নিশ্চিত করে র’ক্তমাখা চাকু ও তার পরিহিত কাপড়-চোপড় ধুয়ে ফেলে। এর পর নিজ ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।

নি’হত নুরের দাদা ক্বারী আব্দুল রহমান জানান, ছেলে সোলাই’মানের মতো এ গ্রামে একটি ভাল ছেলে নেই। সে কোন নে’শা করে না। পু’লিশ তাকে ফাঁ’সানোর জন্য ধরে নিয়ে গেছে। তার সাথে আমা’র পরিবারের কাউকে দেখা করতে দেয় না।

তিনি আরো জানান, তার ছেলে মালয়েশিয়া থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে লেখাপড়া করে কিছুদিন ধরে সে ছুটি নিয়ে বাড়ি এসেছে। আপনার বাড়িতে বহিরাগত কেউ আসে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, মাঝে মধ্যে অ’পরিচিত একাধিক ছেলে আসত বৌমা’র কাছে। কিন্তু তাদের আমি চিনি না।

আব্দুল রহমানের স্ত্রী’’ রোমেনা বেগম জানান, আমা’র ছেলের বউ সে পর্দা করে থাকত। সে হাত পায়ে মোজা পরে বাইরে বের হতো। আত্মীয়-স্বজন ছাড়া আমা’র বাড়িতে কেউ আসত না। কে তার নাতি ও ছেলের বৌকে হ’ত্যা করেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি জানি না।

সাটুরিয়ার উত্তর কাউন্নারা গ্রামের সৌদি প্রবাসী মজনুর স্ত্রী’’ পারভীন আক্তার ও তার ছয় বছরের ছেলে নুর হোসেন তাদের দুতলা ফ্ল্যাট বাসায় বুধবার রাতের খাবার খেয়ে ঘুমায়। বৃহস্পতিবার সকালে নুর মাদ্রাসায় মক্তব পরতে না যাওয়ায় আশেপাশের সহপাঠীরা তাকে ডাকতে এলে নুরের দাদী রোমেনা বেগম নাতিকে ডাকতে যায়। ডাকতে গিয়ে দেখেন ঘরের দরজা খোলা। ভিতরে প্রবেশ করে দেখেন খাটের উপর তার নাতি নুর ও তার ছেলের স্ত্রী’’ পারভীনে নিথর দেহ বিছানায় র’ক্তাক্ত অবস্থায় পরে আছে। তার আর্তচি’ৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসে পরে পু’লিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে আসে। পরে পু’লিশ মা ও ছেলে লা’শ উ’দ্ধার করে ময়না ত’দন্তের জন্য ম’র্গে প্রেরণ করেন।

মা’মলার ত’দন্তকারী কর্মক’র্তা ওসি ত’দন্ত আবুল কালাম (পিপিএম) জানান, সাটুরিয়াতে মা ছেলে জোড়া খু’নের ২৪ ঘন্টার মধ্যেই বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় হ’ত্যাকা’ন্ডে সাথে সোলাই’মান জ’ড়িত। তাকে বৃহস্পতিবার রাতেই গ্রে’ফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসবাদের সোলাই’মান হ’ত্যাকা’ন্ডের সাথে সে জ’ড়িত বলে পু’লিশের কাছে স্বীকার করেন।

Leave a Reply