দেশ বাণী ডেস্ক

বোয়ালখালীতে অতিরিক্ত ভাড়া, দুর্বিষহ জীবনযাত্রা !

Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এম মনির চৌধুরী রানা,চট্টগ্রাম।। “বোয়ালখালীতে অতিরিক্ত ভাড়া, দুর্বিষহ জীবনযাত্রা” ! চলছে করোনাকাল। দুঃসময়ের ঘনঘটায় দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে জীবনযাত্রা। জীবন জীবিকার তাগিদে নানান প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হতে হচ্ছে পরিবারের উপার্জনকারীদের। সীমিত আয়ের পরিশ্রমী মানুষগুলোর আয়ের একটি বড় অংশ ব্যয় হয়ে যায় গাড়ি ভাড়া দিয়ে।’

বোয়ালখালীতে অতিরিক্ত ভাড়া
বোয়ালখালীতে অতিরিক্ত ভাড়া, দুর্বিষহ জীবনযাত্রা !

কিন্তু চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার অভ্যন্তরীন সড়কে চলাচলরত অটোরিকশাগুলো লোকালযাত্রী পরিবহন করে নিয়মনীতি ছাড়াই ইচ্ছে মাফিক আদায় করছে অতিরিক্ত ভাড়া।’

এ নিয়ে অসন্তোষ বিরাজ করছে যাত্রী সাধারণের মাঝে। ভাড়া নির্ধারণের কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন চালক-যাত্রী উভয়েই।,

সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মানার অজুহাতে গত বছর প্রচলিত ভাড়ার চেয়ে যাত্রী প্রতি ১০টাকা করে ভাড়া বাড়ানো হয়। কিন্তু সেই বিধিনিষেধ মানা হচ্ছে না। উল্টো অটোরিকশা চালকের দুইপাশে দুইজন ও পিছনে তিনজন করে যাত্রী পরিবহণ করছেন চালকরা।,

জানা গেছে, উপজেলার কানুনগোপাড়া গোমদণ্ডী-

ফুলতল যাত্রী প্রতি ৩০/৩৫ টাকা, কানুনগোপাড়া-গোলককানুর বাজার যাত্রীপ্রতি ২৫/৩০ টাকা, কানুনগোড়া-পটিয়া থানার মোড় যাত্রীপ্রতি ৫০ টাকা, বুড়িপুকুর পাড়-বেঙ্গুরা যাত্রীপ্রতি ২০/২৫ টাকা,

গোমদন্ডী তুলাতল-কধুরখীল লালার দিঘীর পাড় যাত্রীপ্রতি ২৫/৩০ টাকা, গোমদন্ডী বুড়িপুকুর পাড়-সৈয়দপুর বাইঘ্যার টেক যাত্রীপ্রতি ২৫/৩০ টাকা, শাকপুরা চৌমুহনী-দাশের দিঘীর পাড় যাত্রীপ্রতি ২৫/৩০ টাকা ও উপজেলা সদর-নগরীর রাস্তার মাথা যাত্রীপ্রতি ৩০ টাকা করে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

ফলে অটোরিকশায় চট্টগ্রাম নগরীর কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে একজন যাত্রী কানুনগোপাড়া পর্যন্ত আসা যাওয়ায় গাড়ি ভাড়া ব্যয় হচ্ছে ১২০ টাকা। যা মাসে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৬০০টাকা।

তবে এর ব্যতীক্রম দেখা গেছে আরাকান সড়কের গোমদন্ডী ফুলতল থেকে শাকপুরা চৌমুহনী পর্যন্ত। এখানে যাত্রীপ্রতি ভাড়া ৫ টাকা ও শাকপুরা চৌমুহনী থেকে পটিয়া বাদামতল পর্যন্ত যাত্রীপ্রতি ১০ টাকা ভাড়া নিচ্ছেন চালকরা। যা অন্যান্য সড়কের ভাড়ার তুলনায় স্থানীয় পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীসাধারণ।

অটোরিকশার এক যাত্রী বলেন, বোয়ালখালীতে গাড়ী ভাড়া নিয়ে কোনো নীতিমালা নেই। দীর্ঘদিন ধরে চালকরা ইচ্ছে মতো গলাকাটা ভাড়া আদায় করছে। ভাড়ার বিষয়ে চালকদের সাথে যাত্রীদের প্রায় সময় বাকবিতন্ডায় লেগেই থাকে।

চালকরা নিজে নিজেরাই মিলে সংগঠন তৈরি করে মৌলিক ভাবে স্থান বেধে ভাড়া নিধারন করে এখানে নেই কোন বিআরটিএ প্রতিনিধি,নেই যাত্রী সাধারণের প্রতিনিধি,নেই সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি।

স্থানীয় রফিকুল ইসলাম বক্কর বলেন, বোয়ালখালীতে ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্যের বিষয়টি দীর্ঘদিনের। প্রশাসন অদৃশ্য কারণে নিশ্চুপ রয়েছে। এ দুঃসময়েও গলাকাটা ভাড়া দিতে হচ্ছে যাত্রীসাধারণকে। চালকদের কাছে আমরা এক প্রকার জিম্মি হয়ে রয়েছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কানুননগোপাড়া সিএনজি অটোরিক্সা চালক সমিতির সহ-সভাপতি মো. আকতার বলেন, ‘সমিতি ভাড়ার বিষয়ে কোনো সিন্ধান্ত দেয়নি।

লকডাউন ও সড়ক সংস্কারের কারণে বিকল্প রাস্তা দিয়ে চলাচলের কারণে ভাড়া বাড়িয়েছিলো চালকরা। এখন বিকল্প রাস্তা দিয়ে চলাচল না করলেও তা অব্যাহত রেখেছে। সমিতির নির্বাচনের মেয়াদ পেড়িয়ে যাওয়ায় সমিতির কথাও মানছে না চালকরা।

Leave a Reply