Sun. Apr 11th, 2021
Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূ গণধর্ষণ ঘটনায় দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে প্রধান আসামি সাইফুর রহমানসহ তিন ধর্ষক। অন্যরা হলেন মামলার চার নাম্বার আসামি অর্জুন ও পাঁচ নাম্বার রবিউল ইসলাম। গতকাল বিকাল ও সন্ধ্যার পর পৃথকভাবে সিলেটের অতিরিক্ত মূখ্য মহানগর হাকিম মো. জিয়াদুর রহমানের আদালতে সাইফুর রহমান, অর্জুন লস্কর ও সিলেট মহানগর হাকিম-২ সাইফুর রহমানের আদালতে রবিউল ইসলাম ধর্ষণের ঘটনায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। এদিকে, গণধর্ষণ ঘটনার তদন্ত শেষে গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি। এছাড়া সরকার দলীয় গণধর্ষণকারীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবিতে সিলেটে উলামা মাশায়েখ পরিষদ বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
দায় স্বীকার করে জবানবন্দি : সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে তরুণী ধর্ষণের ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে এই মামলার প্রধান আসামি ছাত্রলীগ নেতা সাইফুর রহমানসহ আরও দুজন। জবানবন্দি দেওয়া অন্যরা হলো; অর্জুন লস্কর ও রবিউল ইসলাম। জবানবন্দিতে মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমান, অর্জুন লস্কর, রবিউল ইসলাম ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। ঘটনার মূল হোতা ছাত্রলীগ নেতা সোহাগে নেতৃত্বে ওই গৃহবধূকে গণধর্ষণ করা হয়েছে বলে পৃথক জবানবন্দিতে তারা আদালতকে জানায়।
সূত্র জানায়, পাঁচদিনের রিমান্ড শেষে গতকাল দুপুরে আদালতে তোলা হয় সাইফুর, অর্জুন ও রবিউলকে। দুপুরে কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে দিয়ে তাদেরকে আদালত প্রাঙ্গণে হাজির করে শাহপরান থানা পুলিশ। তিন আসামির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার তথ্য জানান এই আদালতের এপিপি মাহফুজুর রহমান।
এর আগে গত রোববার সকাল ৬টার দিকে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার মনতলা এলাকা থেকে গণধর্ষণ মামলার চার নম্বর আসামি অর্জুন লস্করকেও গ্রেফতার করে পুলিশ। আর ওই দিন সকালেই ছাতক খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় গ্রেফতার করা হয় মামলার প্রধান আসামি ছাত্রলীগ নেতা সাইফুর রহমানকে। এছাড়া ৫ নম্বর আসামি রবিউল হাসানকে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জের নিজগ্রাম থেকে রোববার রাতে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। আটকের পর এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি সাইফুর রহমান ও আসামি অর্জুন লস্কর গত সোমবার দুপুরে এবং একইদিন বিকেলে মামলার ৫নং আসামি রবিউল ইসলামকে পাঁচদিনের রিমান্ড দেয় সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতের বিচারক সাইফুর রহমান। এছাড়া রবিউলের পরিবার এ ঘটনার পর জড়িতদের কঠিন শাস্তি দাবি করেছেন।
অপরদিকে সন্দেহভাজন আসামি রাজন আহমদ, আইনুদ্দিন ও শাহ মাহবুবর রহমান রনির রিমান্ডের মেয়াদ আজ (শনিবার) হবে শেষ। রিমান্ড শেষে তাদেরও আদালতে তোলার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সূত্র। অন্যদিনে পুলিশের রিমান্ডে থাকা গণধর্ষণ মামলার অপর আসামি তারেক ও মাহফুজুর রহমান মাসুমের রিমান্ডের মেয়াদ কাল (রোববার) হবে শেষ।
৬ দফা সুপারিশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির : এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষের তদারকিতে ঘাটতি পেয়েছে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি। এ জন্য কলেজ ক্যাম্পাসের নিরাপত্তায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আরও কর্মতৎপর ও দায়িত্বশীল হওয়া এবং ক্যাম্পাসকে নিরাপদ রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপনসহ ছয় দফা সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি। কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের ঘটনার পর কলেজ প্রশাসনের ভ‚মিকা খতিয়ে দেখতে গত সোমবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) মো. শাহেদুল খবীর চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠন করা হয় ৩ সদস্যেও কমিটি। কমিটি এমসি কলেজ ক্যাম্পাস পরিদর্শন করে তৈরি করে এই প্রতিবেদন। কমিটি ক্যাম্পাসের নিরাপত্তায় ঘাটতির ক্ষেত্রে বিভিন্ন কারণ ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। তবে কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করেনি কমিটি। তবে প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়। তদন্ত কমিটি অন্য সুপারিশের মধ্যে রয়েছে নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুরো ক্যাম্পাসে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের সহযোগিতা ও সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়মিত পরিদর্শন করা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাতি স্থাপন ও জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করা।

Leave a Reply