দেশ বাণী ডেস্ক

প্রসূতি ছিল হার্টফেল আর চিকিৎসকরা বললেন কোভিড সাসপেক্টেড !

Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এম মনির চৌধুরী রানা,চট্টগ্রাম।। “প্রসূতি ছিল হার্টফেল আর চিকিৎসকরা বললেন কোভিড সাসপেক্টেড”। চট্টগ্রাম নগরীর বেসরকারি ন্যাশনাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় রাহাত রুমানা লিমা (৩০) নামের এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গত (০১ জুলাই) বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসার অভাবে তিনি মারা যান বলে অভিযোগ করেন নিহতের স্বজনরা।

স্বজনদের দাবি, প্রসূতির হৃদযন্ত্র অকেজো হয়ে গেলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোভিড-১৯ সন্দেহে চিকিৎসা না দিয়ে লিমাবে ভেন্টিলেটরে রেখে দেয়।

জানা গেছে, গত ২৭ জুন নগরীর মেহেদীবাগ ন্যাশনাল হাসপাতালে রাহাত রুমান লিমার সিজারের মাধ্যমে একটি সন্তানের জন্ম হয়। অপারেশন করেন ন্যাশনাল হাসপাতালের গাইনী চিকিৎসক ডা. কামরুন্নেসা রুনা।

পরে রিলিজ করে বাসায় নিয়ে গেলে রোগীর রক্তচাপ কমে যায় এবং কাশির সঙ্গে রক্ত বমি শুরু হয়। তাই বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে আবারও তাকে ন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এসময় প্রসূতির রক্তচাপ শূন্য হয়ে গেলে ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোভিড-১৯ সন্দেহে চিকিৎসা না দিয়ে ফেলে রাখে।’

প্রসূতি ছিল হার্টফেল
প্রসূতি ছিল হার্টফেল আর চিকিৎসকরা বললেন কোভিড সাসপেক্টেড !

সারাদিন হাসপাতালে পড়ে থাকার পর রাত আনুমানিক ৯ টার দিকে লিমার মৃত্যু হয়।স্বজনদের অভিযোগ, রোগীকে ফলোআপ চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক কামরুন্নেসাকে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তিনি আসেননি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সারাদিন চিকিৎসা না দিয়ে লিমাকে ফেলে রাখে। এতে তার মৃত্যু হয়। পরে অনেকটা জোর করে স্বজনদের কাছে মরদেহ বুঝিয়ে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এসময় স্বজনদের হাতে একটি নোট ধরিয়ে দেয়া হয়। এতে লেখা ছিল রোগীর বিষয়ে কাউন্সিলর মো. গিয়াস উদ্দিন ও ডা. কামরুন্নেসা রুনার উপস্থিতিতে বৈঠক করে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

চিকিৎসা অবহেলায় লিমা নামক ওই প্রসূতির মৃত্যুর বিষয়টি শুনলে ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেয়া নোটের বিষয়টি অবগত নয় বলে জানান স্থানীয় কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন। তিনি বলেন, চিকিৎসা না দেয়ায় প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি রাজনৈতিক ছোট ভাইদের কাছে শুনেছি।

তারা আমার দলীয় রাজনীতি করে। কিন্তু আমি বসে সিদ্ধান্ত নেবো এ ধরনের কোনো বিষয় আমি জানি না। মৃতের স্বজনদের কয়েকজনের সাথে কথা হলে ও হাসপাতাল কতৃর্পক্ষের সাথে এখনো আমার কোনো কথা হয়নি বলে যোগ করেন তিনি।

তবে স্বজনদের অভিযোগ অস্বীকার করে ন্যাশনাল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, সিজারে বাচ্চা হওয়ার পর সুস্থ হয়ে রোগী বাসায় ফিরে গিয়েছিলেন। ওইদিন রোগীকে আবারও খুব সিরিয়াস অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিলো।

আমরা আইসিইউতে রেখে রোগীকে সব ধরনের চিকিৎসা দিয়েছি। তারপর ও মৃতের স্বজনরা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ করছে কেন আমরা জানি না।

সমঝোতা নোটের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা সমঝোতার প্রস্তাব দিইনি। মৃতের ভাই ছাত্রলীগ করেন। তিনি ঝামেলা করছিলেন। তিনিই বলেছেন, কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন ওনাদের লোক। ওনার মাধ্যমে তারা বসার প্রস্তাব দেয়। আমরাও কউন্সিলর গিয়াস উদ্দিনকে নিয়ে ডা. কামরুন্নেসার রুনার উপস্থিতিতে বসার প্রস্তাব মেনে নিয়েছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *