Sat. Apr 17th, 2021
Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

কঠোর হুঁশিয়ারি এবং সতর্কবার্তায়ও আওয়ামী লীগের তৃণমূল কমিটিগুলোতে অনুপ্রবেশকারী ও হাইব্রিডদের পদায়ন ঠেকানো যাচ্ছে না। বিশেষ করে চলমান জেলা-মহানগর কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার সুযোগে ও স্থানীয় নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে নানা অপকর্মে যুক্ত এবং বিতর্কিত ব্যক্তিও ঢুকে পড়ছেন দলের মধ্যে। সভাপতি বনাম সাধারণ সম্পাদক দ্বন্দ্বে দলভারী করার প্রচেষ্টায় ‘পকেট কমিটি’ও হচ্ছে কোথাও কোথাও। ত্যাগীদের কোণঠাসা করে আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠদের কমিটিতে পদায়ন করতে ব্যস্ত অনেক নেতাই। কোথাও কোথাও নেতৃত্বের ‘জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের’ অভিযোগও উঠছে।

ক্ষমতাসীন দলের গত জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠানের আগে-পরে অনুষ্ঠিত সাংগঠনিক জেলা কমিটিগুলো পূর্ণাঙ্গ করার ক্ষেত্রে এ চিত্র ফুটে উঠতে শুরু করেছে। এ নিয়ে বিস্তর অভিযোগ জমা পড়েছে দলের কেন্দ্রীয় দপ্তরে। বিবদমান এক পক্ষ আরেক পক্ষের বিরুদ্ধে পদায়ন বাণিজ্যের মতো গুরুতর অভিযোগও তুলেছে। অবশ্য দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে গঠিত আটটি বিভাগীয় টিমের চুলচেরা যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো কমিটিই চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে না কিংবা ঘোষণা হবে না বলেও জানিয়েছেন দলের নীতিনির্ধারক নেতারা।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, শিগগিরই দলের জেলা ও মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। এখন কমিটি যাচাই-বাছাই চলছে। কমিটির বিষয়ে কোনো বিষয়ে তথ্যভিত্তিক অভিযোগ থাকলে প্রতিকার পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। সংগঠনের গঠনতন্ত্রের কাঠামোর আওতায় এ-সংক্রান্ত অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া যাবে। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে নিষ্পত্তি করবে। দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার ক্ষেত্রে গঠনতান্ত্রিক এমন বিধান অনুসরণের নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান ওবায়দুল কাদের।

গত বছরের ২০ ও ২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের আগে-পরে দলের ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ ৩১টি জেলা-মহানগর সম্মেলন হয়। এগুলো হচ্ছে- ঢাকা মহানগর উত্তর, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ, সিলেট, সিলেট মহানগর, হবিগঞ্জ, কুমিল্লা উত্তর, ফেনী, নোয়াখালী, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম উত্তর, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, রংপুর মহানগর, কুড়িগ্রাম, বগুড়া, রাজশাহী, রাজশাহী মহানগর, কুষ্টিয়া, যশোর, নড়াইল, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, খুলনা, খুলনা মহানগর, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, বরিশাল মহানগর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা।

তবে এর পরপরই দেশে কভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাব ঘটলে অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি জেলা সম্মেলন কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে করোনাসহ নানা কারণে গত ১১ মাসে কোনো কমিটিরই পূর্ণাঙ্গ রূপ ঘোষণা করা যায়নি। তবে সম্প্রতি কেন্দ্রের নির্দেশে দু’একটি বাদে প্রায় সব সাংগঠনিক জেলার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নিজ নিজ জেলার ৭৫ সদস্যের প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দিয়েছেন। অন্যদিকে জমা হওয়া প্রস্তাবিত কমিটিগুলো নিয়ে নানা লিখিত অভিযোগও কেন্দ্রে আসছে। যাচাই-বাছাই শেষে দলীয়প্রধান শেখ হাসিনার চূড়ান্ত অনুমোদন শেষে সব পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করার কথা রয়েছে।

Leave a Reply