দেশ বাণী ডেস্ক দেশজুড়ে

বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর নির্ধারিত সময়ে কারখানা চালু নিয়ে উদ্বিগ্ন শিল্প উদ্যোক্তারা

Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ডেস্ক রিপোর্ট: ‘চট্টগ্রাম ও ফেনীর তিনটি উপজেলার ৩০ হাজার একর জমিতে গড়ে উঠছে সরকারি মালিকানাধীন দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক অঞ্চল ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর (বিএসএমএসএন)।’

“আগামী ১৫ বছরের মধ্যে এখানে ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যাপারে আশাবাদী সরকার। এরই মধ্যে শতাধিক শিল্পগ্রুপের বিনিয়োগে গড়ে উঠছে বড় বড় শিল্পকারখানা। চলতি বছরেই বেশ কিছু কারখানা উৎপাদনে আসার পর্যায়ে গেলেও সংকট হিসেবে সামনে এসেছে বিদ্যুৎ সরবরাহ।,

এসব কারখানায় ২৩০ কেভি ভোল্টেজ লেভেলে বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) সে সক্ষমতা নেই। এতে ওইসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদনে যাওয়ার জন্য শতভাগ প্রস্তুত হলেও বিদ্যুতের কারণে উৎপাদন পিছিয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর

জানা গেছে, মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে এরই মধ্যে বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেড, বসুন্ধরা গ্রুপ, টিকে গ্রুপ, নিপ্পন স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ম্যাকডোনাল্ড স্টিল বিল্ডিং প্রোডাক্ট লিমিটেড, পলমল গ্রুপ, বার্জার, ওয়াল্টন, হ্যামকো করপোরেশনসহ শতাধিক বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করেছে। দিন-রাত চলছে এসব প্রতিষ্ঠানের ফ্যাক্টরি নির্মাণকাজ। চলতি বছরের মধ্যেই বেশ কিছু শিল্পকারখানা উৎপাদনে যাওয়ার জন্য শতভাগ প্রস্তুত হওয়ার কথা।

তবে সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে

তবে সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। বিনিয়োগকারীরা বলছেন, এসব কারখানার সংবেদনশীল যন্ত্রপাতির জন্য মানসম্মত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন, যা ২৩০ কেভি লাইনের মাধ্যমে সম্ভব। এ ভোল্টেজের বিদ্যুৎ বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবি) ছাড়া অন্য কোনো সরবরাহ প্রতিষ্ঠান দিতে পারে না।’

অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের এ বিদ্যুৎ সরবরাহের অবকাঠামো ও অভিজ্ঞতা নেই। এমনকি বিউবি ছাড়া অন্য কারও জন্য ২৩০ কেভি ভোল্টেজের বিদ্যুৎ বিক্রির মূল্যহারও নির্ধারণ করা নেই। বিএসএমএসএন এলাকাটি আরইবির আওতাধীন হওয়ায় কারখানা চালাতে কাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ পাওয়া নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে অনেক শিল্পোদ্যোক্তা বিউবি থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ কিনতে বিউবি ও মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন। কেউ আবার নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পেতে নিজ অর্থায়নে জাতীয় গ্রিড উপকেন্দ্র থেকে কারখানা পর্যন্ত ৫-৬ কিলোমিটার সরবরাহ লাইন ও উপকেন্দ্র স্থাপন করার প্রস্তাব দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোয়। এসব প্রস্তাবে অনাপত্তিপত্রও দিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। আগ্রহ দেখিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। তবে এখনো এর কোনো সুরাহা হয়নি।


আরইবির ২৩০ কেভি ভোল্টেজের বিদ্যুৎ বিক্রির অবকাঠামো ও অভিজ্ঞতা না থাকায় আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের কাছে ত্রিপক্ষীয় (বিউবি-পিসিজিবি-গ্রাহক) চুক্তির মাধ্যমে সরাসরি বিদ্যুৎ বিক্রির অনুমতি চেয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে বিউবি।’

২৫ মার্চ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ

গত ২৫ মার্চ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব বরাবর পাঠানো বিউবির দুটি পত্রে দেখা গেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বার্ষিক ১ লাখ ৪৪ হাজার মেট্রিক টন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কারখানায় ২৫ মেগাওয়াট ও আগামী বছরের জুনের মধ্যে ১২ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি মাল্টি স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজে ১৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠান দুটির কাছে ২৩০ কেভি ভোল্টের বিদ্যুৎ সরাসরি বিক্রি করতে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি চেয়েছে বিউবি।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সচিব সাইফুল ইসলাম আজাদ স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, বিইআরসি কর্তৃক জারিকৃত ট্যারিফ আদেশে আরইবির জন্য ২৩০ কেভি লেভেলে পাইকারি বিদ্যুতের জন্য কোনো মূল্যহার নির্ধারিত নেই। বিইআরসির নির্দেশনা মোতাবেক আরইবি ও ডেসকো যেসব স্থানে ১৩২ কেভি অবকাঠামো নির্মাণ করছে, সেসব স্থানে ১৩২ কেভি লেভেলে বিউবো হতে পাইকারি বিদ্যুৎ ক্রয়ের ব্যবস্থা নেবে।

আরইবির ভৌগোলিক

এলাকায় আরইবি কর্তৃক বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ২৩০ কেভি লেভেলে সংযোগ প্রদানের কোনো সুযোগ নেই। মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল সংলগ্ন এলাকায় আরইবির ২৩০/১৩২ কেভি অবকাঠামো নেই বিধায় বিইআরসির নির্দেশনা মোতাবেক আরইবির পক্ষে ২৩০/১৩২ কেভি গ্রাহককে সংযোগ দেওয়ার সুযোগ নেই। এ ছাড়া বিদ্যুৎ আইন ২০১৮-এর ২৬ ধারা অনুযায়ী, সরকার লিখিত আদেশ দ্বারা এবং উপযুক্ত বিধিবিধান সাপেক্ষে কোনো লাইসেন্সিকে তার সরবরাহ এলাকার বাইরে কোনো ব্যক্তিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও সংশ্লিষ্ট পূর্তকর্ম সম্পাদনের অনুমতি দিতে পারবে।

এ ছাড়া আরইবির পাইকারি মূল্যহার কম হওয়ায় ১৩২ কেভিতে আরইবিকে বিদ্যুৎ বিক্রি করলে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ বাড়বে। গ্রাহকের কাছে সরাসরি বিদ্যুৎ বিক্রির যুক্তি তুলে ধরে বিউবির চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, একক ক্রেতা হিসেবে বিউবো সব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় করে ১৩২/২৩০ কেভি নেটওয়ার্ক দ্বারা সারা দেশে বিতরণ ইউটিলিটিসহ গ্রিড সংযুক্ত বাল্ক গ্রাহকদের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করে। যেসব ১৩২ ও ২৩০ কেভি গ্রাহক সরাসরি গ্রিড উপকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ গ্রহণ করে, তাদের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিক্রি করে বিউবি।

এ অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর, মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২৩০ কেভি লেভেলে বিদ্যুৎ পেতে আগ্রহী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বিউবির মাধ্যমে সংযোগ প্রদানের অনুমতি চাওয়া হয়েছে ওই চিঠিতে।


এ ব্যাপারে এক শিল্পোদ্যোক্তা বলেন, এ বছরের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে তার কারখানা উৎপাদনে আসার জন্য প্রস্তুত হবে। বিদ্যুৎ না পেলে কারখানা চালু করা যাবে না। আরইবি এলাকার অনেক শিল্পকারখানায় বিদ্যুৎ সংযোগ থাকার পরও ভোল্টেজ সমস্যার কারণে ক্যাপটিভ বিদ্যুতে কারখানা চালানো হয়।

এতে উৎপাদন খরচ বাড়ে। বাধ্য হয়ে পণ্যের মূল্য বাড়াতে হয়। এজন্য বিউবি থেকে বিদ্যুৎ পেতে আবেদন করেছি। নিজ খরচে গ্রিড থেকে কারখানা পর্যন্ত সরবরাহ লাইন ও উপকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছি। অনুমোদন যত দ্রুত পাব, ততো তাড়াতাড়ি কাজগুলো শুরু করতে পারব। না হলে নির্ধারিত সময়ে কারখানা চালু করা সম্ভব হবে না।

Leave a Reply