Fri. Feb 26th, 2021
Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

“কুত্তা সামলান”
—মুন্সী সাদিক সালেহ


কোন অভাগা ভিক্ষুক যেন আক্ষেপ করে বলেছিলঃ ভিক্ষা লাগবে না মা, কুত্তা সামলাও। জানি না সেই অভাগার কপালে শেষমেশ কি জুটেছিল-ভিক্ষার চাল না কুকুড়ের কামড়?

বাংলাদেশ নামক রঙ্গমঞ্চে বিভিন্ন প্রজাতির অভিনেতা-অভিনেত্রী নির্দেশকের নির্দেশনাকে থোড়াই কেয়ার করে যা ইচ্ছে হয় ডায়ালগ মেরেই যাচ্ছেন।

মুখমন্ডলে একগাছি দাড়ি না থাকলেও মহামুফতি হয়ে নামাজের ফতোয়া দিচ্ছেন কোনো এক নেতা। টিভি হুজুরের এই কুপ্রস্তাবে শয়তান মিটমিট করে হাসছে।

কেউ আবার ভার্সিটির মাল হয়ে পবিত্র কুরআন শরীফকেই প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন! আবার সেই খেয়ালিপনা থেকে বাঁচতে মহানবী (স) এর সাহাবিদেরও করোনা আক্রান্ত বানিয়ে ফেলেছেন!

আরেক স্বপ্নদোষে দুষ্ট বক্তা করোনা নিয়ে কম স্বপ্ন দেখালেন না। চাপাভাঙ্গা থোতায় এই বেহায়া ফতোয়া দিলেন, বাংলাদেশকে নিয়ে করোনা ভাইরাসের কোনো পরিকল্পনা নাই।

এক আড়ুয়ামী নেতার বাপের জানায় হাজার মানুষের উপস্থিতিকে টেক্কা দিতে আর এক হুজুরের জানায় উপস্থিত হলো হাজারে হাজার আড়ুয়ার দল। কি নির্মম প্রতিযোগিতা!

গার্মেন্টস কর্মীদের নিয়ে এক্কাদোক্কা খেলে সারা দেশকেই ভয়াবহতায় ঠেলে দিল কিছু দায়িত্বজ্ঞানহীন গার্মেন্টস মালিক।

বাংলাদেশের লক ডাউনকে এই সমস্ত উন্মাদ অভিনেতারা লুঙ্গি বানিয়ে ছেড়েছে। উপরে শক্ত গিট্টু আর নীচে ”ওরে ওরে হাওয়া আয়নারে!”

মহামারীর এই ক্রান্তিলগ্নে জনৈক মুনাফাখোর খাটের তলায় সয়াবিনের খনি স্থাপন করেছেন।

কতিপয় চেয়ারম্যান-মেম্বার ত্রাণের চালে আত্মসাতের ঘ্রাণ পেয়ে গুদামজাত করেছেন অনাহারী মানুষের অধিকারকে।

কেউ আবার হজম করতে না পেরে মাটির নীচে চাল দাফন করেছেন। কেউবা করেছেন চালের সলিলসমাধি।

ত্রাণদাতা ও গ্রহীতার ফটোসেশান ফেসবুকে আছড়ে পড়ছে ঢেউ হয়ে।

এক চা-চামচ ব্লিচিং পাউডারের পানি দিয়ে পুরো গ্রাম-গঞ্জ, শহর-বন্দরকে করোনামুক্ত করে ফেলেছেন কিছু মহৎপ্রাণ বানর।

সামাজিক বা শারিরীক দূরত্ব মানছে না কেউই।

জননেত্রী মমতাময়ী মা শেখ হাসিনা, ভিক্ষা বা ত্রাণ লাগবে না মা, কুত্তা সামলান। না হলে বাঙ্গালি জাতিকে নিতে হবে চৌদ্দ নয় বরং বিয়াল্লিশটি করে ইনজেকশন। এর কোনটা ধর্মের আবার কোনটা অপকর্মের।

জয় বাংলা। বাংলাদেশ করোনামুক্ত হোক।

Leave a Reply