Thu. Feb 25th, 2021
Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিভিন্ন অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগে রাজধানীর ডেমরায় একটি হাসপাতাল সিলগালা করে ভুয়া চিকিৎসকসহ তিনজনকে কারাদণ্ড ও জরিমানা করেছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজাপ্রাপ্তরা হলেন এসএইচএস হেল্থ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক্সের চেয়ারম্যান (ভুয়া চিকিৎসক) মো. শওকত হোসেন সুমন, ল্যাব টেকনোলোজিস্ট অসীম মন্ডল এবং ফার্মাসি ইনচার্জ মো. কাঁকন মিয়া।

র‌্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসুর নেতৃত্বে গতকাল রোববার বিকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত হাজীনগরের এস.এইচ.এস হেলথ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক্সে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় হাসপাতালের মালিক গ্রেফতার শওকত হোসেন সুমনকে ২ লাখ টাকা জরিমানা ও ২ বছরের জেল অনাদায়ে আরও ২ মাসের কারদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া ল্যাব টেকনোলজিস্ট অসীম মণ্ডলকে ভুয়া রিপোর্টে সহযোগিতা করায় ১ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৩ মাসের জেল দেয়া হয়। ফার্মেসি পরিচালক মো. কাকন খানকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া সরকার নিষিদ্ধ ওষুধের বড় চালানসহ, যৌন উত্তেজক ওষুধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ বিভিন্ন ওষুধ জব্দ করা হয়।

অভিযানের বিষয়ে র‍্যাব জানায়, ওই হাসপাতালে কর্মরত ১২ চিকিৎসকের বেতন না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা অভিযোগ করেন। সাখাওয়াত হোসেন সুমনকে দুই বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অন্যদেরও বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

গণমাধ্যমকে র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ বসু জানান, এসএইচএস হেলথ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল সেন্টারে অভিযান চালিয়ে সিলগালা করা হয়েছে। নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে এটি পরিচালনা করতেন এর মালিক সাখাওয়াত হোসেন সুমন। তিনি রোগী দেখা অবস্থায় আমরা সেখানে অভিযান চালাই। অভিযানে তিনি আমাদের চিকিৎসা সনদ, শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো প্রমাণই দেখাতে পারেননি। তবে তার চেম্বারে সিল, প্যাড, ভিজিটিং কার্ড এসব পাওয়া গেছে। চিকিৎসায় অবদানের জন্য বিভিন্ন ক্রেস্ট, টেলিভিশন টক শোতে অংশগ্রহণের সনদও রয়েছে তার। 

তিনি আরো জানান, সুমন নিজেকে চর্ম ও যৌন বিশেষজ্ঞ বলে পরিচয় দিতেন। রোগীদের বিভিন্ন নমুনার পরীক্ষা না করেই রিপোর্ট দিতেন। এক বছর আগে তার হাসপাতালের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ অক্সিজেন সিলিন্ডার, কার্বন ডাই অক্সাইডের সিলিন্ডারকে অক্সিজেন সিলিন্ডারে রূপান্তরসহ নানা অনিয়ম পাওয়া গেছে। 

র‍্যাবের এ ম্যাজিস্ট্রেট আরো জানান, তার হাসপাতালে ১২ জন চিকিৎসক আছেন জানালেও আসল চিকিৎসক মাত্র একজন। তাদের বেতনও ঠিক মতো দেওয়া হচ্ছিল না। তখন তারা র‍্যাবে অভিযোগ দেন। এ ছাড়া তার ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদন নেই এমন ওষুধ বিক্রি হচ্ছিল।

এসময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেরর কর্মকর্তা ডা. দেওয়ান মো. মেহেদি হাসান ও ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক। 

Leave a Reply