দেশ বাণী ডেস্ক

সৈয়দপুরে স্বচ্ছলরা পেয়েছে ভিজিডি’র কার্ড|দেশবানী

Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


মোঃজাকির হোসেন সৈয়দপুর (নীলফামারী):

নীলফামারীর সৈয়দপুরে দুস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য সরকার প্রদত্ত মাসিক খাদ্য সহায়তা প্রকল্প ভিজিডি’র সুবিধাভোগীর কার্ড পেয়েছে স্বচ্ছলরা। এমন ঘটনা ঘটেছে উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নে।,


ওই ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের পানিশালপাড়ার মোঃ নুর ইসলামের স্ত্রী মেরিনা খাতুন নুরীর কার্ড নং ০০০২৭৫। প্রকল্পের নিয়মানুযায়ী সুবিধা প্রাপ্তির জন্য যে শর্ত নির্দিষ্ট করা হয়েছে সে হিসেবে তিনি কার্ড পাওয়ার যোগ্য নয়। কারণ তার আছে পাকা বাড়ি ও নিজস্ব ৭ দোন (প্রায় ২ একর) জমি। একই ওয়ার্ডের মালিপাড়ার পুলিং চন্দ্রের স্ত্রী হুরিয়াও কার্ড পেয়েছে। পুলিংয়ের কাচা বাড়ি হলেও ১০ দোন নিজস্ব (৩ একর) জমি, ১০ টি গরু ও ৮ টি ছাগল রয়েছে।’


একইভাবে ওই ইউনিয়নের অন্যান্য ওয়ার্ডেও একাধিক স্বচ্ছল ব্যাক্তি ভিজিডি’র কার্ডধারী। এসব মধ্যবিত্তরা এ সুবিধা পেয়েছেন মেম্বার ও চেয়ারম্যানদের অনুগ্রহে বা অর্থ প্রদানের মাধ্যমে। নুর ইসলামের স্ত্রী মেরিনা বলেন, তার ছেলে ইউপি চেয়ারম্যান জুয়েল চৌধুরীর পরামর্শে ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা সানোয়ারের মাধ্যমে রেজিষ্ট্রেশন করে। পরে উপজেলা প্রশাসন ডেকে আমাকে কার্ড দিয়েছে। কেউ যাচাই বাছাই করতে আসেনি। পুলিং জানায় ওয়ার্ড মেম্বার লুৎফর রহমানের মাধ্যমে তার স্ত্রীর নামে কার্ড করে নিয়েছি।’


প্রকল্পের নিয়মানুযায়ী সুবিধা প্রাপ্তির জন্য যে শর্ত নির্দিষ্ট করা হয়েছে তাতে বলা হয়েছে যে সমাজের তৃণমূল পর্যায়ের একেবারে নিঃস্ব দুস্থ ও সরকারি অন্যান্য সামাজিক সুবিধা না পাওয়া ব্যাক্তি। যার ন্যুনতম ৫ শতক জমি বা পাকা বাড়ি নেই এবং ১৮ থেকে ৪৯ বছর বয়সী। এমন নারীদের জন্য মহিলা অধিদপ্তরের অধীনে প্রতিমাসে ৩০ কেজি করে চাল দেয়া হয় ২ বছর। উদ্দেশ্য গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্যাভাব দূর করার মাধ্যমে সমাজে আর্থিক স্থীতিশীলতা বজায় রেখে দারিদ্র্যের মাত্রা হ্রাস করা।’


এজন্য ২ বছর পর পর ইউনিয়ন পরিষদের সহায়তায় সুবিধাপ্রাপ্তির জন্য প্রকৃত দরিদ্র ও দুস্থ কাছ থেকে আবেদন হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি নিয়ে তালিকা প্রণয়ন করা হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার মাধ্যমে সঠিকতা যাচাই বাছাই করে চূড়ান্ত তালিকা করা হয়। সে অনুযায়ী তালিকাভুক্তদের কার্ড প্রদান এবং  পরবর্তী ২৪ মাস পর্যন্ত তারা ৩০ কেজি করে চাল পায়। 
প্রতিবার এনালগভাবে উপজেলা পর্যায়ে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। কিন্তু এবার গত ২০১৯ সালের অক্টোবর অনলাইনে রেজিষ্ট্রেশন করা ও আবেদন নেয়া হয়। এই সুযোগে ইউপি ডিজিটাল সেন্টারসহ বিভিন্ন কম্পিউটার দোকান থেকে আবেদন করে অনেক স্বচ্ছল ব্যাক্তি। এক্ষেত্রে মেম্বার চেয়ারম্যানসহ সরকারি দলের স্থানীয় নেতা ও প্রভাবশালীরা অবৈধ সুবিধা নিয়ে স্বচ্ছল ও দলীয় ব্যাক্তিদের রেজিষ্ট্রেশন করিয়েছে। রেজিষ্ট্রেশনের সময় মিথ্যে তথ্য দেয়া এবং অনেক বিষয় গোপন করা হয়।


এই ভুয়া আবেদনকারীদের তালিকা যাচাইয়ের কথা থাকলেও তা করা হয়নি। একারনে স্বচ্ছলরাও কার্ড পেয়েছে এবং চলতি বছরের জানুয়ারী মাস থেকে যথারীতি চাল উত্তোলন করে চলেছেন। প্রকল্পের নিয়ম সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করে অবৈধ সুবিধা নিয়ে ওইসব ব্যক্তিদের কার্ড দেয়ায় প্রকৃত দরিদ্র মানুষেরা বঞ্চিত হয়েছে। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য একেবারে ভেস্তে গেছে এবং গরীব মানুষের মাঝে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। একারণে এ ব্যাপারে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বঞ্চিত অসহায় মানুষেরা ও সচেতন নাগরিকরা।
এ ব্যাপারে জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসন পরস্পর বিরোধী মন্তব্য করছেন। খাতামধুপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুয়েল চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী মোহাইমিনুল ইসলাম ঝন্টু বলেন, এবার তালিকা প্রনয়ণে মেম্বার চেয়ারম্যানের কোন হাত ছিলোনা। অনলাইনে রেজিষ্ট্রেশন হওয়ায় মন্ত্রণালয় থেকেই তালিকা পাঠানো হয়েছে। তালিকায় অনেক স্বচ্ছল মানুষ আছে। এনিয়ে আমরাও প্রতিবাদ করেছিলাম। কিন্তু সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে উপজেলা প্রশাসনকেই সব দায়িত্ব দেয়ায় তারাই সব করেছেন। খাতামধুপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুয়েল চৌধুরী বলেন, নিয়ম মেনে তালিকা করা হয়েছে। যারা যগ্য তাদের কার্ড পেয়েছে দুই  একটা এ দিক ও দিক হতে পারে।
এদিকে সৈয়দপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নুরুন্নাহার শাহজাদী মুঠোফোন জানান, যথাযথ নিয়মে তালিকা করেই কার্ড দেয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দিয়ে যাচাই বাছাই করাও হয়েছে। এরপরও যদি কোন স্বচ্ছল ব্যাক্তি কার্ড পেয়ে থাকে তাহলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাসিম আহমেদ বলেন, এ ধরনের অনিয়মের কোন তথ্য থাকলে সুনির্দিষ্টভাবে জানালে তাদের কার্ড বাতিল করে প্রকৃ দুস্থ ও অসহায় মানুষকে দেয়া হবে। 

Leave a Reply