Sat. Apr 17th, 2021
Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

প্রথম দফা বন্যার রেশ কাটতে না কাটতে অতিবৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পরপর দুই দফা বন্যায় রংপুরের পাঁচ জেলার ৬ হাজার ১৭২ দশমিক ২৪ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এর আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬৯ কোটি ৪৫ লাখ ৬৬ হাজার ৫৯৪ টাকা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৮৯ হাজার ৮২৭ জন কৃষক। রংপুর কৃষি বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে দফায় দফায় বন্যায় দিশাহারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য কৃষি বিভাগ নাবি জাতের আমনের কমিউনিটি বীজতলা, ভাসমান বীজতলা তৈরিসহ কৃষি উপকরণ সরবরাহের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার হাড়িভাঙা মৌজার মাঝাপাড়া গ্রামের কৃষক কেশরী মোহন রায়। প্রথম দফার বন্যায় ফসল রক্ষা পেলেও এবারের বন্যায় এক একর রোপা আমনের জমির জন্য প্রস্তুত করা বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, স্বর্ণা এবং গুটি স্বর্ণা জাতের ৩০ কেজি ধানের বীজতলা তৈরি করেছিলাম। কিন্তু বন্যায় বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চারা কিনতে হবে। তবে ওই এলাকার বর্গাচাষী বিপুল চন্দ্রের অবস্থা আরো খারাপ। দুই দফা বন্যায় রোপা আমনের ৩১ শতকের বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, প্রথম বন্যায় নিচু জমিতে থাকা বীজতলা নষ্ট হয়। এবার অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিতে থাকা বীজতলাও নষ্ট হয়েছে।

গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলার মানুষের মূল পেশা কৃষিকাজ। সাতটি ইউনিয়নের চারটিই চর। এছাড়া বাকি তিনটি ইউনিয়নে কমবেশি চর রয়েছে। অধিকাংশ কৃষকই প্রথম ও দ্বিতীয় দফার বন্যায় চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এদের একজন কৃষক এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়েনের চর হরিচণ্ডী গ্রামের বাসিন্দা মো. আবু শাসীম মণ্ডল। পারিবারিকভাবে তাদের আবাদকৃত প্রায় ৪০ বিঘা (৩৩ শতকে ১ বিঘা) জমির আউশ ধান ও ২০ বিঘা জমির আবাদকৃত পাট বন্যায় নষ্ট হয়েছে।

তিনি বলেন, সাত থেকে ১০ দিন সময় পেলে জমির আউশ ধান রক্ষা করতে পারতাম। জমির পাট গাছগুলো পানির তলে দীর্ঘদিন থাকায় গাছের চারদিকে শিকড় গজিয়েছে। আমাদের ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা দিশাহারা হলেও স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে সহযোগিতার আশ্বাস তো দূরের কথা যোগাযোগই করা হচ্ছে না। রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ১০-২৬ জুলাই পর্যন্ত অতিবৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সৃষ্ট বন্যায় রংপুর অঞ্চলে ৬ হাজার ১৭২ দশমিক ২৪ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে আমন বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৭৭৯ দশমিক ৮৯ হেক্টর। ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য ফসলের জমির মধ্যে রয়েছে—রোপা আমন ১১০ দশমিক ৭৪ হেক্টর, আউশ ২ হাজার ৭৩৭ দশমিক ৪৭ হেক্টর, শাকসবজি ২৫১ দশমিক ২১ হেক্টর, ভুট্টা ১৬ হেক্টর, মরিচ ৬৫ হেক্টর, তিলের ৪০ হেক্টর, চীনাবাদাম ১০ হেক্টর এবং পাটের জমি ২ হাজার ১৬১ হেক্টর।

রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলার মধ্যে বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় কুড়িগ্রাম। এ অঞ্চলের মোট ক্ষতির প্রায় ৯০ ভাগই হয়েছে এ জেলায়। ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ ৪ হাজার ৮৫১ দশমিক ১ হেক্টর।

এদিকে প্রথম দফা বন্যায় (২০ জুন থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত) রংপুর অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ ৮ হাজার ২৯১ হেক্টর, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ হচ্ছে ১০৩ কোটি টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা হচ্ছে ৮২ হাজার ২৫২।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে সহযোগিতার জন্য সরকার নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এবারে প্রথম ট্রেতে বীজতলা তৈরির জন্য কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। ৩৬৮ কৃষকের প্রত্যেককে এক বিঘা জমির জন্য চারা উৎপাদনে ২৬টি করে ট্রে দেয়া হবে। এতে যেমন তারা চারা পাবেন, পাশাপাশি প্রযুক্তিটি তারা শিখবেন। এছাড়া দুর্গত এলাকায় ২২১ একর আপত্কালীন কমিউনিটি বীজতলা এবং ৫০০ ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে সহযোগিতার জন্য।

সূত্র-বণিক বার্তা

Leave a Reply