দেশ বাণী ডেস্ক

শার্শা এসিল্যাম্ড রাসনা শারমীন মিথি করোনা সম্মুখযোদ্ধা হিসাবে ছুটে চলেছেন মানব সেবায়||দেশবানী

Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আঃজলিল,যশোরঃ

রাসনা শারমীন মিথি, এসিল্যান্ড হিসেবে কর্মরত যশোর জেলার শার্শা উপজেলায়। করোনার সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে বেনাপোল স্থলবন্দরে ভারত ফেরত বাংলাদেশি যাত্রীদের সেবা দিয়ে আসছেন।

গত ২৬-২৭ এপ্রিল থেকে একটানা সকাল ৭টা থেকে রাত ১১-১২টা পর্যন্ত বেনাপোল পোর্ট এলাকায় দায়িত্ব পালন করেন। উদ্দেশ্য হচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত হতে আগত বাংলাদেশিদের দুই সপ্তাহের জন্য বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা।’

কোভিডি-১৯ মহামারির সাম্প্রতিক ঢেউ ভারতের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর বিরাট আঘাত হেনেছে এবং ভারতীয় ভেরিয়েন্ট হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ট্রিপল মিউটেন্ট করোনা ভেরিয়েন্টের সংক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য ২৬ এপ্রিল থেকে ভারতের সঙ্গে যাত্রী চলাচলে সাধারণ নিষধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

তবে বিশেষ ব্যবস্থা হিসেবে যাদের ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাচ্ছে তারা কলকাতাস্থ বাংলাদেশের উপহাইকমিশন থেকে এনওসি সংগ্রহ করে দেশে আসতে পারবেন তবে দেশে যাবার পরে আবশ্যিকভাবে ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে নিজ খরচে স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে থাকতে হবে।

বিশেষ অনুমতিতে ৬ মে পর্যন্ত ভারতফেরত যাত্রীদের মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ২২০৩ জন। গড়ে প্রতিদিন প্রায় ২৫০-৩০০ জন যাত্রী এ সময় বিশেষ বিবেচনায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেন, যা অন্য স্বাভাবিক সময়ে আসা যাত্রীর প্রায় সমান। আগতদের মধ্য কোভিড পজিটিভ রোগীও রয়েছেন। স্বাভাবিকভাবে দেশে ফেরার পর ১৪ দিনের সঙ্গনিরোধ এবং নিজ খরচে তা তারা মানতে নারাজ।

প্রশাসনিক কর্মকর্তারা তাদের বাধ্য করায় মারাত্মক তোপের মুখে পড়েছেন, অকথ্য গালিগালাজ এমনকি মারতে পর্যন্ত উদ্যত হয়েছেন অনেকে। অনেকের হইচই চেঁচামেচি কান্নাকাটিতে যাদের জেনুইন সমস্যা আছে এমন অনেকে নিজের সমস্যা প্রকাশ করার সুযোগ পাচ্ছেন না।

অত্যন্ত চটপটে প্রশাসনের নারী কর্মকর্তা রাসনা এ কাজটি করে যাচ্ছেন পবিত্র রমজান মাসে যশোর জেলায় এ বছরের ৪০ ডিগ্রিরও বেশি তাপমাত্রা মাথায় নিয়ে। তাকে এ কাজে সাহায্য করছেন জেলা প্রশাসকের সহকারী কমিশনার ডা. মাহমুদুল হাসান।

জেলা প্রশাসনের একজন এডিসির নেতৃত্বে প্রতিদিন প্রশাসনের এই দুইজনসহ একঝাঁক তরুণ-তুর্কি কর্মকর্তা প্রতিদিন পালাক্রমে সব যাত্রীর কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করে যাচ্ছেন। তাদের সাথে আরও আছেন পোর্ট থানার ওসি মামুন খান এবং নাভারণ সার্কেলের এএসপি জুয়েল ইমরান। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এ কাজটি কতটা সমস্যাসংকুল এবং ক্লান্তিকর তা সরাসরি না দেখলে অনুধাবন করা যাবে না।

স্থানীয় বেনাপোল পৌর এলাকার হোটেল, যশোর সদরের হোটেল এবং ঝিকরগাছা উপজেলার গাজীর দরগাহ মাদ্রাসাকে কোয়ারেন্টিন সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। যশোর সদরে সর্বশেষ ব্যক্তিকে হোটেলে পৌঁছে দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার রাত ১২টা পার হয়ে যায়। যশোর শহরের প্রতিটি হোটেলের দায়িত্ব জেলা প্রশাসন থেকে বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং এছাড়াও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটরা নিয়মিত পরিদর্শন ও মনিটর করছেন।

নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক অঙ্গীভূত আনসার সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে এবং পুলিশের বিশেষ টহল ও পাহারার ব্যবস্থাও রয়েছে। একইভাবে বেনাপোল পৌরসভার হোটেলগুলোতেও আনসার নিয়োগ করা হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন বিভাগের সরকারী কর্মকর্তাগণ দায়িত্ব পালন করছেন।

Leave a Reply