Sat. Mar 6th, 2021
Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আসাদুজ্জামান পাভেল,  ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি : উজানের পাহাড়ী ঢল , সমতলে একটানা বৃষ্টি এবং ভারতের  গজলডোবা ব্রীজ হতে প্রচুর পানি ছেড়ে দেয়ার কারণে ভয়ংকর রূপে ফুঁসে উঠেছে তিস্তা ।

শুক্রবার (১০-জুলাই) দুপুর ১২ টা হতে হু-হু করে নেমে আসতে শুরু করে উজানের ঢল। এতে দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারেজের নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে নিমিষের মধ্যে বেলা ৩টায় বিপদসীমা (৫২.৬০) অতিক্রম করে নদীর পানি ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। সেই  পানি দ্রুতগতিতে বেড়েই চলেছে।পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নীলফামারীর ডালিয়া পরিস্থিতি সামাল দিতে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া  হয়েছে।

তিস্তার করাল গ্রাসে ভেঙে যাচ্ছে রাস্তা-ঘাট, ঘড়বাড়ী

এদিকে ওপারে দোহানী হতে বাংলাদেশের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ভারত কর্তৃপক্ষ তিস্তা নদীতে লাল সংকেত জারী করেছে। উত্তরাঞ্চলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী জ্যোতি প্রসাদ ঘোষ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উজানে ভয়াবহতার কারনে ভারত লালসংকেত জারী করায় বাংলাদেশ অংশের তিস্তা ব্যারাজের উজানের ২০ কিলোমিটার ও ভাটি অংশের ৪৫ কিলোমিটার মোট ৬৫ কিলোমিটার তিস্তা এলাকায়  লাল সংকেত দেখানো হয়েছে। তিস্তা ব্যারেজের কর্মকর্তারা নজরদারীতে মাঠে রয়েছে বলে তিনি জানান ৷

বিলীন হয়ে গেছে ফসলি জমি

এদিকে উজানের ঢলে তিস্তায় চতুর্থ দফায় ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কায় তিস্তা অববাহিকার বিশেষ করে চরবেষ্টিত গ্রামের মানুষজনকে নিরাপদে সরে যেতে বলা হয়েছে। তিস্তাপাড়ের বসবাসকৃত পরিবারগুলো দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার আলোকে তারাও প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র সঙ্গে নিয়ে উঁচু স্থানে সরে যেতে শুরু করেছে বলে জানালেন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ৬ ইউনিয়নেের ( পূবছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, গয়াবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশাচাঁপানী ও ঝুনাগাছচাঁপানী) ইউপি চেয়ারম্যান গন। তারা জানায় তিস্তায় ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। সেই সাথে লোকজন কে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।

ঘর বন্দী সাধারণ মানুষ

ডিমলার কিছামত ছাতনাই, ঝাড়শিঙ্গেশ্বর , চরখড়িবাড়ি,পূর্ব খড়িবাড়ি, পশ্চিমখড়িবাড়ি, তিস্তাবাজার, তেলিরবাজার, বাইশপুকুর, ছাতুনামা, ভেন্ডাবাড়ি এলাকার পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় সেখানকার মানুষজন গবাদী পশু সহ প্রয়োজনিয় জিনিসপত্র নিয়ে নিরাপদে সরে আসছে।টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ময়নুল হক জানান, পরিস্থিতি ভাল না। এবার ভয়ংকর বন্যা হতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। খগাখড়িবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিথন জানান দুপুরের পর হতে প্রচন্ড ভাবে বৃষ্টি হওয়ায় তিস্তা এলাকায় সরকারীভাবে ৬টি নৌকা সহ অসংখ্য নৌকা বন্যা কবলিত মানুষজন সহ তাদের গৃহ পালিত পশু সরিয়ে নিতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। নীলফামারীর ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যাপূর্বাভাস ও সর্তকীকরন কেন্দ্র সুত্রে,এবার ১০ জুলাই শুক্রবার দুপুর ১২ টা থেকে উজানের পানি বেড়ে গেলে ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপরে চলে আসে। তিনঘন্টা পর উজানের ঢল আরো ১০ সেন্টিমিটার বেড়ে যায়। এতে বিপসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হলেও প্রচন্ডভাবে উজানের ঢল ধেয়ে আসায় হু-হু করে পানি বেড়েই চলেছে।ডিমলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়শ্রী রানী রায় বলেন, আমরা সর্বাত্তক সতর্ক রয়েছি , জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তিস্তার চর  এলাকার  পরিবারগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।                        

আপনার এলাকার খবর জানাতে ফোন করুন-01719203758

Leave a Reply