Sun. Apr 11th, 2021
Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পিরোজপুরে চায়না নাগরিক হত্যাকান্ড
প্রকল্প এলাকা থেকে বের করে দেওয়া এবং টাকার জন্য ঘটে খুনের ঘটনা
সংবাদ সম্মেলনে বরিশালের ডিআইজি

পিরোজপুর প্রতিনিধি: প্রকল্প এলাকা থেকে বের করে দেওয়া এবং টাকা ছিনতাইয়ের জন্যই পিরোজপুরের কঁচা নদীর উপর নির্মানাধীন ৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু প্রকল্পের কাজে নিয়োজিত চায়না টেকনিশিয়ান প্যান ইয়নজুন (৫৮) কে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে পিরোজপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল রেঞ্জ এর ডিআইজি শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন নির্মানাধীন সেতু প্রকল্পে শুরু থেকেই শ্রমিক হিসেবে কাজ করত পিরোজপুর পৌরসভাধীন মরিচাল গ্রামের হায়দার আলী শেখ এর ছেলে সাব্বির আহম্মেদ শেখ (২০)। এরপর এ বছরের মার্চ মাসে সে তার আরেক বন্ধু একই গ্রামের ছোরাপ শেখ এর ছেলে হোসেন শেখ (১৯) কে ওই প্রকল্পে শ্রমিক হিসেবে কাজ করার সুযোগ করে দেয়। তবে হোসেন এর কাজ ভালো না হওয়ায় মাত্র ১৪ দিনের মাথায় দায়িত্বে থাকা প্যান তাকে প্রকল্পের কাজ থেকে বাদ দিয়ে দেয়। এমনকি সে চলে আসার সময় একটি ওয়াকিং হেলমেড নিয়ে আসে। এজন্য প্যান তার মজুরি থেকে ৫০০ টাকা কেটে রাখে। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত ছিল হোসেন। তবে এ ঘটনার পর বেকার হয়ে পড়ায় সে প্যান এর কাছ থেকে টাকা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে। আর এ কাজে তাকে সহযোগীতা করে ওই প্রকল্পে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত বন্ধু সাব্বির। ঘটনার আগের দিন ৬ অক্টোবর সাব্বির মোবাইলে হোসেনকে জানায় যে পরের দিন সন্ধ্যার পর প্যান টাকা নিয়ে শ্রমিকদের দেওয়ার জন্য প্রকল্প এলাকায় যাবে। এরপর ঘটনার দিন সন্ধ্যায় চায়না ব্যারাকের আশেপাশে ঘোরাফেরা করতে থাকে ঘাতক হোসেন। প্যান ব্যারাক থেকে সাইকেলযোগে বেরিয়ে কিছুদূর যাওয়ার পর তার সাথে থাকা টাকাসহ ব্যাগটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে হোসেন। এতে সে বাধা দিলে হোসেন তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে টাকা ছিনিয়ে নেয়। তবে এ সময় ব্যাগের মধ্যে কিছু টাকা থেকে যায়। এরপর পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যায় প্যান ইয়নজুন ।
এ ঘটনায় পুলিশ ওইদিন রাতে দুইজনকে আটক করে। তবে এ হত্যাকান্ডের এ ঘটনার সাথে তাদের কোন সম্পৃক্ততা নাই বলেও জানায় পুলিশ। এরপর ১২ অক্টোবর হোসেন এবং সাব্বিরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরবর্তীতে তারা আদালতের কাছে গত ১৮ অক্টোবর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
এছাড়া চায়না নাগরিকের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া টাকার মধ্যে ১ লক্ষ ৮৯ হাজার টাকা হোসেনের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান ডিআইজি।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন এবং কাজী শাহ্নেওয়াজ সহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
হত্যাকান্ডের এ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশকে সযোগীতা করার জন্য প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান পুলিশ সুপার।

Leave a Reply