Fri. Apr 23rd, 2021
Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার রায়টুটী ইউনিয়নের কানলা গ্রামে বাবার বাড়ি বেড়াতে এসে গত ১৫ আগস্ট খুন হন গৃহবধূ আকলিমা আক্তার (২০)। ঘটনার চার দিন পর জানা যায়, আপন ভাই মোতাহার হোসেন ঘুমন্ত আকলিমাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে ।

বুধবার কিশোরগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম রফিকুল বারীর আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে মোতাহার স্বীকার করে, প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ছোট বোনকে সে খুন করেছে।

ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুর্শেদ জানান, আদালতে মোতাহার বোনকে খুনের রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে। জবানবন্দিতে সে জানিয়েছে, বোন আকলিমাকে একই গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে মাসুক মিয়া বিয়ে করতে চেয়েছিল। কিন্তু তার পরিবার মাসুকের বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। এতে মাসুক জোর করে আকলিমাকে বিয়ের হুমকি দেয়। এমন পরিস্থিতিতে বছরখানেক আগে তাড়াইল উপজেলার বরুহা বড়হাটি গ্রামের ফুফাতো ভাই জিন্নত আলীর সঙ্গে আকলিমাকে বিয়ে দেন তারা। এর জেরে গত বৈশাখ মাসে জমির ধান কাটার সময় মাসুক ও তার লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় মোতাহারের ভগ্নিপতি বকুল গুরুতর আহত হন। তার একটি পা পঙ্গু হয়ে যায়।

জবানবন্দিতে মোতাহার আরও জানায়, ওই ঘটনার পর সে রিকশা চালানোর জন্য ঢাকায় চলে যায়। গত কোরবানির ঈদের আগে মাসুক মিয়াকে শায়েস্তা করার পরিকল্পনা করে। এ জন্য ঢাকা থেকে বাড়িতে আসার সময় ঘুমের ওষুধ নিয়ে আসে। ঈদের পর ছোট বোন আকলিমা ও ভগ্নিপতি জিন্নত আলীকে তাদের বাড়িতে দাওয়াত করে। গত ১৪ আগস্ট স্বামীকে নিয়ে আকলিমা বাবার বাড়ি বেড়াতে আসেন। পরদিন রাত ৯টার দিকে মোতাহার কৌশলে একটি জগের পানিতে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে আকলিমা ও জিন্নত আলীকে খেতে দেয়। সেই পানি খেয়ে দু’জনই গভীর ঘুমে তলিয়ে যায়। রাত ১১টার দিকে মোতাহার ঘরে থাকা একটি শাবল নিয়ে আকলিমা ও তার স্বামী যেখানে শুয়েছিল, সে ঘরে সিঁধ কেটে আবার নিজের ঘরে চলে যায়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে মোতাহার ঘরে থাকা চাকু দিয়ে আকলিমার বুকের বাম পাশে পর পর দুটি আঘাত করে বের হয়ে যায়। এ সময় আকলিমার আর্তচিৎকারে বাড়ির অন্য সদস্যরা দ্রুত ছুটে আসেন। তাদের সঙ্গে মোতাহারও আসে। বারান্দায় নিয়ে আকলিমার মাথায় পানিও ঢালে মোতাহার। এর কিছুক্ষণ পরই আকলিমা মারা যান।

Leave a Reply