Mon. Mar 8th, 2021
Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে করোনা নমুনা সংগ্রহ করে কোনো পরীক্ষা না করেই জেকেজি ১৫ হাজার ৪৬০ জনকে করোনার টেস্টের ভুয়া রিপোর্ট সরবরাহ করেছে।

একটি ল্যাপটপ থেকে গুলশানে তাদের অফিসের ১৫ তলার ফ্লোর থেকে এই মনগড়া করোনা পরীক্ষার প্রতিবেদন তৈরি করে হাজার হাজার মানুষের মেইলে পাঠায় তারা। তাদের কার্যালয় থেকে জব্দ ল্যাপটপ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর করোনা টেস্ট জালিয়াতির এমন চমকপ্রদ তথ্য মিলেছে।

জানা গেছে, জেকেজির মাঠকর্মীরা ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সন্দেহভাজন করোনা রোগীদের স্যাম্পল সংগ্রহ করতেন। ওই সময় রোগীদের কাছে ১০টি প্রশ্ন সংবলিত একটি কাগজ দেওয়া হতো।

সেখানে লেখা থাকত ক’দিন ধরে জ্বর, সম্প্রতি বাড়িতে কোনো মেহমান এসেছেন কিনা, শরীর ব্যথা বা ঠোঁট শুকিয়ে যাচ্ছে কিনা, পাতলা পায়খানা হচ্ছে কিনা। ‘হ্যাঁ’ আর ‘না’ সূচক প্রশ্নশিট তারা পূরণ করে নিয়ে আসতেন।

এরপর গুলশানের কার্যালয়ে বসেই ওই প্রশ্নশিট ধরে মনগড়া নেগেটিভ-পজিটিভ করোনা টেস্টের রিপোর্ট তৈরি করে জেকেজি। ১০টি প্রশ্নের মধ্যে যিনি পাঁচটির বেশিতে করোনার উপসর্গ রয়েছে এমন টিক চিহ্ন দিয়েছেন, তাকে কোনো পরীক্ষা ছাড়াই পজিটিভ রিপোর্ট দেওয়া হতো। অন্যদের দেওয়া হতো নেগেটিভ রিপোর্ট।

হানিমুন ট্রিপ :করোনার এই ভুয়া প্রতিবেদন তৈরির বিষয়টি জেকেজির প্রায় সব কর্মীর কাছে ওপেন সিক্রেট ছিল। তারা যাতে বিষয়টি বাইরে প্রকাশ করে না দেন সেজন্য ভিন্ন কৌশল হাতে নেন ডা. সাবরিনা ও তার স্বামী আরিফ। সপ্তাহে ছয় দিন কাজ করার পর একদিন আনন্দ ট্রিপের নামে ঢাকার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে একজন নারী একজন পুরুষ কর্মীকে আলাদাভাবে পাঠানো হতো। এটার নাম দিয়েছিল ‘হানিমুন ট্রিপ’।

এমনকি মহাখালীতে তিতুমীর কলেজের মাঠে জেকেজি যে বুথ স্থাপন করেছিল সেখানে প্রায় প্রতি রাতে মদের পার্টি বসত। জেকেজির কর্মীরা রাতভর সেখানে নাচানাচি করতেন। এ নিয়ে তিতুমীর কলেজের ছাত্রদের সঙ্গে জেকেজির কর্মীদের মারামারির ঘটনা ঘটে।

Leave a Reply