Sun. Apr 11th, 2021
Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

রউফুল আলম,  স্টাফ রিপোর্টার,   কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী):

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নে এবারের বন্যায় বালুর সাথে মিশে গেছে অসহায় খেটে খাওয়া মানুষ গুলোর স্বপ্ন। দিশেহারা হয়ে পড়েছে অর্ধশত কৃষক। তাদের জীবনের সম্বল টুকু বালুর মধ্যে মিশে যাওয়ায় অনাবাদি জমিতে পরিনত  হয়েছে।

আজ সোমবার  সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,আবাদি জমি বালু দিয়ে ঢাকা পড়ায় কৃষকদের আর্তনাদ ও আহাজারি। জানা যায় উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের ডাংগাপাড়া গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে চারালকাটা নদী।সেই নদীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে নদী পুনঃখনন এর কাজ করা হয়।

খননকৃত নদীর বালুগুলো আবাদি জমির পাশে জমা করে রাখা হয়। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি পাতে এলাকার নিচু জমিগুলোতে প্লাবিত দেখা দেয়। যার ফলে জমানো বালুগুলো বন্যার পানির সাথে আবাদি জমিগুলোতে ফসল সহ বালুতে তলিয়ে যায়। এলাকাবাসীর ধারণা বালুতে তলিয়ে যাওয়া জমির পরিমাণ প্রায় ৫ শত একর। উত্তর বাহাগিলী ডাঙা পাড়ার জালাল উদ্দীন বলেন, নদীর পাড়ে আমার ৩ একর জমি ছিল যা দিয়ে প্রতি বছর আবাদ করে যে টাকা আসতো তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চলতো সেটুকুও বালু দিয়ে ঢাকা পড়ে হামা ইলার কষ্ট বেড়ে গেল।  জহুরুল শেখ বলেন, আলু রোপণ করার জন্য আলুর বীজ সংগ্রহ করে রেখেছি। রোপনের সকল প্রস্তুতি প্রায় শেষ। কিন্তু জমিতে এক হাটু বালু জমে বিপদে পড়েছি। একই অবস্থা তুলে ধরেন ওই গ্রামের প্রায় অর্ধশত কৃষক। বিশেষ করে শাহ  আলমের ১ একর, মাসুদ ২ একর, মাসুম ৫০ শতক,একরা শেখ ৬০ শতক, আবেদ খা ১ একর, আতা ৬০ শতক, আফতাব ৬০ শতক, সিরাজুল ৫০ শতক, আবু বকর ৫০ শতক, এনদা শেখ ৬০ শতক, আ. রহিম  ৬০ শতক, আশেক ৯০ শতক, আ. লতিফ ৫০ শতক, জাহাঙ্গীর   ৬০ শতক, মুকুল ৩০ শতক সহ আরো অনেকের জমি এখন বালুর নিচে তলিয়ে থাকায় পাগল হয়ে পড়েছে কৃষকরা।

এলাকাবাসীর দাবি জমির উপরে থাকা বালুগুলো অপসারণ করে এবং নদী পাড়ের জমি রক্ষার্থে ব্লক বাঁধ নির্মাণ করে পরবর্তীতে যাতে এরকম সমস্যার সম্মুখীন হতে তাদের না হয় । এবিষয়ে বাহাগিলী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার জনাব আলী সরকারের কাছে সহায়তা চেয়ে বলেন,এই দুঃসময়ে যদি সরকার অবহেলিত মানুষের পাশে যদি না দাড়ায় তাহলে এই এলাকার খেটে খাওয়া মানুষ গুলো অনাহারে ধুকেধুকে মারা যাবে। তাদের সম্বল টুকু আজ বালু দিয়ে ঢাকা পড়েছে। তাদের পক্ষে সম্ভব নয় এই বালুগুলো অপসারণ করা। এতে অনেক ব্যয়বহুল ও অসাধ্য ব্যাপার। এব্যাপারে বাহাগিলী ইউনিয়নের  চেয়ারম্যান আতাউল রহমান শাহ দুলুর সাথে কথা হলে তিনি জানান,আমরা সমস্ত এলাকা ঘুরে দেখেছি এবং ইউএনও মহোদয় এর সাথে কথা বলেছি,যা করনীয় তা করা হবে বলেও জানান তিনি। এবিষয়ে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃরোকসানা বেগম এই প্রতিবেদককে বলেন আমাদের কিশোরগঞ্জে শুধু নয় সারা বাংলাদেশে একই অবস্থা। আমাদের কোনো দিকনির্দেশনা এখনো দেওয়া হয়নি। দিকনির্দেশনা দেওয়া হলে তখন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

     

Leave a Reply