Mon. Mar 1st, 2021
Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, পোশাক দেখেই বোঝা যায়, কারা অ’শান্তি করছে। উত্তর-পূর্ব দিল্লির মৌজপুর এলাকায় গিয়ে সেই মন্তব্যের কথাই মনে হয়েছিল দিল্লির এক সাংবাদিক ফতিমা খানের। সম্প্রতি জাফরাবাদ-মৌজপুর এলাকায় সংবাদসংগ্রহের জন্য গিয়ে এক জনতার মুখো’মুখি পড়েন তিনি এবং এক সহকর্মী।

সিএএ-র সমর্থনে স্লো’গা’ন থেকে আচ’মকাই শুরু হয় ”গোলি মারো শালো কো” ধ্বনি। ফতিমা একটি ওয়েবসাইটে লিখেছেন, ভিড়ের মধ্যে থেকে এক জন তার সঙ্গী সাংবাদিককে ফতিমার নাম জিজ্ঞাসা করেন। সঙ্গী সাংবাদিকটা চ’টপ’ট একটি ‘হিন্দু’ নাম বলেন। লোকটির সন্দে’হ কাটে’নি। 

তাকে ফতিমা বলতে শোনেন, ‘শকল সে হিন্দু নহি দিখতি’, (চেহারা দেখে তো হিন্দু মনে হচ্ছে না)। তবে সন্দে’হ করলেও আর বেশি এগোয়নি লোকটি। তবে এরপর এক দিন উপ’দ্রুত এলাকায় ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি দেওয়া জনতার একজন লাঠি নিয়ে ফতিমা এবং আর এক সাংবাদিকের পিছু নেন। 

মৌজপুরের পরি’স্থিতি দেখতে গিয়ে মোটামুটি একই অভি’জ্ঞতা হয়েছিল সাংবাদিক ইসমত আরারও। একটি ওয়েবসাইটে ইসমত লিখেছেন, ওখানে যাওয়ার আগে অনেকে তাকে স’ত’র্ক করেছেন বারবার। মৌজপুর এলাকায় ঢুকে তাই তিনি আর মোবাইল ফোন বার করেননি। কেবল এলাকায় হেঁটেছেন।

এক ব্যক্তিকে দেখে ইসমত প্রশ্ন করেছেন, ”ভাই, এখানে কী হচ্ছে?” জবাব আসে, ”সব কিছু হচ্ছে। আপনি দেখে আসুন না…।” ইসমত লিখেছেন, মৌজপুরে ঠিক কী কী দেখতে হয়েছে তাকে। তার কথায়, ”এক জায়গায় দেখলাম ইটের টুকরো জড়ো করে রাখা।” বন্ধু তারিক এসেছিলেন তাকে ওখানে ছাড়তে। দু’জনেই নিজেদের অন্য নাম ভেবে রেখেছিলেন। 

কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে কী বলবেন, আগে থেকে ভেবে রেখেছিলেন তাও। কিছুটা হাঁটার পরে একটা বড় জমায়েত দেখতে পান ইসমত। তার দাবি, সেখানে গেরুয়া পোশাকে এক জন উ’স্কা’নিমূলক কথাবার্তা বলছিলেন। তিনি গেরুয়া পোশাকধারীর পরিচয় জানতে চেয়েছিলেন। তখন ইসমতকেই প্রশ্ন করা হয়, তিনি কে? 

ইসমত জানাচ্ছেন, কোনও মতে এড়িয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলেও কিছু লোক তার পিছু নেয়। সঙ্গী তারিকও ফোন করে জানান, কয়েক জন অনুসরণ করছে তাকে। মৌজপুরের অলিগলি ঘুরে একটি বাড়ির সামনে থামেন ইসমত। সেখানে কয়েক জন মহিলা বসেছিলেন। তাদের সঙ্গে কথা বলেন। অনু’সরণকারীরা যখন তার উপরে চ’ড়াও হতে যাচ্ছিল, তখন ওই মহিলারাই তাকে বাঁচান। 

এর পরে বড় রাস্তা পর্যন্ত এগোতে গিয়ে তাকে নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে বলে দাবি ইসমতের। মোট তিন ঘণ্টা মৌজপুরে ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত অন্য এক সংবাদমাধ্যমের কর্মী তাকে গাড়িতে তুলে মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত পৌঁছে দেন। এখন ইসমত বলছেন, ”অল্পের জন্য র’ক্ষা পেয়েছি।”

Leave a Reply