জমি দেয়ার নামে অসহায় নুরবানুর শেষ সম্বলটুকু নিয়ে প্রত্যারণা

Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

রউফুল আলম,  স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ, নীলফামারীঃ

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলাধীন ১ নং বড়ভিটা ইউনিয়নের দঃ বড়ভিটা পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোছাঃ নুরবানু বেগম (৫০) স্বামী মোঃ ফজলুল হক দীর্ঘদীন ধরে অসুস্থ্যতাজনিত কারণে কোন রকম অর্থ উপার্জন করার মতো কর্মক্ষম ব্যাক্তি ও নেই এই পরিবারে। একমাত্র সন্তান বাবার ভিটেমাঠি না থাকায় মাথা গোঁছানোর ঠাঁই খোঁজার নিমিত্তে খেয়ে না খেয়ে পাড়ে আছে ঢাকা শহরে। ছেলের মনে এতটুকু আশা দু’টাকা ইনকাম করে গ্রামে ফিরে মাথা গোঁছানোর মতো একটা জায়গা কিনে খড়ের ছাউনি হলেও ঘুমাবে নিজের ঘরে।আশার পূর্ণতা যখন ছুঁই ছুঁই তখনি বাড়ি ফিরে জীবনের শেষ সম্বলটুকু দিলেন একই গ্রামের বাসিন্দা মোঃ মিজানুর রহমান (৫৫)-এর হাতে। ( জীবিতকালীন) মরহুম আইজুদ্দি ওরফে হাগুড়া মামুদ যিনি এই জমির টাকা প্রদান করার বিষয়ে সকল প্রকার যোগাযোগ করে দেন জীবনের অন্তিমকালে মিজানুরকে বলে যান, বাবা গরীব অসহায় লোকের টাকা মানুষকে ঠগাইস না জমি কোনা লেখি দেইস বাবা। হায়াতের দুনিয়ার সর্বশেষ নিসৃত বানী ছিলো মিজানুরের কাছে। আইজুদ্দির। টাকা দেওয়ার বিষয়টি অবগত হাগুড়া মামুদ-এর ছেলে মজিদুল ইসলাম ও জানে। এই প্রত্যারক মিজানুর একই ভাবে জমি বেঁচে মজিদুলের কাছে ও দখল দিলেও এখন পর্যন্ত রেজিস্টারি করে দেন নাই। মজিদুল ও নুরবানু বেগমের টাকা নিয়ে যে জমি দখল দিয়েছিলেন সেই জমিতে নুরবানু বিভিন্ন গাছ ও লাগিয়েছিলেন প্রত্যারক এই মিজানুর একই জমি আবারও একই গ্রামের লোকমানের কাছে বিক্রি করে অর্থের বিনিময়ে মজিদুলকে হুমকি প্রদান করে বলেন, তুই যদি স্বাক্ষী প্রদান করিশ নুরবানুর টাকা নেওয়ার তবে তুই ও মোর জমিত থাকির পাবুনা।’


মিজানুরের কাছে ৫ শতক জমি নুরবানুর কাছে বিক্রিকরা জমি জেনে শুনে দ্বিতীয়বার ক্রয়কারী ক্ষমতাবান হওয়ায় জনৈক মোঃ লোকমান আলী তার লোকজনকে নিয়ে জমি দখল পজেশন নেওয়ার নিমিত্তে গত ০২ মে/২১ খ্রিঃ মোছাঃ নুরবানু বেগমের লাগানো সমস্থ গাছপালা কেটে ফেলে জমি দখলে নেন। অসহায় এই মহিলার কেউ না থাকায় অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে মিজানুরের দ্বারে গেলে মিজানুর জীবননাশের হুমকি প্রদান করে বলেন, আমাকে তোমরা কিসের টাকা দিছেন, এরপর যদি মোর বাড়িত আইসেন তা’হইলে যেটে আছেন ওটে ও থাকি তাড়াইম সহ নানান অকথ্য ভাষায় গালিগালাশ জীবন নাশের ও হুমকি দেন নুরবানু ও তার স্বামীকে। এপিএন অনলাইন টিভির প্রতিনিধি মোঃ আশরাফুল ইসলাম রাজু জানান, এই প্রত্যারক মিজানুরের তিনবেলা ভাত জুটতোনা ভালোভাবে আজ সে বাড়ি গাড়িসহ করছে বিলাশবহুল জীবনযাপন যার পুরো অর্থটাই হলো এভাবে অসহায় শ্রেণীর মানুষদের সাথে প্রত্যারণা করে আঙ্গুল ফুঁলে কলাগাছ হওয়া।
নুরবানুর মতো অসহায় নারীর আজ গায়ের শক্তি আর অর্থের দাম্ভিকতা না থাকায় হারাতে বসেছে জীবনের শেষ সম্বলটুকু।’

মুঠোফোন যোগে কথা হলে তার ছেলে বলেন, স্যার বউকে নিয়প খেয়ে না খেয়ে এই ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা জমা ছিনুং এ্যাকনা মাথা গোঁছানোর ঠাঁই পাবার জন্যে, আজ যদি সেকনাও হ্যারে ফ্যালেবার নাগে তা’ হইলে হামার দুনিয়াত থাকার থাকি আল্লাহ হামার ঘরক তুলে নিয়া যাউক। এমন অশ্রুশিক্ত হৃদয়ের কথা শিহরিত করে গণমাধ্যম কর্মীর এই টিমকে। এমন প্রতারক চক্রো হোতা মিজানুরের বিরুদ্ধে কি আদৌ প্রশাসনিক কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবেনা, নুরবানু কি ফিরে পাবেনা তার জীবনের শেষ সম্বলটুকু? কে দিবে কার জবাব? কি বা হবে তাদের শেষ পরিণতি অপেক্ষায় ভূক্তভোগী নুরবানু সাথে এই গনমাধ্যম কর্মীরা। পরিশেষে নুরবানুর ব্যাক্ত করা কথা ‘ টিনও (ইউএনও) স্যার মোক বাঁচান, কোনঠে থাকিম মুই।’

Leave a Reply