দেশ বাণী ডেস্ক

তাহিরপুর সীমান্তে লকডাউন মানছেনা সোর্সরা:আবারও নৌকাসহ অবৈধ মালামাল জব্দ

Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


মোজাম্মেল আলম ভূঁইয়া- সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: “তাহিরপুর সীমান্তে লকডাউনের আইন মানছেনা
সোর্সরা:আবারও নৌকাসহ অবৈধ মালামাল জব্দ”।সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর সীমান্তে লকডাউনের আইন মানছেনা সোর্সরা। তারা দাপটের সাথে সরকারের লক্ষলক্ষ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ভারতে থেকে প্রতিদিন অবৈধভাবে কয়লা ও পাথরসহ বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য পাচাঁর করছে।’

বিজিবি অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় অবৈধ মালামাল উদ্ধার করছে কিন্তু সোর্সদেরকে কখনোই গ্রেফতার করেনা। যার কারণে চোরাচালানের মূল নায়ক সোর্স পরিচয়ধারীরা পুলিশ, বিজিবি ও সাংবাদিকদের নাম ভাংগিয়ে ওপেন চাঁদাবাজি করছে।

তাই এব্যাপারে র‌্যাব ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগীতা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সীমান্ত এলাকাবাসী।

তাহিরপুর সীমান্তে লকডাউন


এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে- আজ শনিবার (৩ জুলাই) সকালে জেলার তাহিরপুর উপজেলার লাউড়গড় সীমান্তে যাদুকাটা নদী দিয়ে সোর্স আমিনুল ইসলাম, নুরু মিয়া, জজ মিয়া, শহিদ মিয়া, রফিক মিয়া, জসিম মিয়াগং প্রায় শতাধিক লোককে নৌকা দিয়ে ভারতে পাঠায় কয়লা, পাথর, কাঠ, বাঁশ, মদ, গাঁজা ও ইয়াবা আনার জন্য।

এখবর পেয়ে বিজিবি নদীতে অভিযান চালিয়ে ৩লক্ষ ৫০হাজার টাকা মূল্যের ৫০ ঘনফুট ভারতীয় পাথরসহ ১১টি নৌকা আটক করে। চাঁনপুর সীমান্তের বারেকটিলা, রাজাই, নয়াছড়া ও গারোছড়া এলাকা দিয়ে সোর্স রফিকুল ইসলাম, আবু বক্কর, আলমগীরগং ভারত থেকে কয়লা, বিড়ি ও মদ পাঁচার করে।

বিজিবি অভিযান চালিয়ে বারেকটিলা পর্যটনস্পট থেকে ২২হাজার ৫শ টাকা মূল্যের ১৫ বোতল মদ পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। পাশর্^বর্তী টেকেরঘাট সীমান্তের চুনাপাথর খনি প্রকল্প, বড়ছড়া, বুরুঙ্গাছড়া ও রজনীলাইন এলাকা দিয়ে সোর্স ইসাক মিয়া ও কামাল মিয়া ভারত থেকে বিপুল পরিমান মদ ও কয়লা পাঁচার করে।

খবর পেয়ে বিজিবি অভিযান চালিয়ে বরুঙ্গাছড়া এলাকায় থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৯হাজার ১শ টাকা মূল্যের ৭শ কেজি অবৈধ কয়লা উদ্ধার করে।

কিন্তু সোর্সদেরকে গ্রেফতার করেনি বিজিবি। এছাড়া চারাগাঁও সীমান্তের এলসি পয়েন্ট, বাঁশতলা তেতুলগাছ ও ১১৯৬পিলার সংলগ্ন এলাকা দিয়ে সোর্স শফিকুল ইসলাম ভৈরব, রমজান মিয়া, বাবুল মিয়া, খোকন মিয়া, জসিম মিয়া ও শহিদুল্লাহগং, পাশর্^বর্তী বীরেন্দ্রনগর সীমান্তের রঙ্গাছড়া ও জঙ্গলবাড়ি এলাকা দিয়ে সোর্স পরিচয়ধারী লেংড়া জামালগং সহ বালিয়াঘাট সীমান্তের লালঘাট ও লাকমা এলাকা দিয়ে সোর্স ইয়াবা কালাম ও জিয়াউর রহমান জিয়া ভারত থেকে কয়লা, বাঁশ, বিড়ি, মদ, গাঁজা, ইয়াবা পাচাঁর করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়নি বলে জানা গেছে। ‘

এব্যাপারে লালাঘাট গ্রামের চোরাচালানী খোকন মিয়া বলেন- ভারত থেকে পাচাঁরকৃত ৫-৬ মেঃটন চোরাই কয়লা নেওয়া জন্য সোর্স শফিকুল ইসলাম ভৈরব, রমজান মিয়া ও ইয়াবা কালামকে পুলিশ, বিজিবি ও সাংবাদিকদের নামে ৪ থেকে ৬হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়। চারাগাঁও বিজিবি ক্যাম্পের সোর্স পরিচয়ধারী শফিকুল ইসলাম ভৈরব বলেন- আমাদের বিরুদ্ধে লেখালেখি করলে কিছুই হবেনা। কারণ আমরা যা করি সবাইকে ম্যানেজ করেই করি।’


এব্যাপারে সুনামগঞ্জ ২৮ ব্যাটালিয়নের বিজিবি অধিনায়ক তসলিম এহাসন সাংবাদিকদের বলেন- জব্দকৃত অবৈধ মালামাল শুল্ক কার্যালয়ে জমা করার প্রক্রিয়া চলছে। চোরাচালান প্রতিরোধের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *