Fri. Feb 26th, 2021
Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আগামী দুই সপ্তাহ বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সংক্রমণ যেহেতু এখনও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েনি তাই দুই সপ্তাহের কঠোর ব্যবস্থায় করোনা প্রতিরোধ সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। প্রথমত এটা নিশ্চিত করা, বিদেশ থেকে আর কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। দ্বিতীয়ত, যারা ইতোমধ্যে প্রবেশ করেছেন তাদেরকে যেকেনো মূল্যে কোয়ারেন্টাইনে রাখা। সেইসঙ্গে দেশের সব নাগরিক যেন যথাযথ নিয়মে সতর্কতা অবলম্বন করে, সেজন্য রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে প্রচারাভিযানে নামা।

দেশে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১০। এই দশজনের সবাই বিদেশ ফেরত অথবা তাদের আত্মীয়-স্বজন। গত ৮ দিনে প্রায় লক্ষাধিক বাংলাদেশি বিদেশ থেকে ফিরেছেন। তাই এটাই এখন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ- যারা বিদেশ ফেরত এবং যারা তাদের সংস্পর্শে এসেছেন, এই দুই প্রকার মানুষকে যথাযথ নার্সিং করা।

ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্য বাদে ইউরোপের সব দেশ ও আমেরিকার সঙ্গে বিমান যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে বাংলাদেশের। কিন্তু খোলা আছে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, আরব আমিরাতসহ আরো কিছু দেশের সঙ্গে। এসব দেশ থেকে যারা প্রবেশ করছেন তারাও বড় ধরণের ঝুঁকির কারণ হতে পারেন।

সতর্ক হতে হবে গণমাধ্যমকর্মীদের

খবরের পেছনে ছুটতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা অনেক সময় চাইলেও জনসমাগম এড়াতে পারেন না। বিদেশ ফেরতদের সাক্ষাৎকার নিতে গিয়ে তাদের কাছাকাছি অবস্থান করেন। হাসপাতাল কিংবা কোয়ারেন্টাইনস্থলেও যেতে হয় খবরের সন্ধানে। তাই গণমাধ্যমকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. মীরাজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

গার্মেন্টস কিংবা অফিসকর্মীদের প্রতি পরামর্শ

আমাদের দেশে গার্মেন্টস হলো সবচেয়ে জনসমাগমপূর্ণ কাজের জায়গা। ডা. মীরাজাদী সেব্রিনা জানান, বিভিন্ন অফিস বিশেষ করে গার্মেন্টস মালিকরা আমাদের কাছে পরামর্শ চান। আমরা তাদেরকে বলি, যদি কারো মধ্যে উপসর্গ (জ্বর, কাশি, হাঁচি, শ্বাসকষ্ট) দেখা যায়, তাহলে অবশ্যই পরীক্ষা করার সুযোগ দিন এবং স্ব-বেতনে ১৪ দিন বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করে দিন। যদি মালিকরা স্ব-বেতনে ছুটি না দেন তাহলে কর্মীরাও উপসর্গ লুকিয়ে রাখতে পারে, আখেরে যেটা কারো জন্যই ভালো হবে না।

কঠোর হতে হবে কোয়ারেন্টাইনে

কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থাকে কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। যদি কেউ তা আংশিক কিংবা পুরোপুরিভাবে অমান্য করে তাহলে সংক্রমণ ব্যাধির আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

Leave a Reply