সাতক্ষীরায় স্বেচ্ছাশ্রমে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করছে আমজনতা | Deshbani

Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আঃজলিল,সাতক্ষীরা থেকে ফিরেঃ

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের ফলে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর,কালীগঞ্জ,মুন্সীগঞ্জসহ বিভিন্ন জায়গার বেড়িবাঁধ জোয়ারের প্রবল চাপে অধিকাংশ জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ ভেঙে স্থানীয়দের ঘরবাড়ি, গরুছাগল,হাঁসমুরগী, পুকুর ও শতশত মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আজ নিঃস্ব প্রায়।’

ক্ষতিগ্রস্ত জনগণকে সরকারী- বেসরকারি ও বিভিন্ন দাতা সংস্থা যত সামান্য ত্রাণের ব্যবস্থা করলে তা চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল।উক্ত এলাকার জনগণের সবচেয়ে বড় সমস্যা বিশুদ্ধ পানীয় জলের। যদিও বা তারা পুকুর ও বৃষ্টির পানি ধরে রেখে পানীয় জলের চাহিদা মেটায় কিন্তু সমূদ্রের লোনাপানি ঢুকে সে পানীয় জল এখন আর পানকরা বা রান্নাবান্না করা সম্ভব হচ্ছে না।ফলে বিশুদ্ধ পানীয় জলের জন্য বহুদূর
দূর থেকে সংগ্রহ করতে হচ্ছে।’

এছাড়াও গৃহপালিত হাঁসমুরগি,গরুছাগল নিয়ে পড়েছে আরও মহাবিপদে।একে তো নিজেদের থাকা,খাওয়ার কোন বন্দবস্ত নেই সেখানে আবার পশুখাদ্য। ফলে শেষ সম্বল গবাদিপশু,হাঁসমুরগীগুলো পানির দামে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছে।

এতো সমস্যার পরেও আগামী অমাবস্যার আগে যদি ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধগুলো সংস্কার না করা যায় তাহলে আবারও জোয়ারের পানি ঢুকে জলাবদ্ধতার স্বীকার হতে হবে।

আর তাই গ্রামের আবালবৃদ্ধবনিতা স্বেচ্ছাশ্রমে বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ চালাচ্ছে। পীট দেওয়ালে ঠেকে গেলে যেমন সামনে এগিয়ে যাওয়া ছাড়া উপায় থাকেনা ঠিক তদ্রুপ সামনে এগিয়ে চলা ছাড়া কোন পথ খোলা নেই।তারা বুঝে গেছে সরকার বা সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপর নির্ভর করলে আগামী অমাবস্যার আগে ভাঙা বেড়িবাঁধ নির্মাণ তো হবেই না বরং আরও একবার সমূদ্রের জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়া ছাড়া কোন উপায় থাকবে না।

স্থানীয় জনগণের বক্তব্য আমাদের দেশ আমাদেরই গড়তে হবে। এ লড়াই বাঁচার লড়াই।আমরা সম্বলিত ভাবে একে অপরের হাত ধরে আগামী অমাবস্যার আগে সকল ভাঙা বেড়িবাঁধের কাজ শেষ করতে প্রাণান্ত চেষ্টা করব।জয় আমাদের হবেই।

Leave a Reply