Tue. Apr 13th, 2021
Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জে অসহায় প্রতিবন্ধিদের গ্রাম পাতারগঁাও। যে গ্রামে রয়েছে অনেক প্রতিবন্ধি শিশু,কিশোর ও নারী-পুরুষ। তারা সবাই শারীরিক,মানসিক,দৃষ্টি ও বাক প্রতিবন্ধি। যাদের খেঁাজ খবর নেওয়ার মতো কেউ নেই। সরকার প্রতিবন্ধিদের জন্য ভাতাসহ নানান সুযোগ-সুবিদা দিয়েছে। তারপরও এই পাতারগঁাও গ্রামের বেশির ভাগ প্রতিবন্ধিরা রয়েছে বঞ্চিত। স্থানীয় মেম্বার ও চেয়ারম্যানসহ উপজেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ে গিয়েছেন প্রতিবন্ধিদের অনেক অভিভাবক। কিন্তু কেউ তাদের দিকে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেয়নি। যার কারণে বেশির ভাগ প্রতিবন্ধিদের ভাগ্যে জোটেনি সরকারের দেওয়া ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা। তবে প্রতিবন্ধিদের সুস্থ্য করার জন্য তাদের পরিবারের লোকজন অনেক ডাক্তার ও করিরাজের কাছে গিয়েছেন। তাদের চিকিৎসা করতে গিয়ে বিক্রি করেছেন জায়গা-জমি ও বাড়িঘর। কিন্তু কোন সুফল পায়নি। তাই প্রতিবন্ধিদেরকে নিয়ে মহাবিপদে পড়েছে তাদের মা-বাবাসহ পরিবারের লোকজন। সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নে অবস্থিত প্রতিবন্ধিদের গ্রাম পাতারগঁাও। সরেজমিন পাতারগঁাও গ্রামে গিয়ে কথা হয় ৪ জন অসহায় প্রতিবন্ধি শিশুদের মা ও বাবার সাথে। এসময় শাহেরা বেগম বলেন- তার প্রতিবন্ধি মেয়ে জহুরা বেগমের বয়স ৯বছর। প্রায় ৩ বছর আগে হাত-পায়ে খিছুনী উঠে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা করার পর তার জ্ঞান ফিরে আসে। কিন্তু তার হাত ও পা সোজা করতে পারেনা। ভেবে ছিলাম কিছু দিন গেলে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু আমার মেয়ে পুরোপুরি সুস্থ্য হয়নি। পরে জায়গা-জমি বিক্রি করে শহরে গিয়ে ভাল ডাক্তার দেখাই। কিছু দিন চিকিৎসা করার পর ডাক্তার জানায় আমার মেয়েকে সুস্থ্য করা সম্ভব না। বর্তমানে সে সোজা হয়ে চলা ফেরা করতে পারে না। ওকে নিয়ে আমাদের খুবই কষ্ঠ। একই গ্রামের তফুরা বেগম বলেন- তার নাতি সুমন মিয়ার বয়স ৬বছর। সে কথা বলতে পারেনা। জন্মের পর থেকেই তার এই অবস্থা। স্থানীয় ডাক্তার ও কবিরাজের কাছে নিয়ে ঝাড়-ফুক ও চিকিৎসা দিয়েছি কিন্তু ভাল হয়নি। টাকার অভাবে শহরে নিয়ে ভাল ডাক্তার দেখাতে পারছিনা। চেয়ারম্যান ও মেম্বারের কাছে অনেক বার গিয়েছি। তারা কোন গুরুত্ব দেয়না। আমরা গরীব বলে আমাদের কথা কেউ শুনতে চায়না। তাই অসহায় নাতিকে নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে। পাতারগঁাও গ্রামের মিনারা বেগম বলেন- তার ছেলে রফিক মিয়ার বয়স ৩বছর। সে জন্মগত ভাবেই বোবা ও মানসিক ভাবে অসুস্থ্য। তাকে সামলে রাখতে খুবই কষ্ঠ হয়। ডাক্তার দেখিয়ে ছিলাম বলেছে অনেক টাকা লাগবে। কিন্তু আমার কাছেতো টাকা নাই। তাই আমার মানসিক ছেলের সু-চিকিৎসা করতে পারছিনা। এই গ্রামের দিন মজুর খালেক মিয়া বলেন- তার ছেলে ফয়সাল মিয়ার বয়স ১২বছর। সে বোবা,কানে কম শুনে ও মানসিক সমস্যা আছে। কারো কথা শুনতে চায় না,মানতে চায় না। সবাইকে মারধর করে। কিন্তু টাকার জন্য চিকিৎসা করাতে পারছিনা। সমাজ সেবা অফিসে গিয়ে ছিলাম ভাতার জন্য। বলেছে ভাতা পেতে হলে তাদেরকে টাকা দিতে হবে তাই ফিরে এসেছি। কারো কাছে কোন সহযোগীতা পাই না। আল্লাহ ছাড়া আমার আর কোন উপায় নাই। খেঁাজ নিয়ে জানাগেছে এই পাতারগঁাও গ্রামের আরো একাধিক প্রতিবন্ধি নারী ও শিশু রয়েছে। কিন্তু তাদের খেঁাজ খবর নেওয়ার মতো কেউ নেই। তাই এব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহযোগীতা কামনা করছেন অসহায় প্রতিবন্ধি শিশু,কিশোর ও নারী,পুরুষদের পরিবার।

Leave a Reply