সালিশি বোর্ডের আদর্শ ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে বিচার ব্যবস্থা

Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

    "একটু সৎ সুযোগ পরিবর্তনের মূল ধারায়"

আঃজলিল, স্টাফ রিপোর্টার:

উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রাম্য সালিশে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত ও টাকার কাছে হেরে যাচ্ছেন ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন গ্রামের হতদরিদ্র নিম্ন বিত্ত ও গরিব অসহায় মেহনতি মানুষেরা। বর্তমানে গ্রাম্য সালিশি নামে ঢুকে পড়েছে পক্ষপাতিত্ব, রাজনীতি ও অবৈধ অর্থের লেনদেন। কিছু ক্ষেত্রে গ্রাম আদালতেও চলছে বিচারের নামে প্রহসন। বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ নিরপরাধী বিচার প্রয় ন্যায়-নিষ্ঠা মানুষগুলো।

উপজেল ইউনিয়ন গ্রামের ও সমাজ ব্যবস্থায় প্রতিটি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সালিশ ব্যবস্থার সাথে জড়িত। এহেন অবস্থায় কিন্তু সেই গ্রাম্য সালিশ ন্যায় সঙ্গত না হওয়ায় সমাজ জীবনে প্রতিহিংসা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে অন্যায় অরাজকতার ও অপরাধ হচ্ছে দুর্নীতির বরপুত্র-ত্রী

একসময়ে এই গ্রাম্য সালিশ ব্যবস্থা

একসময়ে এই গ্রাম্য সালিশ ব্যবস্থা ছিল ন্যায় বিচারের আদর্শের প্রতীক। গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ, গণ্যমান্য বিত্তবান, ইমাম ও নেতৃত্ব প্রদানকারী ইত্যাদি ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে গঠিত হতো সালিশি বোর্ড হতো ন্যায় প্রতিষ্ঠা। আর এখন হলো ও টাকায় বিকৃত ন্যায় ও নিতী।

সেই সালিশি বোর্ড-এর নেতৃত্বদানকারী লোকেরা গ্রামে সামাজিক নিয়ন্ত্রণ বিধান নিশ্চিত করতেন। তখন আইন-শৃঙ্খলা ও শান্তি নিশ্চিত করতেন। শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীর শাস্তি দিতেন। উপজেলা ইউনিয়ন ও গ্রামের লোকদের মধ্যে বিরোধ, ঝগড়া-বিবাদ প্রভৃতি নিস্পত্তি করতেন। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের রক্ষণাবেক্ষণ ও রাস্তাঘাট মেরামত করাসহ ইত্যাদি ইতিবাচক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন সৎ ও নিষ্ঠাবান এর মত চরিত্রে।

আর বর্তমানে নানা ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার ফলে সমাজ জীবনে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও, সালিশি বোর্ডের আদর্শ ক্রমেই হারিয়ে গ্রামীণ বিচার বা সালিশ ব্যবস্থা এখন দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। অতি দুঃখজনক হলেও সত্য যে “গ্রামে সালিশ ব্যবস্থা এখন অর্থহীন মানুষকে শোষণের অন্যতম হাতিয়ার।“ অনেক সময়ে দেখা যায় যে ৮০% সালিশ ন্যায়সঙ্গত হয় না। এর পেছনে অনেকগুলো কারণও বিদ্যমান প্রচলিত
★বিশেষ করে বর্তমানে প্রাকৃতিক যেমনঃ–

‘অর্থনৈতিকঃ উপজেলা ইউনিয়ন ও গ্রাম্য সালিশে, সালিশকারকগণ যে পক্ষ থেকে টাকা বেশি প্রায় সেই পক্ষে রায় চলে যায়।

‘ন্যায়ের পক্ষে লোক না থাকা দলভারী করার কারণে ’ দেখা যায় যে, সালিশ অবস্থায় বিচার প্রার্থী ন্যায় ব্যক্তির কথাকে সমর্থন না দেয়ার লোক না থাকার কারণে ন্যায় বিচার পাওয়া যায় না।

‘একদিনের সালিশ বার বার বসা’ : গ্রাম্য সালিশকারকগণ যে সমস্যা একদিনে করতে পারেন, তা না করে বার বার বসেন এবং দুইপক্ষ থেকে টাকা আত্মসাত করেন।
★এটা থেকে মুক্তি পেতে কি চান??

‘বাদী-বিবাদী পৃথকভাবে সালিশকারক নিয়োগ’ বাদী-বিবাদী পৃথক পৃথক ভাবে টাকা দিয়ে নিজেদের জন্য অন্য গ্রাম থেকে সালিশকারক ভাড়া করে আনে, এক্ষেত্রে দেখা যায় যে, গ্রামে গ্রামে নামকরা সালিশ করার ব্যক্তি আছে; যাদের এক একজনের এক সালিশের রেট এক এক রকম। ৫০০-৫০০০ টাকার বেশিও হয়ে থাকে।
এটাই চলছে বর্তমানে বড় ধামাকা আসছে রাজনৈতিক মাঠে।

বলতে গেলে ‘বংশ প্রীতি বা এলাকা প্রীতি’ : অনেক সময় সালিশকারকগণ বংশ প্রীতি বা এলাকা প্রীতি করেন; ফলে ন্যায় বিচার থেকে মানুষ বঞ্চিত হয়ে আসচ্ছে।

‘মিথ্যা সাক্ষী’ : গ্রাম্য সালিশ ব্যবস্থায় মিথ্যা সাক্ষীর প্রচলন বেশি হওয়ার কারণে জনগণ ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে আসলে তাই কিনা??

‘সালিশ বসার পূর্বে দুই পক্ষ থেকে টাকা জমা নেয়া’ : সালিশ বসার পূর্বে দুইপক্ষ থেকে অনেক সময়ে গ্রাম্য সালিশকারকগণ টাকা জমা নিয়ে বিচার কার্য শুরু করেন; কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঐ টাকার সিংহভাগ-ই সালিশকারকগণের পেটে যায়।
এগুলো থেকে মুক্ত করতে আমাদের নতুন চিন্তা।।

★অনভিজ্ঞ লোক দ্বারা সালিশী করা’ : মাস্তান টাইপের অধিকাংশ গ্রামে ক্ষমতার দাপটে অনভিজ্ঞ লোক দ্বারা সালিশী করার ফলে জনগণ ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে আসলে ঠিক কিনা??

★‘চূড়ান্ত মীমাংসা না করাঃ- গ্রাম্য সালিশে সালিশকারকগণ চূড়ান্তভাবে মীমাংসা না করে বাদী-বিবাদীদের মিল করে দেন। এতে বাদী অথবা বিবাদী বিচারে সন্তুষ্ট না হয়ে পরবর্তীতে থানা, কোর্টে আশ্রয় নেয়। ফলে সমস্যা সমাধান না হয়ে আরো প্রকট আকার ধারণ করে নাটক করে উভয় পক্ষের অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হয় নিঃস্ব হয়ে পড়ে উভয় দ্বিপাক্ষিক পরিবার ঠিক কিনা??

★এই থেকে মুক্তি পেতে চাই কিনা আমরা….

‘সমস্যা চিহ্নিত না করে বিচার করাঃ- গ্রাম্য সালিশে মূল সমস্যা চিহ্নিত না করে, মূল সমস্যা সমাধান না করে, সালিশকারকগণ বিচার কার্য শেষ করে থাকেন এতে কি সমস্যা সমাধান ঘটে?? আমি মনে করি ব্যক্তির ক্ষমতা পরের করে থাকে।

★কুচক্রী লোকের কুপরামর্শঃ গ্রামে অধিকাংশ মানুষ স্বল্প শিক্ষিত, অশিক্ষিত, কুসংস্কারাচ্ছন্নঃ ফলে সেই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কুচক্রী লোকেরা কুপরামর্শে বাদী অথবা বিবাদী সত্যটা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায় যাতে করে ওখানে যাতে করে ওখানে একটি অর্থ হাসিল করতে পারে তাই কিনা!

★স্ট্যাম্প বা সইঃ- গ্রাম্য সালিশে সাদা স্ট্যাম্পে সই নিয়ে বিচার কার্য সমাধান করে। কিন্তু পরবর্তীতে ঐ স্ট্যাম্প সালিশকারকগণ থেকে নিতে মোটা অংকে টাকা দিতে হয় এতে করে সালিশ নামা কি বুঝায়? সমস্যার সমাধান করবে না অর্থের পেছনে দৌঁড়াবে?’

★আইন সম্পর্কে জ্ঞান না থাকাঃ গ্রাম্য সালিশকারকগণ আইন সম্পর্কে স্বচ্ছ জ্ঞান না থাকার কারণে সাধারণ মানুষ ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এটা থেকে মুক্তি পেতে আপনাকে স্মরণ করতে হবে সঠিক নেতা বা বিচারক প্রকৃত ব্যক্তিকে।

এছাড়া সালিশ অবস্থা মারামারি, সালিশী থেকে বাদী বা বিবাদী উঠে যাওয়া, হুমকি-ধমকি দেয়া ইত্যাদি কুচক্রী সালিশীগণের ইন্ধনে হয়ে থাকে। দুর্নীতিগ্রস্ত গ্রাম্য সালিশী ব্যবস্থাই গ্রাম্য উন্নয়নে পথে অন্তরায়। প্রাকৃতিক কোলে আশ্রিত হয়েও এই বাংলাদেশের বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ ছোট ছোট সমস্যার কারণে শান্তিতে থাকতে পারে না।,

দেশের সকল সালিশী বা বিচারকগণ যদি প্রকৃতভাবে ন্যায় ও নীতি অনুসরণ অনুকরণ করেন; তবে সমাজে অপরাধের কুবাসের পরিবর্তে – দেশবানী

Leave a Reply