Fri. May 7th, 2021
Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

তিথী অপ্সরা বিনতে আলম (নীলফামারী):

দেশ থেকে জলাতঙ্ক রোগ নির্মূলের লক্ষ্যে নীলফামারীতে কুকুরের দেহে প্রতিষেধক টিকা দান কর্মসূচির চতুর্থ রাউন্ড শুরু হতে যাচ্ছে।

সোমবার দুপুরে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভা কক্ষে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য দপ্তর আয়োজিত এক সভায় একথা জানান সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেবুল হোসেন।,

আগামী ৬ মে থেকে ১০ মে পর্যন্ত এক যোগে জেলার ছয়টি উপজেলায় এ কর্মসূচি চলবে।

এ রাউন্ডে সদর উপজেলায় পাঁচ হাজারসহ ছয় উপজেলায় মোট ২৫ হাজার কুকুরের দেহে এ টিকা দেওয়া হবে বলে ‘নীলফামারী জেলায় ব্যাপক হারে কুকুরের টিকাদান (এমডিভি) কার্যক্রম-২০২১ অবহিত করণ’ সভায় জানানো হয়েছে।’

পাঁচ দিনের এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ছয় জনের ১৭৩টি দলের সদরে ৪১টি, সৈয়দপুরে ৩০টি, ডোমারে ২২টি, ডিমলায় ২৭টি, জলঢাকায় ২৭টি এবং কিশোরগঞ্জে ২৬টি দল কাজ করবে।

শতভাগ মৃত্যু ঝুঁকির জলাতঙ্ক রোগ কুকুরের কামড় বা আচঁড়ের মাধ্যম ছাড়াও বিড়াল, শিয়াল, বেজী, বানরের কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমেও হতে পারে বলেন ডা. রাশেবুল হোসেন।

“বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে কোথাও না কোথাও একজন এবং প্রতি বছর ৫৯ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় এ জলাতঙ্ক রোগে।”
বাংলাদেশে প্রতি কুকুর, বিড়াল, শিয়াল, বেজী, বানরের কামড় বা আঁচড়ের শিকার ৫ থেকে ৬ লাখ মানুষের বেশিরভাগই শিশু। এছাড়াও প্রায় ২৫ হাজার গবাদি প্রাণীও এ রোগে আক্রান্ত হয় বলে জানান এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

২০১০ সালের আগে প্রতি বছর প্রায় দুই হাজার মানুষসহ উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক গবাদি প্রাণী মৃত্যু হতো এ জলাতঙ্ক রোগে।

২০১৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশে জলাতঙ্ক রোগীর সংখ্যা ৯০ ভাগ কমিয়ে আনা জানিয়ে তিনি বলেন, ২০২২ সালের মধ্যে দেশকে জলাতঙ্ক মুক্ত করার লক্ষ্যে ২০১০ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় যৌথ উদ্যোগে জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ এবং নির্মূল কর্মসূচি গ্রহণ করে।

এরই অংশ হিসেবে দেশের সব জেলায় ৬৭টি জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে কুকুড়ের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের বিনামূল্যে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা সরবরাহ করা হয়।

২০১১ সালে কুকুরের দেহে জলাতঙ্ক টিকা দানের পাইলট প্রকল্প নেওয়া হয়। ২০১৫ সাল থেকে দেশব্যাপী জেলায় জেলায় কুকুরের দেহে টিকা দান কর্মসূচি শুরু হয়।

এ টিকা দান কর্মসূচির প্রথম রাউন্ডে দেশের সব জেলা ও উপজেলায় টিকা দেওয়া হয়। দ্বিতীয় রাউন্ডে নির্দিষ্ট উপজেলাসহ ১০টি জেলায় এবং তৃতীয় রাউন্ডে সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা ও নীলফামারী জেলা এবং এর প্রতিটি উপজেলায় টিকাদান কার্যক্রম চালানো হয়। এতে ১৯ লাখ ২১ হাজার কুকুরকে জলাতঙ্ক প্রতিষেধক টিকা প্রদান করা হয় বলে সভায় জানানো হয়েছে।

Leave a Reply