Tue. Apr 13th, 2021
Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

রউফুল আলম,স্টাফ রিপোর্টার,কিশোরগঞ্জ(নীলফামারী)ঃ

হঠাৎ ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাওয়া সহ ঠাণ্ডার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে হিমালয়ের নিকটবর্তী নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার জনজীবন। কুয়াশার  চাদরে চারদিক ঢেকে যাওয়ায় সকাল দশটা পযর্ন্ত  অন্ধকারাচ্ছন্ন। দিনের বেলায়  সূর্যের দেখা মিললেও ঠান্ডা অনুভূতি প্রকোট ছিল।ঠাণ্ডা আর ঘন কুয়াশার কারণে খেটে খাওয়া দিনমজুর মানুষজন কাজের সন্ধানে বাইরে যেতে হিমশিম খাচ্ছেন। অনেকে ঠাণ্ডাকে উপেক্ষা করে জীবিকার প্রয়োজনে কাজে গেলেও নানাবিধ সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।কৃষক ও কৃষিশ্রমিকরা ক্ষেতে যেতে পারেননি কাজ করতে। অনেকে মাঠে কাজ করতে গেলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি ঠাণ্ডার কারণে।নিম্নআয়ের মানুষ, ছিন্নমূল, দুঃস্থ অসহায় ও গরীব  লোকজনের দুর্ভোগ বেড়েছে ঠাণ্ডায়। প্রয়োজন মতো গরম কাপড় না থাকায় শীত নিবারণে তারা হয়ে পড়েছেন দিশেহারা। অনেকে খড়কুটোয় আগুন ধরিয়ে শরীর তাপ দিচ্ছেন ঠাণ্ডার প্রকোপ থেকে বাঁচতে।উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের আব্দুল মোতালেব  ও শাহাজাহান  জানান, ঠাণ্ডা আর কুয়াশার কারণে তিনি ঘর থেকে বাইরে বেড়াতে পারেননি। সকাল দশটা পযর্ন্ত বাড়িতে থেকেছেন জড়সড় হয়ে। ঠাণ্ডার প্রকোপ এত বেশী যে খড়কুটোর আগুনে শরীর তাপ দিয়েও ঠাণ্ডা নিবারণ হচ্ছে না বলে তিনি জানান।একই ইউনিয়নের নজরুল ইসলাম বলেন, ঘন কুয়াশা আর ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মতো শীত পরায় আলু ক্ষেত নিয়ে অনেক চিন্তায় আছি। এরকম চলতে থাকলে আমাদের অনেক ক্ষতি হবে। ঘোপাপাড়া গ্রামের আব্দুল মতিন জানান, আবহাওয়া অনুকূল ভালো থাকায় অনেক আশা করে কয়েক মণ ধান সিদ্ধ করে ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ আবহাওয়া অনুকূল পরিবর্তন হয়ে যায়। চারিদিকে ঘন কুয়াশার চাদরে মুড়িয়ে গেছে। রোদের কোনো অস্তিত্ব নেই। ফলে সিদ্ধ করা ধান নিয়ে মহা বিপদে পড়ে গেছি।হতদরিদ্র মোবারক আলী ঘুঘু বলেন, আমাদের তেমন কোনো শীতের কাপড় নেই। তাই ইচ্ছা করলেও হাড়-কাঁপুনি ঠাণ্ডা উপেক্ষা করে বাড়ির বাইরে যেতে পারছি না। আর শীতবস্ত্র কেনার সামর্থ্যও নেই।ঠাণ্ডা আর কুয়াশায় আমরা নিরুপায়। আয় না থাকায় অন্যের কাছ ধার নিয়ে সংসার চালাতে হচ্ছে।একই এলাকার অটো রিকশাচালক রবিউল ইসলাম নয়া মিয়া  বলেন, ঠাণ্ডায় রিকশা নিয়ে বাইরে যেতে ইচ্ছে করে না। তারপরও গেলে যাত্রী পাওয়া যায় না। বাড়িতে খড়কুটোর আগুনে শরীর তাপ দিয়ে ঠাণ্ডা কাটানোর চেষ্টা করছি।

Leave a Reply