Mon. Apr 19th, 2021
Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মোঃ আনোয়ার হোসেন,,স্টার্ফ রিপোটার: ঠাকুরগাঁওয়ের আঞ্চলিক গানগুলো লোকজ সংস্কৃতির গ্রামীণ জীবনের প্রাণের স্পন্দন।এ ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে করোনাকালেও কর্নেট সাংস্কৃতিক সংসদ চালিয়ে যাচ্ছে শিল্প ও সংস্কৃতির চর্চা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে জেলার কর্নেট সাংস্কৃতিক সংসদ। জানা যায়, ১৯৮২ সালে মরহুম গোলাম রব্বানীচৌধুরীর আর্থিক সহোযোগীতায় ও অনুপ্রেরনায় সাইফুল ইসলাম প্রবাল চৌধুরীসহ আরও কয়েকজন যুবক মিলে ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে কর্নেট সাংস্কৃতিকসংসদ প্রতিষ্ঠা করে। দেশের গান নাটক,সাংস্কৃতিকউৎসবের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে নতুনপ্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্য কর্নেট সাংস্কৃতিকসংসদ নামের এই সংগঠনটি ১৯৯৩ সালে কর্নেটক্লাবের নাম নামকরন পরিবর্তন করে সংগঠনের নতুন নামকরন করা হয় কর্নেট সাংস্কৃতিক সংসদ।

২০০২সালে প্রথম ঈদ মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসবপালন করে ব্যাপক সাফল্য পেয়ে ৭ বছর নিয়মিতউৎসব পালন করেছে।এবং ২০০৮ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি হলে, ঠাকুরগাঁওয়ে লোকজ ঐতিহ্য”ধামের গান” পরিবেশন করে খ্যাতি অর্জন ও২০১২সাল থেকে ১৬ ডিসেম্বর থেকে প্রতিবছরেইবিজয় ও সাংস্কৃতিক মেলা উদযাপন করে আসছে। সংঙ্গীত ও শিল্প সাহিত্য অঙ্গন সম্পৃক্ত করে সাংস্কৃতিকঅঙ্গনে নিরলস ভাবে কাজ করে জেলার সাংস্কৃতিকঅঙ্গনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে কর্নেটসংস্কৃতি সংসদ।
তবে সংগঠনটির নিজস্ব ভবন না থাকায় শিল্পীরা নানাপ্রতিকুলতায় চলছে সাংস্কৃতি কার্যক্রম।
করোনাভাইরাস মহামারিতে দেশের শিক্ষাঙ্গন যেখানেবন্ধ সেখানে সংগঠনটি স্বাস্থ্য বিধি মেনেকরোনাকালেও চালিয়ে যাচ্ছে সংগীত চর্চা ।হারমোনিয়াম আর তবলার তালে তালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক নাটক, গান, অভিনয়, দেশাত্ববোধক ওলোকজ গানে গানে মুখরিত হয়ে উঠে সংগীতশিল্পীদেরঅনুশীলন। সংগঠনটি নিয়মিত বিজয় ও সাংস্কৃতিকমেলা ২০১৯ সালে সফল ভাবে উদযাপন করেছেবর্তমানে সংগঠনটি অতীত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদেরজীবনী সংগ্রহ করে সাংস্কৃতিক মিউজিয়াম তৈরিরকাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সমাজে অসংগতি দূরসহ দেশপ্রেমও মুক্তিযুদ্ধকে তরুণদের মাঝে উদ্বুদ্ধ করতেসাংস্কৃতিক চর্চার কোনো বিকল্প নেই। আর কর্নেটসাংস্কৃতিক সংসদ শুরু থেকেই ভালো কাজ করেযাচ্ছে। বিজয়ের মাসে বিজয় ও সাংস্কৃতিক মেলা,বাংলা নববর্ষে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের বস্ত্র বিতরনসহবিভিন্ন দিবসে অনুষ্ঠান করে থাকে। সংশ্লিষ্টরা আরও বলেন, এ জেলায় ছোট-বড় ৩০টিসাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে তবে ঠাকুরগাঁও কর্নেটসাংস্কৃতিক সংসদ যে ভাবে মুক্তিযুদ্ধকে তরুণদেরমাঝে উদ্বুদ্ধ করতে সাংস্কৃতিক চর্চা করে যাচ্ছে জেলায়আর কোন সাংস্কৃতিক সংগঠন এমন চর্চা করে কিনাসন্দেহ আছে। তবে তারা যদি সরকারি ভাবে কোনসাহায্য-সহযোগিতা পায় তাহলে আরও ভালো করবে। সংগঠনের কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরেআমরা (কর্নেট সাংস্কৃতিক সংসদ) নতুন প্রজন্মকেদেশপ্রেমে উজ্জীবিত করতে প্রতিনিয়তই কাজ করেযাচ্ছি। এই সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে। আমরা বিজয় ও সাংস্কৃতিক মেলায়জেলা ও উপজেলায় শিল্পী ও সাংস্কৃতি সংগঠনেরসমন্বয়ে অনুষ্ঠান পরিবেশনের ব্যবস্থা করে থাকি। তারা আরও বলেন, আমাদের কোন নিজস্ব ভবন নেই।অন্যের বাসা ভাড়া নিয়ে আমরা শিল্পীদের নিয়েসাংস্কৃতি চর্চা চালিয়ে যাচ্ছি। আর সরকারিভাবেআমরা কোন সাহায্য- সহযোগিতাও পাইনা। নিজস্বঅর্থায়নে ৩৮ বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছি। সাহায্য-সহযোগীতার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে কোনআবেদন করা হয়েছে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে কর্তারা বলেন, ৩৮ বছরেঅনেকবার জমি /ভবন ও আর্থিক সহোযোগীতার জন্যআবেদন করা হয়েছিল জেলা প্রশাসক মহোদরগনআমাদের আশ্বস্ত করলেও বাস্তাবায়ন করননি।

কর্নেট সাংস্কৃতিক সংসদের সাধারণ সম্পাদক মো.সাইফুল ইসলাম প্রবাল চৌধুরী বলেন, আমরা লোকজসাংস্কৃতি চর্চাকে এগিয়ে নিতে ক্জ করছি বিজয় ওসাংস্কৃতিক মেলা আয়োজন করে জেলা উপজেলা ওপাশ্ববতি জেলা গুলোর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশেরমধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মকে দেশ প্রেম ও সাংস্কৃতিকচর্চাকে ত্বরান্বিত করতে কাজ করছি।

কর্নেট সাংস্কৃতি সংসদের সভাপতি সৈয়দ নুর হোসেনবাবলু বলেন, আমারা জেলায় সাংস্কৃতিক মিউজিয়ামতৈরি করতে কাজ করছি, মিউজিমে অতীত। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের জীবনি সংগৃহীত থাকবে যাদেখে নতুর প্রজন্ম ইতিহাস সম্বন্ধে জানবে। সহোযোগীতা ওপৃষ্ঠপোষকতা পেলে আমরা গতিপাবো।

এবিষয়ে জেলা কালচারাল অফিসার সৈয়দ জাকির হোসেন বলেন, কর্নেট সাংস্কৃতিক সংসদ সম্পর্কে আমরা জানি তারা বিজয় মেলাসহ আরও বিভিন্ন অনুষ্ঠান করে থাকে।

এ-ব্যাপারে জেলা প্রশাসক কেএম ড. কামরুজ্জামানসেলিমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জেলায় কর্নেট সাংস্কৃতিক সংসদ নামে একটি সংগঠন আছে এটা জানি। সংগঠনটি ভালো কাজ করে এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠান প্রোগ্রাম করে থাকে। সংগঠনটি তো কোন সরকারি প্রতিষ্ঠান না যে সরকারি সহযোগীয়তা চাইলেও তো দেওয়ার কোন নীতি মালা নেই।

Leave a Reply