শিক্ষাগত যোগ্যতা যাই হোক সব সহকারী শিক্ষকই ১৩তম গ্রেড পাবেন|দেশবানী

Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

দেশবানী অনলাইন ডেস্ক: শিক্ষাগত যোগ্যতা যাই হোক সব সহকারী শিক্ষকই ১৩তম গ্রেড পাবেন। ২০১৯ সালের বিধিমালা জারি আগে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের উচ্চতম (১৩তম) গ্রেড পেতে কোনও সমস্যা নেই। শিগগিরই অর্থ বিভাগ থেকে স্পষ্টীকরণ চিঠি ইস্যু করা হবে। ফলে গ্রেড পেতে শিক্ষকদের আর হয়রানি হতে হবে না।

জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম বলেন, ‘সব শিক্ষকই ১৩তম গ্রেড পাবেন। ব্যাখ্যা হচ্ছে— শর্তে স্নাতক ডিগ্রি/অভিজ্ঞতা বলা রয়েছে। ২০১৯ সালের নিয়োগবিধি অনুযায়ী যারা প্রথমবারর মতো নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের স্নাতক না হলে ১৩তম গ্রেড পাবেন না। কিন্তু ২০১৯ সালের নিয়োগবিধি জারির আগে যেসব শিক্ষক নিয়োগ বিধিতে নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই শর্ত প্রযোজ্য নয়। ’

অর্থ বিভাগের স্পষ্টীকরণ নির্দেশনার বিষয়ে আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম বলেন, ‘অনেক শিক্ষক উদ্বিগ্ন। আমি অর্থ বিভাগের সঙ্গে কথা বলেছি। এটা আগেই জারি হওয়ার কথা ছিল। আমি অর্থ বিভাগকে বলেছি একটি স্পষ্টীকরণ চিঠি দেওয়ার জন্য। তারা দ্রুত স্পষ্টীকরণ চিঠি দেবে।’

আইবাস প্লাস প্লাস সফটওয়ারে ১৩তম গ্রেডে বেতন ফিক্সেশন বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক বলেন, ‘১৩তম গ্রেডের উচ্চধাপে বেতন ফিক্সেশন নিয়ে আইবাস প্লাস প্লাস সফটওয়ারে সমস্যা হচ্ছে। তারা সমস্যা সমাধান করেছে। এখনও লাইভে দিতে পারছে না। কারণ এই মাসের বেতন ইএফটির মাধ্যমে দেবে। অর্থ বিভাগ বলেছে ১৩তম গ্রেডের বিষয়টি এখন অ্যাড্রেস করতে গেলে এই মাসে ইএফটিতে বেতন দেওয়া যাবে না। সে কারণে ইএফটিতে বেতন দেওয়ার পর এক সপ্তাহের মধ্যে সফটওয়ারে অপশনটি লাইভ করবে। তখন নতুনভাবে ফিক্সেশন করলে উচ্চধাপে বেতন পাবেন এবং উচ্চধাপের যে অংশ ইএফটির মাধ্যমে দেওয়া যাচ্ছে না তা এরিয়ার হিসেবে পাবেন শিক্ষকরা। ’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের নতুন নিয়োগ বিধিমালায় সহকারী শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতায় বলা আছে কমপক্ষে দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। এ কারণে কোনও কোনও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার সুপারিশ না করে শিক্ষকদের জানিয়ে দিচ্ছেন, যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতক নেই, তারা উচ্চতর গ্রেড পাবেন না।

২০১৯ সালের নতুন বিধিমালা তৈরি হলেও এখন পর্যন্ত ওই বিধিমালার আলোকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। গ্রেড নির্ধারণ হচ্ছে আগের বিধিমালা অনুযায়ী নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের। এছাড়া ২০১৩ সালের বিধিমালার অধীন নিষ্পন্ন সব কাজ ২০১৯ সালের এই বিধিমালার অধীন নিষ্পন্ন হয়েছে বলে উল্লেখ আছে।

এদিকে ২০১৯ সালের নতুন বিধিমালার ‘রহিত ও হেফাজত’ সংক্রান্ত বিষয়ে ১০ ধারার ১ উপধারায় বলা হয়, “এই বিধিমালা কার্যকর হইবার সঙ্গে সঙ্গে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৩’ এতদ্বারা রহিত হইবে”। আর ২ উপধারায় বলা হয়, ‘উপরোক্ত রহিতকরণ সত্ত্বেও উক্ত বিধিমালার অধীন যে সকল কার্যক্রম নিষ্পন্ন হইয়াছে তাহা এই বিধিমালার অধীন সম্পন্ন হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে এবং এই বিধিমালা জারি তারিখে অনিষ্পন্ন কার্যাদি, যতদূর সম্ভব, এই বিধিমালার অধীন নিষ্পন্ন করিতে হইবে।’

ফলে ২০১৯ সালের নিয়োগবিধির আগে যে যোগ্যতার শিক্ষকই নিয়োগ দেওয়া হোক না কেন নতুন বিধিমালার অধীনে তা বৈধ।

উচ্চতর গ্রেডের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি ২০১৯ সালের বিধিমালার অধীন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের জন্য প্রযোজ্য হবে।

সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত সফটওয়্যার ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ মডিউল অনুযায়ী ১৩তম গ্রেডের নিম্নধাপে সহকারী শিক্ষকদের বেতন নির্ধারিত রয়েছে। ফলে ১৩তম গ্রেডের উচ্চধাপে শিক্ষকরা নিজেদের বেতন নির্ধারণ করতে পারছিলেন না।

‘আইবাস প্লাস প্লাস’ সফটওয়্যার মডিউলে ১৩তম গ্রেডের উচ্চ ধাপে বেতন নির্ধারণ সংক্রান্ত বিষয় ইনপুট থাকায় উচ্চতর গ্রেডে শিক্ষকরা বেতন নির্ধারণ করতে পারেননি। পরে অর্থ বিভাগ সফটওয়্যার ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ মডিউলের সিস্টেমে প্রাথমিক শিক্ষকদের উচ্চধাপে মূল বেতন নির্ধারণের বিষয়টি সংযোজন করতে সম্মত হয়।

জানুয়ারি মাসের বেতন ইএফটির মাধ্যমে দেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে বিষয়টি সমাধান হবে। স্থায়ীভাবে শিক্ষকদের সমস্যার সমাধান হবে।

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, ‘আমাদের অনেক আগেই উচ্চতর গ্রেড দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সফটওয়্যার জটিলতার কারণে আজ পর্যন্ত শিক্ষকদের বেতন ফিক্সেশন করা যাচ্ছে না। সফটওয়্যার আপডেট করে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ। আমরা আশা করবো দ্রুত এ বিষয়টির সমাধান হবে।’

Leave a Reply