Mon. Mar 1st, 2021
Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জাহাঙ্গীর রেজা, স্টাফ রিপোর্টার : নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) হিমাংশু কুমার রায় সে সরকারী চাল আত্মসাতের ঘটনায় পলাতক থাকলেও তার হদিস এখনও পাওয়া যায়নি।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুর হতে দ্বিতীয় পর্যায়ে চার সদস্য তদন্ত টিম উপজেলার খাদ্যগুদামে রক্ষিত খাদ্য শষ্য ওজনের কাজ শুরু করেছে।

তদন্তের আহবায়ক হিসাবে রয়েছেন দিনাজপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আশ্রাফুজ্জামান। তদন্ত টিমের অন্যান্য সদস্যরা হলেন নীলফামারী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, রংপুর সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রন (কারিগড়ি) মোঃ জাকির হোসেন, রংপুর বিভাগের সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রন (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোঃ আনিছুর রহমান।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়শ্রী রানী রায়।
সুত্র মতে তদন্তকারীদল খাদ্যগুদামে যে সকল বস্তায় চাল মজুদ রয়েছে তার প্রতিটি পৃথক-পৃথক ভাবে ওজন করছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, যে বস্তায় ৩০ কেজি ২৭০ গ্রাম ওজন থাকার কথা সেই সকল বস্তায় ২৮ কেজি করে চাল পাওয়া যাচ্ছে ওজনে। বিষয়টি তদন্ত কর্মকর্তা লিপি বদ্ধ করছেন। সুত্র মতে দ্বিতীয় দফায় তদন্তে মজুদকৃত চাল ওজনের পর প্রকৃতভাবে বেড়িয়ে আসবে আত্মসাতের পরিমান কত।

এর আগে প্রথম দফায় গত ৮ জুন/২০২০ তদন্তে প্রাথমিকভাবে ১৮৯ দশমিক ২৭০ মেট্রিক টন চাল এবং ১৩ হাজার ৪২৫টি খালি বস্তা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া যায়। যার বাজার মূল্য প্রায় ৯৩ লাখ টাকা।

সুত্র মতে, প্রাথমিক তদন্তে অনিয়মের বিষয়টি বের হয়ে আসলে খাদ্য গুদামটির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) হিমাংশু কুমার রায়কে সাময়িকভাবে চাকুরী হতে বরখাস্ত করে খাদ্যগুদাম সিলগালা করা হয়। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে ডিমলা থানায় একটি মামলা নং-৮ ও আরেকটি জিডি করা হয়েছে। মামলার বাদী হয়েছেন ডিমলা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জগদীশ চন্দ্র সরকার।

ঘটনার পর থেকে খাদ্যগুদামের চাবি সহ পলাতক রয়েছেন ডিমলা উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) হিমাংশু কুমার রায়। অদ্যাবদী তার কোন সন্ধ্যান পাওয়া যায়নি।

জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৪ জুনে ডিমলা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন হিমাংশু রায়। এর আগে তিনি রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ভেন্ডাবাড়ি খাদ্যগুদামে কর্মরত ছিলেন। সেখানেও নানা অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সুত্র জানা গেছে। তার গ্রামের বাড়ি লালমনিরহাট জেলার কালিগঞ্জ।

একাধিক সুত্র জানায়, চলতি বছরের মার্চ ও মে মাসে দিনাজপুর জেলা খাদ্যগুদাম হতে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খাদ্যগুদামে সরকারী চাল সরবরাহ করা হচ্ছিল। সে সময় উক্ত কর্মকর্তা সেই চাল গুলো ডোমার উপজেলার এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেন। ফলে সেই চাল ডিমলা খাদ্যগুদামে আর প্রবেশ করেনি। মজুদ ঘাটতি হয়ে পড়ায় তিনি বস্তা সহ ৩০ কেজি ২৭০ গ্রাম ওজনের চালের বস্তা তৈরী করার সময় প্রতি বস্তায় ২৮ ও ২৯ কেজি করে তৈরী করেন। সুত্র আরো জানায়, তিনি আত্মসাতকৃত চাল এ ভাবে মেকাপ করার চেস্টা করছিলেন। উক্ত কর্মকর্তা তার এক বন্ধু সহ রংপুর এলাকায় একটি পিকনিক স্পট তৈরী করছেন।

উক্ত বিষয়ে ডিমলা থানার অফিসার ইচার্জ (ওসি) মফিজ উদ্দিন শেখ বলেন, ডিমলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা হিমাংসু কুমার রায়ের বিরুদ্ধে ৯৩ লাখ টাকা মূল্যের চাল ও খালি বস্তা আত্মসাতের অভিযোগের মামলায় আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

Leave a Reply