Mon. Mar 1st, 2021
Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মোঃ রুহুল আমিন, ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি:

অর্থ অভাবে বন্ধ হতে বসা লালমনিরহাট হাতীবান্ধা উপজেলার সিঙ্গিমারী ইউনিয়ন ধুবনী গ্রামের হতদরিদ্র তাঁতী পরিবারের মেধাবী ছাত্র সোহেল রানার পড়ালেখার দায়িত্ব নিলেন সেচ্ছাসেবক নুপুর আক্তার। এ দায়িত্ব নেয়ায় উচ্চশিক্ষা থেকে ঝরে পড়তে যাওয়া থেকে রক্ষা পেল সোহেল রানা।

নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের মরহুম লুৎফর রহমান’র মেয়ে স্বেচ্ছাসেবক নুপুর আক্তার তিনি ডিমলা মহিলা সরকারি কলেজ’র এইচএসসি পরীক্ষার্থী। দির্ঘদিন যাবত ডিমলা উপজেলায় স্বেচ্ছাসেবক কাজে নিয়োজিত আছেন, মানুষের কল্যাণে তিনি সর্বদা নিয়োজিত।

জানা যায়, বহুলপঠিত জনপ্রিয় দৈনিক মানবকণ্ঠ অনলাইন পত্রিকায় এ গত ১ জুন প্রকাশিত মানবিক আকুতির প্রতিবেদন ‘লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় মেধাবী সোহেল রানার’ প্রকাশ হয়।

সোহেল রানা লালমনিরহাট হাতীবান্ধা উপজেলার সিঙ্গিমারী ইউনিয়নের উত্তর ধুবনী গ্রামের তাঁতী ঠান্ডু মিয়ার দ্বিতীয় ছেলে।

প্রতিবেদনে জানা যায়, স্থানীয় হাতীবান্ধা এস এস সরকারি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ভোকেশনাল শাখার চলতি বছরে এস এস সি পরিক্ষায় ফলাফলে গোল্ডেন’এ’ প্লাস পেয়েছে ।

এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফল করেও অর্থাভাবে হতদরিদ্র পরিবারের এই ছাত্রের কলেজে ভর্তি নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়।মেধাবী সোহেল’র উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।

ওই প্রতিবেদনে সাড়া দিয়েই দৈনিক মানবকণ্ঠের পাঠক ও স্বেচ্ছাসেবক ‘নুপুর আক্তার’ সোহেলের পড়াশোনার সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন। অনুপ্রাণিত হন ছেলেটির শিক্ষাগ্রহণের এই মানবিক আকুতিতে।

সোহেলের পড়ালেখার দায়িত্ব গ্রহণে এগিয়ে আসেন তিনি। পরবর্তীতে মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

উচ্ছ্বসিত সোহেল রানা বলেন, আমার বাবা ঠান্ডু মিয়া স্থানীয় তাঁতী দিনমজুরের কাজ করেন। পরিবারের সদস্য সংখ্যা পাঁচ জন। বাবা মা, ও দুই ভাই-এক বোন নিয়ে কোনো রকমে সংসার চালাচ্ছেন।

‘দরিদ্রতার কারণে কোনো কলেজে ভর্তি হতে পারবো কিনা- এ নিয়ে শঙ্কা ছিল। কিন্তু এই সহযোগিতায় ভালো কলেজে ভর্তি হতে পাবো।এ জন্য আমি অনেক খুশি।’

তিনি জানান,কলেজে ভর্তি ফিসহ যত দিন আমি সাবলম্বী না হোই তত দিন তিনি আমার পড়ালেখার খরচ চালাবে বলে আশ্বাস দেন সেচ্ছাসেবক নুপুর আক্তার। তার আর্থিক সহায়তায় আমার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

আগামীতে পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হয়ে ভালো ফলাফল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সোহেল রানা।

এ বিষয়ে সেচ্ছাসেবক নুপুর আক্তার বলেন,সংবাদের শিরোনাম হতে ছেলেটির পাশে দাঁড়াইনি। সম্পূর্ণ সামাজিক দায়বদ্ধতা আর মূল্যবোধ থেকেই এগিয়ে আসা।

‘আমি চাই ক্ষুদ্র সহযোগিতার মাধ্যমে সামাজিক কিছু পরিবর্তন। ভবিষ্যতেও নিজ জায়গা থেকে আরও ঝড়ে পড়া এমন শিশুদের পাশে দাঁড়াতে চাই।’তিনি তার এই কাজে তাকে সহযোগিতা করার জন্য আহ্বান করেন স্থানীয় বিত্তবানদের যাতে এই কাজ তিনি চালিয়ে যেতে পারেন।।

Leave a Reply