কিশোরগঞ্জে বিধবা সত্তোর্ধ্ব সাহেরার শেষ ইচ্ছা বয়স্ক ভাতা দেন স্যার!

Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


রউফুল আলম,স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ, নীলফামারী:
বয়স ৭৬ বছর পেরিয়ে ৭৭ ছুঁই ছুঁই। তারপর ও বিধবা সাহেরা বেওয়া ওরফে হাত্তিবুড়ি পাননি বয়স্ক বা বিধবা ভাতার কার্ড। স্বামীহারা সহায় সম্বলহীন হাত্তিবুড়ি এই বৃদ্ধ বয়সে অর্থের অভাবে নানা সংকটে ভুগছেন। বয়সের ভারে রোগ- শোকে তিনি ভারাক্রান্ত। চিকিৎসাতো দুরের কথা তিন বেলা খাবার জোটানো তার জন্য খুব কষ্ঠকর।

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড স্কুলপাড়া দক্ষিণ পুষণা গ্রামের বাসিন্ধা শাহেরা বেওয়া ওরফে হাত্তিবুড়ি (৭৭)। এই বৃদ্ধ বয়সে বেঁেচ থাকার জন্য তিনি একটি বয়স্ক বা বিধবা ভাতার কার্ডের জন্য ঘুরছেন জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে। শুধু আশ্বাসেই মেলে, কয়েক বছর ঘুরেও কেউ তার জন্য একটি বয়স্ক বা বিধবা ভাতার কার্ডের ব্যবস্থা কেউ করে দেননি। সরকারী নিয়ম অনুযায়ী বয়স্ক ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে নারীর বয়স ৬২ বছর। স্বামী মারা গিয়েছে তার ২৫ বছর আগে। সেই অনুযায়ী হাত্তিবুড়ি বয়স্ক ও বিধবা ভাতা পাওয়ার যোগ্য হলে ও কেউ এগিয়ে আসেনি।
এলাকাবাসী জানায়, মৃত স্বামীর সঞ্চয় বলতে কিছু ছিলনা। ২ ছেলে ১ মেয়েকে নিয়ে হাত্তিবুড়ি অতিকষ্ঠে খেয়ে না খেয়ে দিন কেটেছে তার। এখন তার বড় ছেলে ঢাকায় রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। আর এক ছেলে চট্রগ্রামে রিক্সা চালায় সে তার পরিবার নিয়ে ওখানেই থাকে। হাত্তিবুড়ি বলেন, গাঁয়ে শক্তি নাই। মানষে আর কামোত ডাকে না। আমি মেম্বার, চেয়ারম্যানের কাছে গেছি কেউ আমার জন্য কিছু করে নাই। আমি খুব অসহায়।
হাত্তিবুড়ির খবর শুনে প্রয়াত চেয়ারম্যান আজিজার মিঞা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও সভাপতি এম.এ.এইচ জাকারিয়া সাহেব জানান, এই বৃদ্ধ মহিলার জীবনের শেষ ইচ্ছা শুনে আমি মর্মাহত। ওনাকে আশ্বাস্ত করেন এই মর্মে যে, উপজেলা প্রশাসনকে বলে যদি বয়স্ক বা বিধবা ভাতার ব্যবস্থা করে দিতে পারি সে চেষ্টা করে দেখবো। যদি প্রশাসনের পক্ষে সম্ভব না হয় তা হলে আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রতিমাসে কিছু দেওয়ার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ!

এ ব্যাপারে ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার জাহানুর রহমান জানান, ওই হাত্তিবুড়িকে আমি চিনি না। আপনারা সাংবাদিকরা যা কিছু করার করেন। আমার কোন অসুবিধা নাই। চেয়ারম্যানের বিষয়ে এলাকাবাসী বলেন, বিগত ১০ বছরে ও কোন চেয়ারম্যানের পদধুলি এই পাড়ায় পড়েনি। অসহায়, হতদরিদ্র লোক চিনবে কেমন করে। হতদরিদ্র লোকেরা চেয়ারম্যানের কাছে গেলে পাত্তাই পায় না।

Leave a Reply