Thu. Feb 25th, 2021
Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

কুমিল্লার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে ১৯ ক’রোনা রো’গীর চিকিৎসা খরচ বাবদ স’রকারের কাছে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার বিল করা হয়েছে। এএফসি হেলথ ফরটিস হার্ট ইনস্টিটিউট হাসপাতালের করা এ বিলটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অস্বাভাবিক এ বিল জে’লা স্বা’স্থ্য বিভাগের নজরে আসায় স’রকারের দুটি দফতরে আ’টকে গেছে।Advertisements

হাসপাতালটি ২২ দিনে ১৯ জন ক’রোনা রো’গীর চিকিৎসা বাবদ ১২ লাখ ৭৫ হাজার ৬৩৬ টাকা এবং ওই হাসপাতালের আইসিইউসহ অন্যান্য স্থাপনা বাবদ ৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা স’রকারকে যদি পরিশোধ করতে হয় তাহলে প্রতি রো’গীর জন্য খরচ দাঁড়াবে ২৯ লাখ টাকার ও’পরে। এ ধরনের খরচ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন জে’লা স্বা’স্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।

জে’লা স্বা’স্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, লিখিত কিংবা মৌখিক কোনো চুক্তি না থাকলেও কুমিল্লা শহরতলীতে অবস্থিত এএফসি হেলথ ফরটিস হার্ট ইনস্টিটিউটে ১৯ জন ক’রোনা রো’গীর চিকিৎসা বাবদ ১৩ লাখ টাকার বিল দাখিল করা হয়েছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের কাছে। এছাড়াও সেখানে আইসিইউসহ আনুসঙ্গিক স্থাপনা বাবদ খরচে স্বা’স্থ্য অধিদফতরে ৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা বিল দাখিল করা হয়েছে। স্বা’স্থ্য অধিদফতরে মোটা অংকের বিল দাখিল অনেকটা গো’পনে করা হলেও কুমিল্লা সিভিল সার্জনের কাছে এ বি’ষয়ে মতামত চাওয়ায় বি’ষয়টি ফাঁ’স হয়ে যায়।

এ বি’ষয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুজিবুর রহমান জানান, জে’লা ক’রোনা প্রতিরোধ বি’ষয়ক মাল্টি সেক্টর কমিটি ক’রোনা রো’গীদের চিকিৎসার জন্য বেস’রকারি এএফসি হেলথ ফরটিস হার্ট ইনস্টিটিউটকে অধিগ্রহণ করেছিল। ক’রোনাকালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপনের আগ পর্যন্ত সেখানে গত ১০ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত ১৯ জন ক’রোনা রো’গীকে চিকিৎসা দেয়া হয়। এর মধ্যে চারজন রো’গী মা’রা যান। অপর ১৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

তিনি জানান, এসব রো’গীর চিকিৎসা ব্যয় বাবদ আমাদের কাছে (কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বরাবর) ১৩ লাখ টাকার বিল দাখিল করে এএফসি হেলথ ফরটিস হার্ট ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও ইনস্টিটিউটটিকে ক’রোনা রো’গীদের চিকিৎসা উপযোগী করে তুলতে আইসিইউসহ আনুসঙ্গিক স্থাপনা বাবদ ৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা খরচ দেখিয়ে স্বা’স্থ্য অধিফতরে বিল দাখিল করেছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

তিনি আরও জানান, এএফসি হেলথ ফরটিস হার্ট ইনস্টিটিউট ২২ দিনে যে ১৯ জন রো’গীর সেবা দিয়েছে তাদের ও’ষুধ, পথ্য ও ডাক্তার-নার্সসহ যাবতীয় চিকিৎসা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে দেয়া হয়েছে। ৩ জুন কুমেক হাসপাতালে ক’রোনা ইউনিট চালুর সময় এএফসি হেলথ ফরটিস হার্ট ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তখন সদর আসনের সং’সদ সদস্য হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার তাদেরকে জানিয়ে দেন- ক’রোনা প্রতিরোধে জে’লা স্বা’স্থ্য কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের আইসিইউ ব্যবহার করা হয়েছে। মানবতার সেবা দেয়ায় তাদেরকে ধন্যবাদ জানানো হয় এবং বলা হয় স’রকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনো বিল দেয়ার কথা হয়নি বা চুক্তিও হয়নি। বি’ষয়টি এখানেই শেষ।

ডা. মুজিবুর রহমান জানান, এছাড়াও এএফসি হেলথ ফরটিস হার্ট ইনস্টিটিউটে ক’রোনা চিকিৎসার সময় চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের বেতন সং’সদ সদস্য হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার দিয়েছেন। কিন্তু ফরটিস হার্ট ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ রো’গীদের সেবা বাবদ ১২ লাখ ৭৫ হাজার ৬৩৬ টাকা ও আইসিইউসহ আনুসঙ্গিক স্থাপনা বাবদ ৫ কোটি ৪১ লাখ টাকার বিল দাখিল করেছে। যা একেবারেই অস্বাভাবিক ও অগ্রহণযোগ্য।

হাসপাতালটির হার্ট ইনস্টিটিউটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কনসালটেন্ট কার্ডিওলোজি ডা. সাঈদ আহমেদ জানান, আমরা ১৯ জন ক’রোনা রো’গীকে চিকিৎসা দিয়েছি। এদের মধ্যে চারজন রো’গী মা’রা গেছেন। এদের চিকিৎসা, থাকা, ও’ষুধপত্র বাবদ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাবদ ১২ লাখ ৭৫ হাজার ৬৩৬ টাকার বিল কুমেক হাসপাতালের পরিচালকের নিকট জমা দেয়া হয়েছে।

এ বি’ষয়ে সিভিল সার্জন ডা. মো. নিয়াতুজ্জামান বলেন, হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নেয়া ১৯ রো’গীর ও’ষুধসহ ডাক্তার-নার্সদের সুরক্ষা সরঞ্জাম সব আমরা দিয়েছি। যারা চিকিৎসা দিয়েছে তাদেরকে কুমিল্লা ক্লাব ও ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে রেখেছি। কিন্তু স্বা’স্থ্য অধিদফতরে ফরটিস হার্ট ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষের ৫ কোটি ৪৮ লাখ ৪৬ হাজার ৫৮৭ টাকা আর্থিক অনুদান দাবি ও একই রো’গীদের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে গত ৯ জুন সেখাকার কনসালটেন্ট ডা. সৈয়দ আহমদ ও ডা. মো. রাসেল আহমেদ চৌধুরীর আরও ১২ লাখ ৭৫ হাজার ৬৩৬ টাকার বিল জমা দেয়ার বি’ষয়টি অত্যন্ত অযৌক্তিক।

Leave a Reply