Mon. Apr 19th, 2021
Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিদেশগামীদের কাছে ভুয়া ‘করোনা নেগেটিভ’ সনদ বিক্রি করা সিলেটের সেই চিকিৎসক শাহ আলম করোনায় আক্রান্ত। প্রতারণার দায়ে গ্রেফতার হয়ে চার মাসের সাজা পাওয়ার একদিনের মাথায় ওই চিকিৎসকের শরীরে দ্বিতীয় দফায় করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় ডা. শাহ আলমের করোনা শনাক্তের তথ্য ওসমানী মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার পরিচয় দিয়ে (সরকারি চিকিৎসকের ভুয়া পদবি) করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা না করেই ভুয়া করোনা নেগেটিভ সনদ প্রদানের অভিযোগ ওঠে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। রোববার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার হন তিনি। শনিবার (১৮ জুলাই) তার শরীরের নমুনা সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালের ল্যাবে পরীক্ষার জন্য দিলে সোমবার (২০ জুলাই) রাতে পরীক্ষার রিপোর্ট ‘পজিটিভ’ আসে।

এর আগে গত ১৩ জুলাই প্রথমবার করোনা পরীক্ষায় ডা. শাহ আলমের করোনা শনাক্ত হয়। করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পরও তিনি নগরের মধুশহীদ এলাকায় ঢাকার ডায়াগনস্টিক সেন্টার মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেডের নিচ তলায় রোগী দেখতেন। এছাড়া বিদেশগামী যাত্রীদের কাছে ভুয়া ‘করোনা নেগেটিভ’ সনদ বিক্রি করে আসছিলেন।

শাহ আলম করোনা রোগী হয়েও প্রতিদিন চেম্বারে রোগী দেখেন। একজন চিকিৎসকের এমন আচরণে আতঙ্কের পাশাপাশি তাকে নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে এখন সর্বত্র। চরম উৎকণ্ঠায় আছেন তার সংস্পর্শে আসা মানুষজন।

উল্লেখ্য, গত ১৯ জুলাই (রোববার) টাকার বিনিময়ে করোনাভাইরাসের ভুয়া নেগেটিভ সনদ দেয়া, নিজে করোনায় আক্রান্ত হয়েও চেম্বারে রোগী দেখা এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচয় ব্যবহার করার অপরাধে ডা. এ এইচ এম শাহ আলমের চেম্বারে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়ে অভিযান চালায় র‍্যাব-৯ এর একটি দল। এ সময় তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং চার মাসের জেল ও এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও একমাসের সাজা দেয়া হয়। এরপর কোতোয়ালি থানা পুলিশের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।সাজা প্রদানের পর সিলেট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুনন্দা রায় বলেছিলেন, ডা. শাহ আলমকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তিনি তার অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন।

Leave a Reply