মির্জাগঞ্জে স্কুলের মাঠে ময়লার স্তুপ ভোগান্তিতে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী

Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা সদরে অবস্থিত সুবিদখালী সরকারি রহমান ইসহাক পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দীর্ঘদিন ধরে ময়লার স্তূপ জমে আছে। কিন্তু পরিষ্কারের কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। এতে স্কুলটির স্বাভাবিক শিক্ষা ও খেলাধুলার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।’


জানা যায়, ১৯৩৪ সালে উপজেলার প্রাণকেন্দ্র সুবিদখালী সদরে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। দুইটি চারতলা ভবন, একটি দ্বিতল ভবন, দুইটি একতলা ভবন ও বিশাল একটি খেলার মাঠ নিয়ে বরিশাল-বরগুনা সড়কের পাশে বিদ্যা’লয়টি অবস্থিত। বিদ্যা’লয়ের চারপাশে পর্যাপ্ত সীমানা প্রাচীরও রযেছে। প্রতিদিন উপজেলা সদরের কয়েক’শো শিশু ও যুবকরা বিদ্যালয়ের মাঠটিতে খেলাধুলা করেন এবং বিকাল’বেলা সব শ্রেণী-পেশার মানুষ এখানে অবসর সময় কাটান। করোণা প্রাদু’র্ভাবের কারণে সারা দেশের ন্যায় বিদ্যালয়টি বন্ধ থাকলেও অফিসের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মির্জাগঞ্জ উপজেলা সদরের সুবিদখালী বাজারে মাছ, মাংস ও কাঁচাবাজার সহ সকল প্রকার হাট/বাজার বসে থাকে।

কিন্তু এবছর করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণ রোধে ও ক্রেতা বিক্রেতা’দের সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন মাছ, মাংশ ও কাঁচা বাজার স্থানান্তরিত করে অত্র বিদ্যালয়ের মাঠে নিয়ে আসে। এতে হাটের দিন সহ প্রতিদিনই প্রচুর লোক সমাগম ঘটে ও ব্যাপক বেচাকেনা হয়। করোনা পরিস্থিতি শিথিল হলে গত এক সপ্তাহ পূর্বে বাজারটি আবার পুনরায় পূর্বের স্থানে স্থানান্তর করা হয়। যার ফলে স্কুল প্রাঙ্গণের পূর্ব পাশের অংশে বিক্রেতাদের মাছ, মাংস, তরিতরকারিসহ ব্যবহৃত বিভিন্ন পণ্যের উচ্ছিষ্ট ময়লা আবর্জনার স্তূপ জমে উঠেছে।’

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র হাসানুল তামিম বান্না তার ফেসবুকে ওয়ালে একটি ¯ট্যাটাস দিলে সাথে সাথে সেটি ভাইরাল হয় এবং সমালোচনার ঝড় ওঠে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টির মাঠে গরু ছাগল চরিয়ে ঘাস খাওয়ানো হচ্ছে এবং মাঠের পূর্বপাশের অংশে বিক্রেতাদের ব্যবহৃত বিভিন্ন পণ্যের উচ্ছিষ্ট ময়লা-আবর্জনার স্তুপ রয়েছে। পূর্বপাশের সীমানা প্রাচীরের বাহিরে বরিশাল-বরগুনা সড়কের পাশেও ময়লার স্তুপ রয়েছে। আর তা থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

এ কারণে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী নাক চেপে স্কুলে ঢুকছে এবং রাস্তা দিয়ে চলাচল করতেও তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শিক্ষকরাও আছেন অস্বস্তিতে। কিন্তু কেউ ময়লা সরানোর ব্যাপারে কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না।


অ্যাসাইনমেন্ট নিতে আসা শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, পূর্বপাশের মূল ফটক দিয়ে সকলের স্কুলে আসা-যাওয়া করতে হয়। আর সেখানেই ময়লার স্তূপ থাকায় দুর্গন্ধে নাক চেপে স্কুলে ঢুকতে হয়। মাঠের ভিতরে এমন ভাবে ময়লা আবর্জনার স্তুপ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আমাদের খেলাধুলার ও কোন সুযোগ নাই।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি আগামী ১৩ ই জুন স্কুল-কলেজ খোলার সম্ভাবনা রয়েছে। স্কুলের পরিবেশ যদি সুন্দর না হয় তাহলে লেখাপড়ার পরিবেশ সুন্দর হয় না। তাই জরুরি ভিত্তিতে স্কুল প্রাঙ্গণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা প্রয়োজন।’


এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল জলিল বলেন, দ্রুত স্কুল প্রাঙ্গণ পরিষ্কার করার জন্য আমি বাজার কমিটির সভাপতি-সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি কিন্তু তারা আমার ফোন রিসিভ করেনি। বিষয়টি আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়কে অবহিত করেছি।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসাঃ তানিয়া ফেরদৌস বলেন, মাঠ থেকে খুব দ্রুত ময়লা আবর্জনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।-দেশবানী

Leave a Reply