Thu. Mar 4th, 2021
Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


আসাদুজ্জামান পাভেল, ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি : দীর্ঘদিন ধরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক ছাত্রীর সাথে অবৈধভাবে শারিরীক সম্পর্ক গড়ে তুলায় জনৈক্য শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রী অন্ত:সত্তার ঘটনায় এলাকায় এখনও চলছে নানা জল্পনা কল্পনা। বেড়িয়ে আসছে ঘটনার অন্তরালে থাকা আরো নানা ঘটনা। ধীরে ধীরে মিলছে ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা।

শিক্ষকের অবৈধ শারীরিক সম্পর্কের জেড়ে রোজিনা নামের (ছদ্মনাম) ঐ ছাত্রী অন্ত:সত্ত্বা হয়ে পড়ে। অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে ঘটনার পিছনে থাকা ঘটনা। তবে এখনও পরিবারসহ অন্ত:সত্ত্বা ছাত্রীর খেঁাজ মেলেনি এ প্রতিবেদকের।“ডিমলায় অন্ত:সত্ত্বা ছাত্রী পরিবারসহ লাপাত্ত্বা : অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পরেই ঐ তদন্ত কমিটি থেকে সহকারী শিক্ষক শামীমকে বাদ দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করেন সম্প্রতি বিদায়ী খগাখড়িবাড়ী দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমীর আলী। তিনি চাকুরীকাল থেকে অবসরে যান গত ৫ মার্চ’২০ইং তারিখে। এইদিনেই তিনি অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুস সোবহানের বিরুদ্ধে একটি তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বরাবরে। উক্ত তদন্ত রিপোর্ট সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক রুপালী আক্তার নামের যে ছাত্রীকে বিয়ে করেছেন সে অত্র বিদ্যালয়ের ছাত্রীই ছিলো। এরপর অত্র বিদ্যালয়ের ফেন্সি আক্তার নামের যে ছাত্রীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তুলেন এবং অন্ত:সত্তা হয়ে পড়ায় তৎকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুস সোবহানকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করেন। দীর্ঘ তিন বছর সাময়িক বরখাস্ত থাকার পর ছাত্রী ফেন্সিকে বিয়ে করেন শিক্ষক আব্দুস সোবহান। বিয়ের পরেই ফেন্সি ও তার পরিবার ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নেওয়ায় বিদ্যালয়ের তৎকালীন ম্যানিজিং কমিটি তাকে সাময়িক বরখাস্ত থেকে অব্যহতি দিয়ে পুনরায় স্ব-পদে বহাল করেন। কিন্তু উক্ত বিদ্যালয়ের জেসমিন, নুরানী ও আলেফ নুরা নামের তিন ছাত্রী গত ১২ ফ্রেব্রুয়ারী’২০২০ তারিখে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা বরাবরে যে অভিযোগটি দাখিল করেন তার সতত্যা পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক আমীর আলী জানান, বিদ্যালয়ের ঐসব নামে যতজন ছাত্রী বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত আছে আমি তাদের সবাইকে জিজ্ঞাসা করি কেহই এই অভিযোগের বিষয়ে স্বীকার করেনি। এই রিপোর্ট এর ব্যাপারে অভিযোগ উঠেছে, যে সময়ে অত্র বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক রিপোর্ট দাখিল করেন সে সময়ে বিদ্যালয় বন্ধ ছিলো এসএসসি’র ব্যবহারিক পরীক্ষা জনিত কারনে। বিদ্যালয় খোলে চলতি মাসের ৮ তারিখে। তাহলে তিনি কিভাবে বিভিন্ন শ্রেণীতে অধ্যায়নরত ঐসব নামের সব ছাত্রীদের খুজে পেলেন ? নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক কোন ছাত্রীকেই জিজ্ঞাসা করেননি। সে সময়ে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় কোন ছাত্র-ছাত্রীই বিদ্যালয়ে আসেনি।
“ধর্মের কল বাতাসে নড়ে” চিরন্তন এ বানী যেন সত্যি হয়ে চঁাদের মত আলো দিতে শুরু করে। এবার রোজিনা নামের একজন ছাত্রী পত্র লিখে পাষ্ট অফিস যোগে রেজিষ্টিকৃত ঐ পত্র পাঠিয়ে দেয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরাবরে। ৮ মার্চ’২০২০ ঐ পত্র প্রাপ্তহন বিদ্যালয়ের সদ্য যোগদান করা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোফাক্কারুল ইসলাম পেলব। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এ প্রাপ্ত চিঠির বিষয়ে বলেন, ঐ ছাত্রী চিঠিতে লিখেছে- যখন সে অত্র বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণীতে লেখাপড়া করতো তখন থেকেই সহকারী শিক্ষক আব্দুস সোবহানের সাথে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বর্তমানে সে অন্ত:সত্তা হয়ে পড়ায় তাকে এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির কারনেই পরিবারসহ আত্বগোপনে থাকতে হচ্ছে। সে ন্যায় বিচার প্রাথর্ী হয়ে এলাকার দুই জনের নাম উল্লেখ করেন। তারা হলেন ডাঙ্গারহাটের গ্রাম ডাক্তার বিপুল ও তার চাচাতো ভাই আইনুল। ভারপাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোফাক্কারুল ইসলাম পেলব এক প্রশ্নে জবাবে বলেন, আমি চিঠি পেয়েই ১১ মার্চ’২০ তারিখে বিদ্যালয়ে সকল শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটিকে নিয়ে মিটিং করি। ম্যানেজিং কমিটি ও সকল শিক্ষকের মতামতের ভিক্তিতে প্রাপ্ত পত্রের সতত্য যাচাইয়ের জন্য সরজমিনে তদন্তের সিন্ধান্ত গৃহীত হয়। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অভিভাবক সদস্য অহিদুল ইসলামকে তদন্ত কমিটির আহবায়ক ও অভিভাবক সদস্য মনিরুজ্জামান, সহকারী শিক্ষক মারুফা বেগম, শিক্ষক প্রতিনিধি আব্দুল গণি ও সিনিয়র শিক্ষক আবু তাহেরকে সদস্য করে পাচঁ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। রোজিনা নামের ঐ চিঠির সূত্র ধরে গণমাধ্যকমর্ীরা অনুসন্ধান চালালে উঠে আসে ঘটনার সত্যতা। জানা যায়, রোজিনার বড় বোন লাজিনার (ছদ্ম নাম) সাথেও দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তুলেন এ অভিযুক্ত শিক্ষক বলে বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গায় লাজিনাকে বাসা ভারা নিয়ে রাখতেন ঐ শিক্ষক। কখনও ডিমলায় কখনও টুনিরহাটে বিভিন্ন বাসাবাড়ী ভাড়া করে থাকতেন এক সাথেই। এরই সূত্র ধরে ছোট বোন রোজিনাও থাকতো তাদের ভারা বাড়ীতে। এসব তথ্য উঠে এসেছে সংবাদকমর্ীদের কাছে। অনুসন্ধানে ঘটনার মোড় নিতে শুরু করে শিক্ষকের বিরুদ্ধেই। বেড়িয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযুক্ত শিক্ষক রোজিনার বড় বোন লাজিনা ও অন্ত:সত্তা রোজিনাকে কখনও ভাতিজি কখনও ছাত্রী, ক্ষেত্র বিশেষে বিভিন্ন পরিচয় দিয়ে ডিমলা শহরে বাসাভাড়া নিয়ে থাকতো তারা। এমনি একটি ভাড়াবাসার সন্ধান মেলে এ প্রতিবেদকের। ছুটে যাই ডিমলা সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পিছনে সেখানে সন্ধান মিলে আফেলা আপার বাড়ী। আপার সাথে কথা হয় রোজিনা ও লাজিনার বিষয়ে। অকপটে স্বীকার করেন তিনি প্রায় আড়াই মাস রোজিনা ও লাজিনাকে সাথে নিয়ে বসবাস করেছেন সহকারী শিক্ষক আব্দুস সোবহান। এরই মধ্যে রোজিনা অন্ত:সত্তা হয়ে পড়লে ঐ বাসা ছেড়ে দিয়ে সটকে পড়েন তারা। এর পূর্বে কোথায় ছিলেন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন সুরুজ্জামান নামের এক ব্যাক্তির বাড়ীতেও ছিলেন অনেকদিন। এরপর এখান থেকে তারা ডিমলার বিভিন্ন বাসায় বসবাস করেন বলেও তিনি জানান। এ ঘটনা থেকে বঁাচতেই তিনি ঐ ছাত্রীর বিয়ের জন্য মোটা অংকের টাকা দিয়েছেন দুই সন্ধানের জনক আইনুলের হাতে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে কথা হয় পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা রাজিউর রহমান সাথে তিনি জানান, আমাকে তদন্তের ভার দেওয়া হয়েছে আমি বিদ্যালয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট চেয়েছি। এরই মধ্যে রিপোর্ট পেয়েছি। এখন আমি সার্বিক দিক বিবেচনা করে নিজেও তদন্ত করে রিপোর্ট দাখিল করব উদ্ধার্তন কর্তৃপক্ষের কাছে। এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হালিম জানান, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি এখানে সর্বেসর্বা। তাদের রিপোর্ট এবং সিন্ধানন্তই চুড়ান্ত। আমি শুধুৃ রিপোর্ট পেয়ে তা উর্দ্ধতন কর্তপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রেরণ করবো। ঘটনা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে বলেন, যা রটে কিছু না কিছু বটে। অনুসন্ধানী ঘটনার সূত্র ধরে অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুস সোবহানকে মুঠোফোনে তার মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি জানান, হ্যা তার বড় বোন লাজিনার সাথে আমার সম্পর্ক ছিলো কিন্তু সেটা অবৈধ কোন সম্পর্ক নয়। লাজিনা ও রোজিনাকে নিয়ে আপনি ভাড়া বাসায় ছিলেন এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হ্যা, দু/এক দিন ছিলাম তবে সুরুজ্জামানের বাড়ীতে আর অন্যকারো বাড়ীতে নয়।
উল্লেখ্য, উক্ত বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুস সোবহান প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় বাড়ীর কাজের মেয়ের সাথে অনৈতিক শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলে তাকে বিয়ে করে দুই স্ত্রী নিয়ে সংসার শুরু করেন। উক্ত বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেনীর ছাত্রীকে বিভিন্ন প্রলোভনে তার সাথেও শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলে ঐ ছাত্রী রুপালী আক্তার অন্ত:সত্ত্বা হয়ে পড়লে সে ঘটনা থেকেও বাঁচতে ঐ ছাত্রীকে বিয়ে করেন অভিযুক্ত শিক্ষক। তিন স্ত্রী ঐ শিক্ষকের অধার্ঙ্গীনি থাকাবস্থায় অত্র বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণী ছাত্রী ফেন্সি আক্তার অন্ত:সত্ত্বা হয়ে পড়লে ৪র্থ স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি মিলে ফেন্সি আক্তারের। একই ভাবে শিক্ষকের জ্বালে আটকে যায় রোজিনাও। এখন রোজিনাও ৫ম স্ত্রীর স্বীকৃতি পেতে পরিবারসহ লাপাত্তা রয়েছে।

01719203758

Leave a Reply