Fri. Apr 23rd, 2021
Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পওর বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কোহিনুর আলমকে অবশেষে শাস্তিমূলক বদলী করা হয়েছে। এর আগে দুই দফা বদলী করা হলেও অদৃশ্য খুটির জোরে রাজশাহীতেই থেকে গিয়েছিলেন তিনি।

কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তের পর সর্বশেষ ২০ আগস্ট পাউবো সদর দফতরের উপ-সচিব (প্রশাসন) সৈয়দ মাহবুবুল হক স্বাক্ষরিত এক আদেশ তাকে বদলি করা হয়। ওই আদেশে বলা হয়, তিন কর্মদিবসের মধ্যে নির্বাহী প্রকৌশলী কোহিনুর আলমকে বাপাউবোর আইসিজেড ঢাকায় নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) হিসেবে যোগদান করতে হবে।

পাউবোর মহপরিচালকের অনুমোদনক্রমে এই বদলীর আদেশ জারি করা হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। সে অনুযায়ী সোমবার তার যোগদানের কথা। তবে প্রাপ্ত তথ্যমতে যোগদান না করে আবারো বদলি ঠেকাতে তৎপরতা শুরু করেছেন। তিনি রাজশাহী অফিসের গাড়ি নিয়েই ঢাকায় বর্তমানে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

পাউবো সূত্র জানায়, বদলী আদেশের পর কর্মস্থলের গাড়ি ব্যবহারের অনুমতি না থাকলেও তিনি গাড়ি ব্যবহার করে এখন ঢাকার বদলি আদেশ ঠেকাতে তৎপরতা শুরু করেছেন। এর আগেও একই কাণ্ড ঘটিয়েছেন প্রকৌশলী মো. কোহিনুর আলম।

অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে স্থানীয় একটি সিন্ডিকেটকে হাত করে যা ইচ্ছে তাই করে যাচ্ছিলেন রাজশাহী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী কোহিনুর আলম। কর্মচারি পেটানো থেকে শুরু করে ঠিকাদারদের সঙ্গে অনৈতিক লেনদেন, বেপরোয়া আচরণ, বিভিন্ন কাজের ওয়ার্ক অর্ডারে জালিয়াতি ছাড়াও তার বিরুদ্ধে প্রাক্কলনে জালয়াতি এবং ই-টেন্ডারিয়ে টেম্পারিং করে অবৈধভাবে দর প্রদানের মাধ্যমে পূর্ব নির্ধারিত ঠিকাদারকে কাজ প্রদানের অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, কোহিনুর আলমের অনৈতিক কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ অধিনস্ত ঠিকাদার, কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা। সর্বশেষ বদলির আদেশে রাজশাহী পাউবোর সংশ্লিষ্টরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। রাজশাহী পাউবোর ঠিকাদাররা জানান, কোহিনুর আলম গত ৬ মাস ধরে রাজশাহী পওর বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। রাজশাহীতে যোগদানের পর থেকে নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এর আগে একাধিকবার বদলি করা হলেও বদলি ঠেকিয়ে রাজশাহীতেই থেকে যান কোহিনুর।

পানি উন্নয়ন বোর্ড রাজশাহীর ঠিকাদার সমিতির কার্যকরি কমিটির উপদেষ্টা আসাদুল্লাহ ও সদস্য নূর-ই-আলম সিদ্দিকি জানান, প্রকৌশলী কোহিনুর আলম সরকার ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তি খুন্ন করেন। কোনো কাজের জন্য গেলে ঠিকাদাররা তার দফতরে প্রবেশ করতে পারেন না। ঠিকাদাররাও তার অপসারণ চান।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এর আগে কোহিনুর আলম ২০০৫ সালে বাপাউবোতে যোগদানের পর চাঁপাইনববাগঞ্জ ও বগুড়ায় উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তখনও তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠে। পরবর্তিতে তিনি সাতক্ষীরা ও ফেনীতে দায়িত্ব পালনকালেও নৈরাজ্য সৃষ্টি করেন। শান্তিস্বরুপ তাকে একাধিকবার ঢাকায় ক্লোজড করাও হয়। এরপর ক্ষমতার দাপট ও বোর্ডে ভুল তথ্য দেখিয়ে তিনি চলে আসেন রাজশাহীতে। এরপর নৈরাজ্যের কারণে চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি তাকে পুনরায় শান্তিমুলক ঢাকা সিইআইপিতে বদলী করা হয়। তবে আবারো অদৃশ্য খুটির জোরে তার বদলি আদেশ স্থগিত করে রাজশাহীতেই থেকে যান।

আর বদলি আদেশ স্থগিতের পর রাজশাহী এসে আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠেন তিনি। এবার অধিনস্ত কর্মীচারীদের লাঞ্চিত করার অভিযোগ উঠে। এ প্রেক্ষিতে অধিনস্ত কমচারিরা নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শণ ও অপসারন দাবি করেন। পাউবো রাজশাহীর পওর সার্কেলের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কাছেও একাধিক অভিযোগ করেছেন কর্মচারিরা।

রাজশাহী চেম্বারের সাবেক পরিচালক জামাত খান বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী কোহিনুর আলম রাজশাহীতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই দরপত্রে অনিয়ম, অনৈতিক কর্মকান্ড ও স্বেচ্ছাচারি হয়ে উঠেন। তিনি বলেন, বারবার বদলি করা হলেও তিনি তা ঠেকিয়ে আবার ফিরে আসেন। এবার যেন তেমন না হয় এ নিয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, শুধু বদলি নয়, তার অপকর্মের জন্য উচ্চ পর্যায়ের তদন্তপূর্বক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

সার্বিক বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী কোহিনুর আলমের সঙ্গে মোবাইলে যোগযোগ করা হলে তিনি মিটিংয়ে রয়েছেন বলে এসব বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পাউবো রাজশাহী পওর সার্কেলের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমানও এ বিষয়ে ফোনে কোন কথা বলতে রাজি হননি।

Leave a Reply