Tue. Apr 13th, 2021
Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিশেষ প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডিমলায় শালহাটি ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও দুজন সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে মাদ্রাসাা সংলগ্ন বসবাসরত ইদ্রিস আলীর(৫০) স্ত্রী আমেনা বেগম(৪৫) কে অপহরণ করে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে মামলা, একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র এবং মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন ঘটনা বলে দাবি করেছেন মাদ্রাসার সভাপতি, ম্যানেজিং কমিটির সদস্যগন ও এলাকাবাসী।

শনিবার(৫ সেপ্টেম্বর)ডিমলার ৬ নং নাউতারা ইউনিয়নের শালহাটি ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোবারক হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ ও আলোচনা সভায় মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ সিরাজুল ইসলাম এ মিথ্যা ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং প্রতিকার দাবি করেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন শালহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রেজাউল ইসলাম , মাদ্রাসার অন্যান্য শিক্ষকগণ, মাদ্রাসা কমিটির সদস্য, জেলা পরিষদ স্কুল এন্ড কলেজের প্রভাষক ও ভোরের কাগজের উপজেলা প্রতিনিধি সরোয়ার জাহান সোহাগ,দেশবানী নিউজের সম্পাদক রুবেল পারভেজ, প্রভাষক জুয়েল রানা, এলাকার সর্বস্তরের জনগণ।

তিনি বক্তব্যে বলেন, বাদী ইদ্রিস আলীর বাড়ি এই মাদ্রাসা সংলগ্ন এবং মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির একজন সদস্য হওয়ায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে তার স্ত্রী আমেনা বেগম ও তার বড় ছেলে রবিউল ইসলাম কে মাদ্রাসার অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য বিভিন্ন চেষ্টা, তদবিরের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়ার পায়তারা করে আসছিলেন।কিন্তু তার এই উদ্দেশ্যে অসফল হওয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। বিভিন্ন সময় মাদ্রাসার শিক্ষকদের উস্কানি মূলক কথা বার্তা ও গালিগালাজ করে আসছিলেন।

তিনি অভিযোগ করেন, এই ঘটনার পর কোনো কারণ ছাড়াই গত ৪ জুন এলাকার কিছু কুচক্রি মহলের প্ররোচনায় অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে ইদ্রিস আলী তার স্ত্রী আমেনা বেগম কে অন্যত্র সড়িয়ে ঐ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ (১)মোঃ আবুল হামিদ(৪৫), সহকারী শিক্ষক (২)মোঃ খয়রাত হোসেন(৪৮) ও(৩) মোঃ তহিদুল ইসলাম (৪৭) গনকে আসামি করে জলঢাকা থানায় একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন(সং/০৩ এর ৭/৩০ ধারায় মামলা দায়ের করেন(মামলা নং-২৬)। যা সম্পুর্ন বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে শালহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রেজাউল ইসলাম বলেন এটি একটি মিথ্যা বানোয়াট উদ্দেশ্যে প্রনোদিত মামলা। আমি ঐ শিক্ষকগনকে ভালোভাবে চিনি ও জানি তারা কখনই অসামাজিক কোনো কাজে লিপ্ত ছিলেন না। আমি এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি এবং সঠিক তদন্ত করে ষড়যন্ত্রকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার জন্য কর্তপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

ঐ এলাকার ইউপি সদস্য বলেন ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।

এছাড়া এলাকবাসী অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ একজন ভালো মানুষ। মাদ্রাসায় ইদ্রিস আলীর স্ত্রী ও ছেলের চাকরি না হওয়ায় প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে তাদের নামে মামলা দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে মামলার বাদী ইদ্রিস আলীর কাছে উক্ত মামলা ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, উক্ত মামলার ১ নং আসামি অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ আমার স্ত্রী ও ছেলে কে শালহাটি ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসায় চাকরি দেওয়ার কথা বলে ৩ লক্ষ টাকা নেয়। পরবর্তীতে তাদের চাকরি হয়নি এবং আমার টাকাও ফেরত দেয়নি। আমি বারবার টাকা ফেরত চেয়েও ব্যার্থ হই।

তিনি অভিযোগ করেন এমতাবস্থায় গত ২০/০৮/২০২০ ইং তারিখ আনুমানিক বিকাল ৩ ঘটিকায় ২ ও ৩ নং আসামি আমার বাড়িতে এসে আমার স্ত্রী আমেনা বেগম কে বলেন অধ্যক্ষ স্যার (১নং আসামি) আপনাদের চাকরির কাগজ পত্র ঠিক করেছেন। উক্ত কাগজ পত্র নিয়ে আপনার( আমেনা বেগম) জন্য তিনি খয়েজ উদ্দিন এর পুলের উত্তরে ৩০০ গজ দূরে অপেক্ষা করতেছেন । আপনাকে আমাদের সাথে যেতে হবে। আমার স্ত্রী আমেনা বেগম সরল বিশ্বাসে তাদের সাথে রওনা দেন। এরপর থেকে আমার স্ত্রী কে আর খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমার ধারণা আসামীগন আমার স্ত্রী কে কোনো অজ্ঞাত জায়গায় লুকিয়ে রেখে তার ইজ্জতের ক্ষতি সাধন করেছে।

Leave a Reply