Sat. Apr 17th, 2021
Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


আব্দুল মালেক, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
নীলফামারী সদর উপজেলার কুন্দুপুকুর ইউনিয়নে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী শ্যামা পূজা (কালী পূজা) উদযাপন উপলক্ষে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কার্তিক মাসের অমবস্যা রাত্রীতে সাধারণত এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। শনিবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে স্বতীপোড়া মহাশ্বশান উদযাপন কমিটির আয়োজনে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, নীলফামারী, পঞ্চগড় ও কুড়িগ্রাম জেলার হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ববিতা রাণী সরকার। স্বতীপোড়া মহাশ্বশান উদযাপন কমিটির সভাপতি বাবু অনিল চন্দ্র রায়ের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিদ মাহমুদ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটির জেলা সভাপতি এ্যাডভোকেট অক্ষয় কুমার রায়, সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট রমেন্দ্রনাথ বর্মন বাপি, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের জেলা সাধারণ সম্পাদক মৃণাল কান্তি রায়, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান দীপক চক্রবর্তী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সান্তনা চক্রবর্তী, কুন্দুপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহজান আলী চৌধুরী ও জেলা মহিলা লীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক সপ্না রাণী ময়না।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টীর ব্যক্তিগত সহকারী বকুুল সরকার, সহযোগী ডাঃ গোপাল রায় জয়ন্ত ও সাগর চন্দ্র রায় প্রমূখ।
কার্তিক মাসের অমাবশ্যা তিথিতে সাধারণত শ্যামা পূজা বা কালী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। হিন্দু পুরাণ মতে কালী দেবী দুর্গারই একটি শক্তি। সংস্কৃত ভাষার ‘কাল’ শব্দ থেকে কালী নামের উৎপত্তি। কালী পূজা হচ্ছে শক্তির পূজা। জগতের সব অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে শুভশক্তির বিজয়ের মধ্যেই রয়েছে কালী পূজার মূল বার্তা বা মাহাত্ব। কালী পূজার দিন হিন্দুরা সন্ধ্যায় তাদের বাড়িতে ও শ্মশানে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে পরলোকগত পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের স্মরণ করেন। অনুষ্ঠানসূচিতে রয়েছে মায়ের আবাহন, বাল্য ভোগ, মায়ের পূজা, ও ভোগরাগ, প্রসাদ বিতরণ, শ্যামা সংগীত ও ভক্তিমূলক গান, ধর্মীয় আলোচনা সভা,প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, চন্ডী পাঠ, শ্রী শ্রী শ্যামা মায়ের মহাপূজা ও পূজা শেষে পাঠা বলি।
প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও আলোচনা সভায় ববিতা রানী সরকার স্বতীপোড়া মহাশ্বশানের উন্নয়নের জন্য তার ট্রাস্ট তহবিল থেকে সর্বচ্ছ বরাদ্দ দেয়ার আশ্বাস দেন। এছাড়াও ট্রাস্টের মাধ্যমে অসহায় হত-দরিদ্র ছাত্র/ছাত্রীদের সার্বিক সহায়তা, হিন্দু ধর্মীয় শিক্ষা ব্যবস্থা চালুকরণসহ সরকারের উন্নয়নের সাফল্য তুলে ধরেন। পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা চেয়ে প্রার্থনা করেন।
সন্ধায় সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় পরিদর্শন শেষে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

Leave a Reply