নীলফামারীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি দখলের প্রতিবাদ করায় সেচ্ছাসেবক লীগের ওয়ার্ড সভাপতি আহত

Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


আব্দুল মালেক, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ

নীলফামারী সদরে হিন্দু সম্প্রদায়ের কাঁচাপাকা ধান কেটে উজাড় করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি গত শনিবার (১৫ মে) বিকেলে উপজেলার চাপড়া সরঞ্জামী ও কচুকাটা ইউনিয়ন বাজিত পাড়া মৌজায়।,

সরেজমিনে গেলে জানা যায়, চাপড়া সরঞ্জাম ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড বেড়াডাঙ্গা গ্রামের কমলা কান্ত বর্মন, করুনা কান্ত বর্মন, নীল কমল রায়, সাগর চন্দ্র রায়, প্রশান্ত বর্মন, শৈলেশ চন্দ্র রায়, কৈলাশ চন্দ্র রায় ও ফুলবাবু রায় ওয়ারিশ সূত্রে বাপ-দাদার চাষাবাদের পৈতৃক সম্পত্তি ভোগদখল করে আসে। গত শনিবার বিকেলে পার্শ্ববর্তী শাহপাড়া এলাকার প্রভাবশালী মৃত. হবিবর রহমান শাহ’র ছেলে মোতাহার হোসেন শাহ শতাধিক লোকজনসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দলবদ্ধ ভাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের জমিতে লাগানো আধাপাকা ধানের আগা কেটে জমি দখলের চেষ্টা করে। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন বাঁধা নিষেধ করলে তাদেরকে মারপিট করে। তাদের আত্মচিৎকারে পার্শ্ববর্তী কচুকাটা ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক লীগের ০৮নং ওয়ার্ডের সভাপতি আনারুল ইসলাম (৪২)সহ কিছু লোকজন এগিয়ে আসে। উভয় পক্ষকে থামানোর চেষ্টা করে এবং আধাপাকা ধান না কাঁটার জন্য বাঁধা প্রদান করেন।’

এসময় ধান কাটতে আসা দুষ্কৃতকারী ব্যক্তিরা তাদেরকেও মারপিট করে। এতে সেচ্ছাসেবক লীগের ওয়ার্ড সভাপতি আনারুল ইসলামের মাথায় আঘাত করলে গুরুতর জখম হয়। এছাড়াও আদিত্য রায়(৩০) সহ বেশ কয়েকজন গুরুতর জখম হয়েছে। এসময় এলাকাবাসির ধাওয়ায় মোতাহার হোসেন শাহ ও তাঁর লোকজন পালিয়ে যায়। এবং এলাকাবাসির ততপরোতায় আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করেন। বর্তমানে তাঁরা নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আনারুল ইসলাম পূর্ব বাজিত পাড়া গ্রামের মৃত. মহসিন আলীর ছেলে ও আদিত্য রায় একই এলাকার রমেশ চন্দ্র রায়ের ছেলে।
উমাচরনের নাতী প্রশান্ত বর্মন ও গুরুচরনের নাতী শৈলেশ চন্দ্রের ছেলে গৌরাঙ্গ চন্দ্রসহ প্রতক্ষদর্শীরা জানান, ওই এলাকার বাসিন্দা মৃত. উমাচরন বর্মন ও গুরুচরন বর্মন এর ওয়ারিশ সূত্রে তাদের ছেলেরা বাজিতপাড়া মৌজার সিএস ২৪৫ এবং এসএ ৩১৮-৪১৪ খতিয়ানের ২৭৫৪ দাগে ৭২ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছে। কিন্তু গুরুচরনের দ্বিতীয় পুত্র মৃত. ফটিক চন্দ্র উল্লেখ্য এই দাগ ও খতিয়ানের ৭২ শতাংশ জমির মধ্যে নিজের অংশের ১২ শতাংশ জমিসহ অন্যান্য ভাইদের ৬০ শতাংশ জমি পাশ^বর্তী শাহ পাড়া এলাকার মৃত. হবিবর রহমান শাহ!র নিকট ছয়টি দলিলে ৭৮ শতক জমি বিক্রি করে। জমির মালিক সূত্রে হবিবর রহমান শাহ প্রভাব খাটিয়ে ১৯৯০ সালের মাঠ রেকড চলাকালীন ৮০ শতক জমি নিজের নামে রেকড করেন। যার ফলে হবিবর রহমান শাহ!র ছেলে মোতাহার হোসেন শাহ লোকজন নিয়ে জমি দখলের চেষ্ঠা করে।
সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ন্যায় বিচার দাবি স্থানীয়দের।
এদিকে মোতাহার হোসেন শাহ মুঠোফোনে বলেন, আপনারা (সাংবাদিকরা) কি আদালতের উর্দ্ধে, আমি এনিয়ে ব্যস্ত আছি পরে কথা বলবো।

Leave a Reply