দেশ বাণী ডেস্ক বিভাগীয় খবর রংপুর

ডিমলায় লকডাউনে চরম দুর্ভোগে পরিবহন শ্রমিকরা

Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


নিজস্ব প্রতিবেদক ।। “ডিমলায় লকডাউনে চরম  দুর্ভোগে পরিবহন শ্রমিকরা”। গত ৭ দিন লকডাউন শেষ হতে না হতেই আবারও ৭দিন লকডাউন বর্ধিত করা হয়েছে।লকডাউনে দেশের সব গণপরিবহন বন্ধ থাকায় অসহায় অলস সময় পার করছেন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পরিবহন শ্রমিকরাও।,


লকডাউনে ডিমলার অভ্যন্তরীণ সব রুটের সকল পরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাস, মিনিবাস,  মাইক্রোবাস  শ্রমিকদের দিন কাটছে অর্ধাহারে খেয়ে না খেয়ে। সহায়তা মিলছেনা কোন উৎস থেকে। 


কঠোর বিধি নিষেধের জন্য গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বাসচালক,হেলপার,সুপার ভাইজারসহ সংশ্লিষ্ট পেশায় জড়িতরা পরিবার- পরিজন নিয়ে মানবেতর জিবন যাপন করছেন। কর্মহীন এ শ্রমিকদের কপালে জোটেনি কোন প্রকার সাহায্য- সহযোগিতা।’


এমন পরিস্থিতিতে তারা সরকার থেকে যেমন সাহায্য সহযোগিতা পাচ্ছেন না, তেমনি মালিক পক্ষ ও শ্রমিক ফেডারেশন থেকেও কোনো সহায়তা পাচ্ছেন না। 
তাই সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত আর্থিক সহায়তা প্রদানের দাবি কর্মহীন গণপরিহন শ্রমিকদের। 

ডিমলায় লকডাউনে চরম 
ডিমলা বাস টার্মিনাল


সরেজমিনে ডিমলা 

বাসট্যান্ডে  ঘুরে দেখা যায়,শুয়ে-বসে অলস সময় পার করছে শ্রমিকরা। চালক ও সুপার ভাইজার হেলপারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,গত বছরের লকডাউনে সাহায্যে সহযোগীতা কিছুটা দেখা গেলেও এবারের চলমান লকডাউনে এখন পর্যন্ত কেউ সাহায্যে সহযোগিতার হাত বাড়ায়নি। কেউ আমাদের খবর নেয় না,আমাদের দিন কেমন করে যাচ্ছে। 


গাড়ির চাকা ঘুরলেই ঘুরে তাদের জীবনের চাকা। প্রতিদিনের উপার্জনের টাকা দিয়েই চলত পুরো সংসার। গতবারের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই এবার আবারও এই সংকটে। ।  
শ্রমিকরা জানান, করোনার জন্য পরিবহন বন্ধ রাখা হলেও সাহায্যের ব্যবস্থা করা হয়নি পরিবহন শ্রমিকদের জন্য। অনেক দিন যাবত কর্মহীন হয়ে কষ্টে দিন যাপন করতে হচ্ছে। ঘরে পুঁজি নেই যে কাজ না করে কিছুদিন চলবে। কেউ খোঁজ নেয়নি আমাদের মতো শ্রমিকদের। 

 
মাইক্রোবাস চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক  নুর হক জানায়, অনেক দিন ধরে গাড়ী বন্ধ থাকায় আয়ের পথও বন্ধ। পরিবার পরিজন নিয়ে ধারদেনা করে খুব কষ্টে জীবন যাপন করছি।


 ডিমলা থেকে  রংপুর  আঞ্চলিক রোডে চলাচল করা বাস হেলপার সোবহান আলী জানায়,প্রায় অনেক দিন কর্মহীন থাকলেও কেউ ত্রাণ কিংবা সহায়তা দেয়নি। বাড়ীতে আমার স্ত্রী অসুস্থ থাকলেও ওষুধ কেনার   সামর্থ্য নেই । করোনায় নয় মরতে হবে না খেয়েই ।


আহসান পরিবহনের চালক ইব্রাহিম ।  চিন্তার ছাপ তার চোখেমুখে। নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সকালে বের  হয়েছি। বাসায় চাউল নাই।স্ত্রী  চাউল নিয়ে  যেতে বলেছে । কেমনে যে চাউল কিনবো এখনো জানি না।

ডিমলা উপজেলা  মটর শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতি  মাহবুব  ইসলাম  জানান,বিভিন্ন মহলে তদবির করেও এখন পর্যন্ত শ্রমিকদের জন্য কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি ।শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছে এবং কিছু শ্রমিকের তালিকাও নিয়েছে তবে এখনও পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। 


এ ব্যাপারে ডিমলা  উপজেলা  মটর শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম  এই প্রতিবেদককে  জানান,মালিক পক্ষ ও   শ্রমিক ফেডারেশনের পক্ষ হতে কোন সহায়তার ব্যবস্থা নেই। তবে প্রধান মন্ত্রী ঘোষিত শ্রমিকদের সহায়তার জন্য কিছু তালিকা দেয়া হয়েছে, পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *