Fri. Feb 26th, 2021
Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

স্পোর্টস ডেস্ক : বলা হচ্ছে, ২০১৮ সালের মার্চে শ্রীলঙ্কার মাটিতে হওয়া নিদাহাস ট্রফির কথা। ১৮ মার্চ সে টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচে লড়েছিল বাংলাদেশ ও ভারত। যেখানে একদম শেষ বলে ছক্কা হাঁ’কিয়ে ভারতকে ৪ উইকেটের জয় এনে দিয়েছিলেন দীনেশ কার্তিক। আর ছয়দিন পরে দুই বছর হয়ে যাবে ম্যাচটির। 

যা ছিলো বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জন্য এক দুঃস্বপ্নময় ম্যাচ। সেদিন একদম শেষ বলে ছক্কা হ’জম করে শিরোপা হাতছাড়া হয়েছিল টাইগারদের। তবে একইসঙ্গে প্রতিপক্ষ ভারতের অলরাউন্ডার বিজয় শঙ্করের জন্যও ম্যাচটি ছিলো দুঃ’স্বপ্নের। দলগতভাবে সেই ম্যাচটি ভারতের জন্য বেশ আনন্দের হলেও, ব্যক্তিগতভাবে দলের অলরাউন্ডার বিজয় শঙ্করের জন্য ছিলো হতা’শায় মোড়া। 

যা কি না দুই বছর পরে এসে স্মৃতিচারণ করছেন এ ২৯ বছর বয়সী অলরাউন্ডার। সেই ম্যাচটিতে আগে ব্যাট করে সাব্বির রহমানের ৫০ বলে ৭৭, মেহেদি হাসান মিরাজের ৭ বলে ১৯ এবং অন্যদের ছোট ছোট ইনিংসে ভর করে ৮ উইকেটে ১৬৬ রানের সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছিল বাংলাদেশ। জবাবে দীনেশ কার্তিকের ৮ বলে ২৯ রানের টর্ণে’ডো ইনিংসের সুবাদে ম্যাচের একদম শেষ বলে জয় পায় ভারত।

অথচ আরেকটু হলে কার্তিক ব্যাটিংই পেতেন না ফাইনাল ম্যাচটিতে। অধিনায়ক বিরাট কোহলির ইচ্ছায় কার্তিকের আগে ব্যাটিংয়ে নামানো হয়েছিল বিজয় শঙ্করকে। বল হাতে ৪ ওভারে ৪৮ রান খরচ করা বিজয়ের সামনে সুযোগ আসে ব্যাট হাতে পুষিয়ে দেয়া। তিনি যখন উইকেটে আসেন ভারতের সংগ্রহ ১৩.২ ওভারে ৪ উইকেটে ৯৮ রান। জয়ের জন্য শেষের ৪০ বলে করতে হতো ৬৭ রান। ভারতের জন্য মামুলি ল’ক্ষ্যই বটে। কিন্তু একের পর এক ডট বল খেলে এটিকেই ক’ঠিন করে তোলেন বিজয়। 

ইনিংসের শেষ ওভারের পঞ্চম বলে আউট হওয়ার আগে ১৯ বলে মাত্র ১৭ রান করতে সক্ষম হন তিনি। দীনেশ কার্তিকে ৮ বলে ২৯ রান করে ম্যাচ না জেতালে, পুরো ভারতবাসীর চোখে ভিলেনে পরিণত হতেন বিজয়। তবে এমন না যে, দল জিতে যাওয়ায় পুরোপুরি রেহাই পেয়ে গিয়েছিলেন বিজয়। বরং ৪ ওভারে ৪৮ এবং ১৯ বলে ১৭ রান করায় বেশ কিছুদিন বাসা থেকে বের হতে পারেননি, রাতে ঘুমানোর সময় মনে হতো দেখছেন দুঃ’স্বপ্ন।

প্রায় দুই বছর পর সে ম্যাচের স্মৃতি মনে করে বিজয় বলেন, নিদাহাস ট্রফির সেই ম্যাচের (ফাইনাল) আহ’ত অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পারাটা খুবই কঠিন ছিলো আমার জন্য। প্রথম সপ্তাহে আমি বাসার বাইরেই যেতে পারতাম না, কারণ যেই দেখতো সেই ম্যাচের কথা জিজ্ঞেস করতো এবং আমার ব্যাপারে নেতিবাচক কথা বলতো। সেই ম্যাচের প্রথম দুই-তিনদিন পর আমি পুরোপুরি বিপ’র্য’স্ত হয়ে পড়েছিলাম। যতবারই ঘুমাতে যেতাম, দেখতাম চোখ ভিজে গিয়েছে। ঐসময় আমার শুধু একটাই কাজ ছিলো, ক’ঠো’র অনুশীলন করা।

সেই দুঃসময় কাঁ’টিয়ে ওঠার কথা জানিয়ে বিজয় আরও বলেন, ”আমি নিজেকে কোনো অবসর সময় দিতাম না। কারণ যখনই আমি অবসর থাকতাম, তখনই নেতিবাচক চিন্তা মাথায় ঢুকে যেত। সেই টুর্নামেন্টের পর আইপিএল শুরু হয়ে গেল, আমি সেখানে বেশ ভালো করি (সাত ইনিংসে ১৪৩.২৪ স্ট্রাইকরেটে ২১২ রান)। এরপরই সবকিছু বদলে যায়। তাই আমার মতে চিন্তাধা’রার বদল ঘটালেই সবকিছু সহজ হয়ে যায়।”

Leave a Reply