Tue. Apr 13th, 2021
Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


নীলফামারী প্রতিনিধিি-
নীলফামারীতে ভারত থেকে আসা কাঁচা মরিচ কেজিতে ১০০ টাকা কমলেও বেড়েছে সবজির দাম। জেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, আমদানী মরিচে সয়লাম। তবে দেশী মরিচের দেখা মিলেনি।
গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে জেলার পাইকারী বাজারে মরিচের দাম কমেছে কেজিতে ১০০ টাকা। এর আগে প্রতিকেজি মরিচ খুচরা বাজারে বিক্রি হয়েছে ২৪০-২৫০ টাকায়।
বর্তমানে খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৬০-২০০ টাকা। তবে আড়তদার বলছেন, প্রতি কেজি মরিচ পাইকারী ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ অতি বৃষ্টি আর বন্যার দোহাই দিয়ে এক শ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ী মরিচের বাজার আকাশচুম্বি করেছে। পাইকারী বাজার থেকে খুচরা বাজারের যাওয়ার সাথে সাথে দ্ধিগুন দামে বিক্রি করছেন তারা।


ওই মার্কেটের খুচরা ব্যবসায়ী ইলিয়াস আহমেদ জানান, আড়ত থেকে ৫ কেজি মরিচ কিনলে পচা বেড় হয় আধা কেজি, আবার খুচরা বিক্রিতে ভোক্তাদের একটু বেশী দিতে হয়, বিক্রি না হলে ঘাটতি হয় নানা কারনে ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে মরিচের আমদানী বাড়লে ১০০-১২০ টাকা বিক্রি করা যাবে।
জেলা কৃষি সম্প্রারন অধিদপ্তর জানায়, ২০১৯-২০ চলতি খরিপ-১ মৌসুমে ৪১৬ হেক্টর জমিতে কাঁচা মরিচের চাষ করা হয়। আর রবি মৌসুমে ১ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। এতে দুই মৌসুমে ফলন হয়েছে ৪ হাজার ১৫৩ মেট্রিকটন।
অনুকুল আবহাওয়া আর ভাল দাম পাওয়ায় চাষিরা মরিচ চাষের ওপর ঝুঁকে পড়েছে। আগামীতে আরও বেশী চাষ করার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন অনেকেই। এই মৌসুমে চাষিরা তাদের উৎপাদিত মরিচ বিভিন্ন আড়তে কেজি প্রতি ১৭০-১৮০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। আবার খুচরা ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন হাট বাজার সহ ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করছেন ২৪০-২৫০ টাকায়।
জেলা শহরের কিচেন মার্কেটে সবজি কিনতে এসে কথা হয়, নিউবাবু পাড়ার মিঠুন রায়ের সাথে তিনি জানান, ভারতীয় মরিচ এসে স্বস্তি ফিরে পেয়েছে ভোক্তারা, কিন্তু স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সবজির বাজার একেবারে নাগালের বাহিরে।
তিনি বলেন, এক সপ্তাহের ব্যবধানে এমন কি হলো, ৪০ টাকার পেঁয়াজ কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৫০ টাকায় কিনতে হলো। প্রকার ভেদে আলু প্রতি কোজ ১০ টাকা বেড়ে ৪০ টাকা, কচুর বই (সজি) ৫ টাকা বেড়ে ২৫ টাকা, ৪০ টাকার পোটল ১০ টাকা বেড়ে ৫০ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০ টাকা, ঢেঁরস ৫ টাকা বেড়ে ৩০ টাকা, ঝিঙ্গা ৪৫ টাকা যা গত সপ্তাহে ছিল ৩২ টাকা, ৩৬ টাকার মুলা ৪ টাকা বেড়ে ৪০ টাকা, প্রকার ভেদে বেগুন ১০ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ টাকা যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০ টাকা।
এদিকে, প্রতিকেজি রসুন ১১০ টাকা যা গত সপ্তাহে ছিল ৯০ টাকা, আদা প্রতিকেজি পাইকারী ১০০ আর খুচরা বিক্রি ১২০ টাকা। করল্যা ১০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা, শুকনা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকা যা গত সপ্তাহে ছিল ২২০ টাকা, শসা ১০ টাকা বেড়ে ৪০ টাকা, লাউ প্রতিপিচ ১০ টাকা বেড়ে ৩০ টাকা, কাঁচকলা ৫ টাকা বেড়ে প্রতিহালি ২৫ টাকা ও কাঁচা।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুল হাসান জানান, চাষিরা তাদের উৎপাদিত মরিচের ভাল দাম পাওয়ায় অনেকেই মরিচ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তবে গত বছরের তুলনায় এবার মরিচের আবাদ কম হওয়ায় ও চাহিদার তুলনায় সরবারহ কম দামও বেশী।
নীলফামারী সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. এলিনা আক্তার জানান, বাজারে কাঁচা মরিচের দাম স্থীতিশীল রাখতে নিয়মিত মনিটারিং করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply