দেশ বাণী ডেস্ক

রংপুরে সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়লেও রোগীদের সেবার দরজা বন্ধ | Deshbani

Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

দেশবানী অনলাইন ডেস্ক।। “রংপুরে সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়লেও রোগীদের সেবার দরজা বন্ধ”।রংপুর বিভাগের আট জেলার মধ্যে মাত্র দুই জেলায় আই’সিইউ বেড রয়েছে মাত্র ২৬টি। এর মধ্যে রংপুরে ১০টি ও দিনা’জপুরে ১৬টি। বর্তমানে যা পূর্ণ রয়েছে।’

বিভাগের অন্য কোন জেলায় আইসিইউ বেড নেই। দিনাজপুরে এসডিইউ বেড রয়েছে মাত্র ১১টি, তাও খালি নেই। বিভাগের ১২টি হাস’পাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রায় ৭০০ করোনা রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। অথচ প্রতি’দিনই করোনা আক্রান্ত রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে।-

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প পদ্ধতিতে আসন সংখ্যা বাড়ানো না গেলে বিভাগের করোনা রোগীদের চিকিৎসায় মহাসংকট দেখা দেবে।”

স্বাস্থ্য বিভাগের একটি সূত্র জানায়, প্রতিটি জেলা সদরে ১০টি করে আইসিইউ বেডের চাহিদা পাঠানো হলেও কয়েক মাস থেকে ওই ফাইল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের লাল ফিতায় বন্দি অবস্থায় রয়েছে।’

ফলে রংপুর-দিনাজ’পুর বাদে অন্য জেলার গুরুতর করোনা রোগীকে হাই ফ্লো নজেল ক্যানোলা দিয়ে চিকিৎসা করা হচ্ছে। আইসিইউ বেড না থাকার কারণে অনেক রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে না।

করোনা ডেডি’কেটেড

হাসপাতালে রোগীর ধারণ ক্ষমতা না থাকায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চতুর্থ তলায় ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড’কে করোনা ইউনিট হিসেবে চালু করা হচ্ছে।

সেখানে পর্যায়ক্রমে ১০০ জনকে চিকিৎসা দেওয়া যাবে। তবে ওই ইউনিটে আইসিইউ বেডের কোন সুবিধা নেই।’

এদিকে রংপুর বিভাগে করোনায় মৃত্যুর রেকর্ড করেছে। গত ২৪ ঘন্টায় বিভাগে ১৪ জন মারা গেছেন। এটাই রংপুর বিভাগে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ মৃত্যু। সেই সাথে বেড়েছে সংক্রমণের হারও। সংক্রমণের হার ২১ দশমিক ৫৬।,

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিস সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় দুই হাজার ৪৬৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৫৩২ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের। এর মধ্যে রংপুরে একজন, পঞ্চগড়ে একজন, লালমনিরহাটে একজন, ঠাকুরগাঁওয়ে চারজন, দিনাজপুরে পাঁচজন ও গাইবান্ধায় দুইজন রয়েছে। বিভাগে এ পর্যন্ত জন মারা গেছেন ৫৫১ ।

মোট এক লাখ ৬০ হাজার ৬০১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৭ হাজার ৬৯২ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে।,

শনিবার পর্যন্ত রংপুর করোনা ডেডিকেডেট হাসপাতালের আইসিইউ’র কোন বেড খালি নেই। কর্তৃপক্ষ হাসপাতালের দেওয়ালে ‘আইসিইউ-তে কোন বেড ফাঁকা নেই’ বলে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়েছেন।,

এছাড়া সাধারণ ওয়ার্ডও

রোগীতে পূর্ণ। মোট ১০০ শয্যার এই হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ডে গতকাল পর্যন্ত চিকিৎসা নিচ্ছিলেন ৮৫ জন। ফলে করোনা রোগীদের জন্য এসব বেড খালি পাওয়া দুস্কর হয়ে পড়েছে।

হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ডা. নুরুন্নবী জানান, বিভাগের করোনা রোগীদের চিকিৎসায় একমাত্র ভরসা এই ডেডিকেডেট হাসপাতাল। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে তিল পরিমান জায়গা নেই এখানে।,

রংপুরে সংক্রমণ ও
রংপুরে সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়লেও রোগীদের সেবার দরজা বন্ধ!

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিভাগের আট জেলায় করোনা রোগী’দের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য ১২টি হাসপাতালে প্রায় ৭০০ বেডের ব্যবস্থা রয়েছে।

এর মধ্যে রংপুরের করোনা ডেডিকেডেট হাস’পাতালে রয়েছে ১০০টি শয্যা। এখানে আইসিইউ বেড রয়েছে মাত্র ১০টি। দিনাজপুরের এম আব্দুর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যায় করোনার চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলেও সেখানে আই’সিইউ রয়েছে ১৬টি।,

এছাড়া রংপুর বক্ষ্য’ব্যাধি হাসপাতালে ২০ শয্যা, হারাগাছ ৩১ শয্যা হাসপাতাল, দিনাজপুরের বিরলে ২৫ শয্যা, কাহারোলে ল্যাম্প হাসপাতালে ১০ শয্যা, কুড়িগ্রাম আধু’নিক সদর হাসপাতালে ৫০ শয্যা, লালমনিরহাটের নার্সিং ইন্সটিটিউশনে ১২ শয্যা, লালমনিরহাট সরকারি হাসপাতালে ৫০ শয্যা, রেলওয়ে হাসপাতালে ২০ শয্যা,

পঞ্চগড়ে চাইল্ড

ওয়েল ফেয়ারে ৫০ শয্যা, ঠাকুরগাঁও টেক’নিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে ১০০ শয্যা, গাইবান্ধা’র আনসার ট্রেনিং সেন্টারে ৮০ শয্যা ও নীলফামারী সরকারি হাসপাতালে ১০০ শয্যায় করোনার রোগী’দের চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলেও ওইসব চিকিৎসা কেন্দ্রে কোন আইসিইউ নেই।

ফলে গুরুতর অসুস্থ রোগী আইসিইউ’র সেবা না পেয়েই মৃত্যুবরণ করার আশঙ্কা রয়েছে।,

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. রেজাউল করিম জানান, চতুর্থ তলায় একটি ওয়ার্ড খালি করে ৪০টি বেড স্থাপন করা হয়েছে। দু’একদিনের মধ্যে এখানে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে। ধীরে ধীরে এই ওয়ার্ডের সক্ষমতা বাড়ানো হবে। তবে এখানে কোন আইসিইউ বেড নেই বলে তিনি জানান।,

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. আবু মো. জাকিরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, রংপুরে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলছে। গত ২৪ ঘন্টায় ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা রংপুরে এটাই সর্বোচ্চ। পর্যাপ্ত বেড না থাকায় চিকিৎসা দিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। ‘

রংপুর-দিনাজপুরে আইসিইউ বেড খালি নেই উল্লেখ করে তিনি জানান, গুরুতর অসুস্থ রোগীকে হাই ফ্লো নজেল ক্যানোলা দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জেলা সদরের হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ বেডের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।-দেশবানী নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *