Mon. Apr 19th, 2021
Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আব্দুল মালেক, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
চাকরীর প্রলোভন দেখিয়ে মাষ্টাররোলে কর্মরত আয়াকে অপহরন ও ধর্ষনের অভিযোগ এনে বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে পিটিশন মামলা দায়ের করেছে এক ধর্ষিতা নারীর স্বামী ইদ্রিস আলী(৫০)। ইদ্রিস আলী নীলফামারীর ডিমলা থানার পশ্চিম শালহাটী গ্রামের মৃত. নীল মামুদের ছেলে। আর এই অপহরন ও ধর্ষনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলার শালহাটী ইসলামীয়া দাখিল মাদরাসার সুপার আব্দুল হামিদসহ দুই সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
গত ২০ আগষ্ট বিকালে চাকুরীর কাগজপত্রাদী ঠিক করার জন্য ডেকে নিয়ে অপহরন ও ইচ্ছার বিরুদ্ধে ইজ্জতহানীর অভিযোগ এনে ২৫ আগষ্ট মাদরাসার সুপার আব্দুল হামিদ(৪৫), সহকারী শিক্ষক খয়রাত হোসেন(৪৮) ও তহিদুল ইসলাম(৪৭)কে আসামী করে নীলফামারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে পিটিশন মামলা দায়ের করেন ওই মহিলার স্বামী। যার নং-১৬৯/২০, জলঢাকা থানার মামলা নং-২৬/১৭৫।

অপহরনের পাঁচদিন পর আদালতে মামলা হলে, গত ৬ সেপ্টম্বর উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের ঘাটের পাড় এলাকা থেকে অপহৃত ওই মহিলাকে উদ্ধার করেছে জলঢাকা থানার পুলিশ।
মামলার বাদী ইদ্রিস আলী বলেন, ঘটনার দিন কাজের সন্ধানের বাড়ির বাহিরে যাই এবং সন্ধার আগে বাড়িতে ফিরে দেখি আমার স্ত্রী বাড়িতে নেই। অনেক খোজাখুজির পর ছেলে রুবেল ইসলামের কাছে জানতে পারলাম, মাদরাসার সুপার তার দুই সহকারী শিক্ষককে দিয়ে আমার স্ত্রীকে চাকুরী দেয়ার জন্য কাগজপত্রাদী ঠিক করার জন্য খয়ের উদ্দিন পুলের উত্তর দিকে ডেকে নেয়। সন্ধা ঘনিয়ে আসলে পরিবারের লোকজনসহ তাকে খোজাখুজির পর না পাওয়ায় মাদরাসার সুপার আব্দুল হামিদসহ দুই সহকারী শিক্ষকের বাড়িতে গেলে তারা ধমক দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। মামলার বাদী বলেন, অনেক খোজাখুজির পর না পেলে স্থানীয় গন্যমাণ্য ব্যক্তিদের পরামর্শক্রমে আইনের আশ্রয় নিয়েছি। বাদী আরো বলেন, মামলা হওয়ার পর আমার স্ত্রীকে উদ্ধার করেছে জলঢাকা থানার পুলিশ। আমি এর ন্যায় বিচার দাবী করছি।
সরেজমিনে গেলে নাম না বলা সর্তে কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, ইদ্রিস আলীর স্ত্রী দীর্ঘদিন নিখোঁজ ছিলো এটা সত্য, কিন্তু কিভাবে নিখেঁাজ হয়েছিলো তা আমরা জানিনা। ঘটনা সত্য মিথ্যা তদন্ত করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে বলে স্থানীয়দের দাবি।
বাদী ইদ্রিস আলীর অপহৃত স্ত্রী বলেন, আয়া পদে চাকুরী নেয়ার আশায় আমি দীর্ঘদিন যাবত মাদরাসায় পরিস্কার পরিছন্নতার কাজ করে আসি। সুপারসহ অন্যান্য শিক্ষকগন আমাকে চাকুরী দেয়ার কথা বলে মাদরাসার যাবতীয় কাজকর্ম করে নিয়েছে। সহকারী শিক্ষক খয়রাত হোসেন ও তহিদুল ইসলাম চাকুরীর জন্য কাগজপত্রাদী ঠিক করার জন্য খয়ের উদ্দিন পুলের উত্তর দিকে ডেকে নেয়। সুপার আব্দুল হামিদ তার মোটর সাইকেলে নিয়ে যায়। কিছুদুর যেতে না যেতে আমাকে মাইক্রোবাসে তুলে নীলফামারীর উদ্দেশ্যে নিয়ে যায়। নীলফামারীতে না নিয়ে অচেনা এক বাড়িতে আটকে রেখে শারীরিক মানসিক নির্যাতন করে, এবং ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমাকে ধর্ষণ করেছে।
এঘটনার সত্যতা জানতে মাদরাসার সুপার আব্দুল হামিদের সাথে মুঠোফোনে(০১৭৫৯-৩২৫৬১৪) যোগাযোগ করলে ফোন সুইচঅপ থাকলে বিষয়টি জানা যায়নি। অন্য দুই সহকারী শিক্ষকদেরকেও খুজে পাওয়া যায়নি।
এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মীরগঞ্জ পুলিশ ফাড়ির ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) আব্দুর রহিম মুঠোফোনে বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন আছে। তিনি বলেন, যেহেতু তদন্ত চলছে সেহেতু কিছুই বলতে পারবো না।

Leave a Reply