জলঢাকায় নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের ঘর,
আলোচিত দেশ বাণী ডেস্ক সারা বাংলা

জলঢাকায় নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ,ভেঙ্গে পড়ার আতঙ্কে উপকার ভোগীরা | Deshbani

Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


আব্দুল মালেক, নীলফামারী:
নীলফামারীর জলঢাকায় মুজিববর্ষ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ভূমিহীনদের মাঝে দুর্যোগ সহনীয় প্রথম পর্যায়ের ১৪৭টি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়। এসব ঘর হস্তান্তের তিন মাস যেতে না যেতেই ঘর গুলোর বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখাসহ সামান্য ঝড়ে খুঁটি ভেঙ্গে টিন সেটের চালাম উড়ে যায়। এই সব ঘর নির্মাণে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে।

ভূমিহীনদের নামে দুই শতাংশ খাসজমি বরাদ্দ থেকে শুরু করে ঘর নির্মাণ কাজের প্রতিটি ধাপে অনিয়ম দেখা গিয়েছে বলে অভিযোগ উপকার ভোগীদের। যার ফলে প্রশ্নবিদ্ধ হতে হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর এই মহৎ উদ্যোগ।’


এ উপজেলায় ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে ডাউয়াবাড়ী, গোলমুন্ডা, বালাগ্রাম, কাঁঠালী ও খুটামারা ইউনিয়ন ব্যতীত বাকি ৬টি ইউনিয়নে প্রথম পর্যায়ের ১৪৭টি দুর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। গোলনায় ২৭টি, কৈমারী ৪১টি, মীরগঞ্জে ২৬টি, শিমুলবাড়িতে ২৬টি, ধর্মপালে ১২টি ও শৌলমারী ইউনিয়নে ১৫টি ঘরের নির্মাণ কাজ শেষ হয়। ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প আশ্রয়ণ-২ এর আওতায় যার প্রতিটি গৃহ নির্মাণের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। এই প্রকল্পের অধীনে এই কাজের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৫১ লক্ষ ৩৭ হাজার টাকা।

গেলো বছরে নভেম্বর মাসে আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে নির্মাণাধীন ঘর গুলো উপকার ভোগীদের কাছে হস্তান্তর করেন জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী।

উপকার ভোগীদের কাছে হস্তান্তর


ঘর গুলো উপকার ভোগীদের কাছে হস্তান্তর করলেও ভেঙ্গে পড়ার আতঙ্কে রাতের বেলায় থাকছেনা কেউ। ঘর নির্মাণের ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে ভুড়ি ভুড়ি।
সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, কৈমারী ইউনিয়ন চেংমারী ডাঙ্গাপাড়ায় ৪১টি ঘর ও গোলনা ইউনিয়ন ০৬ ওয়ার্ডে অবস্থিত আবাসস্থলে ২৭টি নির্মাণাধীন ঘরের দেয়াল ও মেজের প্লাস্টারে ফাটল ধরেছে।

এমনকি সামান্য ঝড়বৃষ্টিতে খুঁটি ভেঙ্গে ঘরের বারান্দার চাল উড়ে গেছে। অনেকেই জানিয়েছেন, আমাদের গ্রামে ভূমিহীনদের জন্য ঘর নির্মাণ করা শেষ হয়েছে নি¤œমানের সামগ্রী দিয়ে, যা বলতে গেলে জেল-জড়িমানা ভয়ভীতিসহ বিভিন্ন হুমকি-ধামকী দিয়েছেন ইউএনও। বৃষ্টি-বাতাস উঠলে টিনের চাল ও ছাউনির শব্দে ঘরে থাকা যায় না, এমনকি বৃষ্টির পানিতে বিছানাও ভিজে যায়।
গোলনা আবাসনের রহিদুল ইসলাম বলেন, বালুর অভাব না থাকায় সিমেন্ট পরিমানে কম দিয়েছে। এতে নিম্নমান ইটের রাবিশ, নি¤œমানের বালু, ইউক্যালিপটাস গাছে নি¤œমানের কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে। কাজের মান খারাপ হওয়ায় কথা বলতে গেলে ইউএনও স্যার তার লোকজন দিয়ে আমাকে গাড়িতে তুলে এবং দুই বছর জেল দেয়ার ভয়ভীতি দেখান।


উপকারভোগী জ্যোতিশ চন্দ্র জানান, মুই অসুস্থ বউকে নিয়ে এই ঘরত থাকং, আকাশের পানি আইলে ঘর নোরত-বোরত করে। সেদিন অল্প বাতাসত ঘরের চালি উড়ি গেইছে, এইটা দেখি মোর বউ ঘরত থাকির চায়না। মুই ছাড়া এটে কাহোয় থাকে না, অসুস্থ বউকে নিয়া মুই একলায় থাকং, মোর বউ খালি কান্দে থাকির চায়না। একই অভিযোগ আব্দুল হালিম ও শেফালী বেগমসহ অনেকের।

নির্মাণাধীন ৪১টি ঘরের হ-য-ব-র-ল অবস্থা


কৈমারী ইউনিয়নের চেংমারী ডাঙ্গাপাড়ায় নির্মাণাধীন ৪১টি ঘরের হ-য-ব-র-ল অবস্থা। এখানে কেউ কেউ বলছে সরকারের ঘর সরকার নিয়ে যাক। রহিদুল ইসলামের ছেলে মিস্টার আলী বলেন, ঘর গুলো দেখতে অনেক সুন্দর কিন্তু নির্মাণ কাজের ব্যাপক অনিয়ম করেছে, দেয়ালে হাত দিলেই বালু ঝড়িয়ে মাটিতে পড়ে।

ঘর নির্মাণের সময় কাউকে থাকতে দেয়া হয়নি, দেখতে আসলে বা কথা বলতে চাইলে জেল-জড়িমানার ভয় দেখিয়ে অনিয়মকে নিয়মে পরিনত করা হয়েছে।

এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা হচ্ছে বলে অনেকের দাবি। এখানে ০৫নং ঘরটি বরাদ্দ পায় আকবার আলী, ঘরের চালা থেকে মাটিতে দেখা যায় রশি দিয়ে টানা। জানতে চাইলে আকবার আলীর স্ত্রী নুরবানু বেগম জানান, কি কমো বাপো দুঃখ্যের কথা। সরকার হামাক ঘর দিছে, সেই ঘরত থাকাও যায় না। পুড়িয়া বাতাসত ঘরের টিন উড়িয়া যাবার চায়। সেই মোর বাড়িওয়ালা(স্বামী) মাটিত খুঁটি গাড়িয়া চালার সাথে রশি টানা দিছে। যাতে চালা খান উড়ি যাবার না পায়। তোমরা কনতো সরকার হামার ভালোর জন্যে ঘর দিয়েছে, আর ঘরের কি এইলা কাম। হাসু মিয়া, আমিনুর রহমান, আইজুল পাগলা ও জোসনা বেগমসহ একই অভিযোগ অনেকের। ঘর নির্মাণের কাঠের হিসেবও গরমিল পাওয়া গেছে। তবে উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের কাছে উপকার ভোগীদের দাবি তদন্ত সাপেক্ষে পরিক্ষা নিরিক্ষা করে পূর্ণরায় ঘর গুলো মেরামত করা হউক।

ঘর গুলোতে দড়ি টানা ছিলো


উপজেলা বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ময়নুল হক মুঠো ফোনে বলেন, ইউএনও স্যারসহ আমরা ঘর গুলো দেখতে এসেছি। যে ঘর গুলোতে দড়ি টানা ছিলো তা খুলে দিয়েছি। ঘর গুলোতে কেউ থাকতে চাননা। যারা থাকবে না তাদের বরাদ্দ কেটে অন্য লোককে বরাদ্দ দিয়ে থ্কার ব্যবস্থা করবো আমরা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট জানতে তার অফিস কার্যালয়ে রোববার বিকেল তিনটা থেকে রাত্রী সাড়ে দশটা পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকলেও দেখা মেলেনি।


উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুর জানান, মুজিববর্ষ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা!র উপহার হিসেবে ভূমিহীনদের মাঝে যে ঘর গুলো বরাদ্দ দিয়েছে। এসব ঘরের নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পেয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। এজন্য এব্যাপারে আমি কিছুই বলতে পারবো না।


মুঠো ফোনে কথা হলে বিষযটি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ^াস্ত করলেন, উপ-পরিচালক স্থানীয় সরকার (ডিডিএলজি) মোঃ আব্দুর রহমান।

ভিডিও _

Leave a Reply